৩ এপ্রিল ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

এসএসসি পর্যন্ত সব বিষয়ই শিক্ষার্থীদের পড়া প্রয়োজন

প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০
এসএসসি পর্যন্ত সব বিষয়ই শিক্ষার্থীদের পড়া প্রয়োজন
  • প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক প্রদান অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজ্ঞান শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় নবম শ্রেণী থেকেই বিষয়ভিত্তিক বিভাজন (বিজ্ঞান-কলা-বাণিজ্য) তুলে দেয়ার বিষয়ে নিজস্ব অভিমত ব্যক্ত করে বলেছেন, মাধ্যমিক পর্যন্ত এই বিভাজন না থাকাই ভাল। এসএসসির পরে গিয়ে যদি বিভক্ত হয়, সেটাই ভাল। এসএসসি পর্যন্ত সব বিষয়ই শিক্ষার্থীদের পড়া প্রয়োজন, সব সাবজেক্ট তারা পড়তে পারে। এসএসসির পরে গিয়ে যদি বিভক্তি হয় তবে সেটাই ভাল। তাহলে অন্তত তার মেধা বিকাশের একটা সুযোগ পায়। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে হবে। দেশে নিয়ন্ত্রণহীন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, একটি ভবনে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ও করা হয়েছে, এটা শুনে আমি অবাক হয়েছিলাম। ঢালাওভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করায় সেখানে লেখাপড়ার মান ঠিক থাকে কিনা, সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি এসব বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়কে জবাবদিহির আওতায় আনতে আইন করার কথাও উল্লেখ করেন।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) শাপলা হলে বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৮’ বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের সর্বোচ্চ নম্বর/সিজিপিএ প্রাপ্তদের হাতে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৮’ তুলে দেন শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে দেশের ৩৬ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭২ মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে স্বর্ণ পদক বিতরণ করা হয়। যাদের মধ্যে ৮৪ ছাত্র এবং ছাত্রী রয়েছে ৮৮। ২০১৭ সালে ১৬৩ শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণ পদক লাভ করেছিলেন।

বিষয়ভিত্তিক বিভাজন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সবই পড়ুক তারপর যেখানে সে মেধা বিকাশের সুযোগ পাবে সেটা করে নেবে। তাহলে অন্তত, তাদের (শিক্ষার্থীদের) মেধা বিকাশের একটা সুযোগ হয়। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে এজন্য শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘এখন সব সাবজেক্টই বিজ্ঞানভিত্তিক। সেটা ধীরে ধীরে চলেই এসেছে। বিজ্ঞানের বাইরে কিছু নেই। আমাদের (দেশে) ক্লাস নাইন থেকে কে কোন সাবজেক্টে যাবে সেটা ভাগ করে দেয়া হয়। আমার মনে হয়, এই ভাগটা থাকার কোন দরকারই নাই। কারণ, এসএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত সব সাবজেক্টই তারা পড়তে পারে। বিশ্বের অনেক দেশেই এমনটা নেই, কারণ, বিজ্ঞান না পড়ার ফলে অনেক বিষয়েই শিক্ষার্থীরা পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। আর আমাদের দেশে ১৯৬৩ সালে আইয়ুব খান (পাকিস্তান আমলে) সরকারের সময় এটা করা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা আমরা বলছি। এখানেও আমাদের ছেলে-মেয়েদের সেভাবে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কারণ প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্প গড়ে উঠছে এবং সেটা আরও বিকশিত হলে সেখানে আমাদের জনশক্তি লাগবেই। তিনি বলেন, আমাদের জনসংখ্যাকে আমরা যদি কারিগরি, বিজ্ঞানভিত্তিক এবং প্রযুক্তি শিক্ষার মাধ্যমে সেইভাবে দক্ষ করে যদি গড়তে পারি তাহলে আমাদের কোন সমস্যা তো কোনদিন হবেই না বরং আমরা অন্য দেশকে সাহায্য করতে পারব।

তার সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং সে লক্ষ্যে একটি সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সেক্ষেত্রে আমরা কাউকেই অবহেলা করতে চাই না। যে কারণে, আমাদের মাদ্রাসা শিক্ষার সঙ্গে অনার্স কোর্স চালু এবং প্রযুক্তি শিক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমাদের কওমি মাদ্রাসাকেও আমরা স্বীকৃতি দিয়েছি এবং দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান দিয়েছি। কারণ তাদেরও আমরা সমন্বিত শিক্ষার মধ্যে নিয়ে আসতে চাই। একই ডিসিপ্লিনে নিয়ে আসতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ইউজিসিকে শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোর ও নির্দেশ দেন। ইতোমধ্যে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস করে দিয়েছি। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মনোনয়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে জবাবদিহি, সুশাসন ও গতিশীলতা নিশ্চিত হয়েছে। এটা আগে ছিল না। যে যার মতো করে একটি বিশ্ববিদ্যালয় করে। এক বিল্ডিংয়ে দেখা যায় তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়! এক বিল্ডিংয়ে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় কী শিক্ষা দেয় আমি জানি না। আমার কাছে অবাক লাগে শুনতে।

দেশের প্রতিটি বিভাগে একটি করে সরকারী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করে সরকারপ্রধান আরও বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় একেকটা জেলা ভাগ করে দিচ্ছি, কোন জেলায় কোনটা হবে। তবে সব রাজধানী কেন্দ্রিক হবে না। শিক্ষার প্রসার আমরা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে চাই। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করে পড়াশোনাকে বহুমুখীকরণ করতে চাই, যাতে দেশে বিদেশে কর্মসংস্থানের অনেক সুযোগ হবে।

স্বর্ণপদক প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ‘সোনার ছেলে-মেয়ে’ সম্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা সোনার বাংলা গড়ার জন্য সোনার ছেলে দরকারের কথা বলেছিলেন। এখানে ছেলে মানে ছেলেমেয়ে উভয়কেই বলেছিলেন। এখানে কোন তফাত তিনি রাখেননি। কারণ আমি মেয়ে, আমাকে তিনি সবসময় বাবা বলেও ডাকতেন এবং আমাদের ভাইবোনদের সবাইকে। তাই স্বর্ণপদক বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

গবেষণার কোন বিকল্প নাই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এই ছোট ভূখ-ে বিশাল জনগোষ্ঠীর বসবাস। তাদের খাদ্য নিরাপত্তা দেয়া, ফসল উৎপাদন করার কাজগুলো কিন্তু গবেষণার মাধ্যমেই হয়েছে। আমি যখনই বাইরে যাই, বিদেশে যাই, বিদেশ থেকে আসলেও আমাকে এই কথাটাই আগে জিজ্ঞেস করে, এটা আপনারা কি করে করলেন? আসলে এটা আমরা গবেষণার মাধ্যমেই করতে পেরেছি। এটাই হলো বাস্তব। কারণ গবেষণা ছাড়া কখনও উৎকর্ষতা লাভ করা যায় না।

প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

২৭/০২/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: