২ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

দুর্ভাগ্য, খালেদা জিয়াকে জেলে রেখেই জিয়ার জন্মদিন করতে হচ্ছে

প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারী ২০২০
  • জিয়ার মাজারের অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৪তম জন্মবার্ষিকী পালন করেছে বিএনপি। এ উপলক্ষে রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে।

জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ ছাড়াও সকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের সকল কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং দৈনিক সংবাদপত্রে ক্রোড়পত্র ও পোস্টার প্রকাশ করা হয়। আর কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আলোচনা সভার আয়োজন করে। সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে এ আলোচনা সভায় জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের ওপর বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা।

এ উপলক্ষে দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে। এতে চিকিৎসাপত্র ছাড়াও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়।

জিয়ার মাজারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, দুর্ভাগ্য আমাদের, দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেই জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী পালন করতে হচ্ছে। আজকের এই দিনে আমরা শপথ নিলাম, যেকোন ত্যাগের বিনিময়ে হলেও আমরা দেশের গণতন্ত্রকে মুক্ত করব এবং কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব। এ ছাড়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুযায়ী তার ১৯ দফা বাস্তবায়ন করব।

ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য লড়াই করেছিলেন। কিন্তু আজকে তাঁর স্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে। আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিদেশে নির্বাসিত করে রাখা হয়েছে। বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, হত্যা ও গুম করা হয়েছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন কোনদিন সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না বলে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই কমিশনের অযোগ্যতার কারণেই সরস্বতী পূজার দিন ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল। জনতার রোষাণলে পড়ে এখন নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।

ইভিএমে ভোট নেয়ার বিরোধিতা করে ফখরুল বলেন, ঢাকা সিটির নির্বাচনে ইভিএমে জনগণের রায়ের প্রতিফলন হবে না। নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতার কারণেই এ ইভিএম এখন চরম সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০ তারিখের ভোট ২৯ তারিখ রাতে ডাকাতি করে নিয়েছে। এই সিটি নির্বাচনেও দলই প্রাধান্য পাচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন যে ইভিএমের মাধ্যমে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছেন সেটি দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়ার আরেকটি অপকৌশল। এতে কখনও জনগণের সঠিক রায়ের প্রতিফলন ঘটবে না। বরং এর মাধ্যমে ভোট কারচুপির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। কারণ, ইভিএম ব্যবস্থাটি হচ্ছে একটি ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা।

প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারী ২০২০

২০/০১/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: