২৫ জানুয়ারী ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৬, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

তামিম-পেরেরা ব্যাটিংয়ে ঢাকা প্লাটুনের প্রথম জয়

প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯
  • কুমিল্লার হার ২০ রানে

মিথুন আশরাফ ॥ এমনিতে বঙ্গবন্ধু বিপিএলে দর্শক আসছে না। শুক্রবার হওয়ায় দর্শক স্টেডিয়ামমুখী হয়েছেন। প্রথম ম্যাচটি লো স্কোরিং হওয়ায় হতাশা জড়িয়ে ধরে। কিন্তু দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সেই রানখরা দূর হয়ে যায়। টি২০ ক্রিকেটে বড় স্কোর না হলে কী আর জমে! একের পর এক ছক্কা-চারের দেখা না মিললে কী আর মজা লাগে, উত্তেজনা তৈরি হয়? ঢাকা প্লাটুনের ওপেনার তামিম ইকবাল ব্যাটিং ঝড় তুললেন। ৫৩ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৭৪ রান করা তামিমের সেই ঝড়ের সঙ্গে থিসারা পেরেরার অলরাউন্ড (৪২* রান ও ৫ উইকেট) নৈপুণ্যে ঢাকাও ১৮০ রানের বড় স্কোর গড়ে। কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ১৬০ রানের বেশি করতে পারেনি। তাতে কুমিল্লাকে ২০ রানে হারিয়ে লীগে প্রথম জয়ও তুলে নেয় ঢাকা।

তামিমের ব্যাটে বহুদিন বড় ইনিংস দেখা যায়নি। এ বছর জুনে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচটিতে ৬২ রানের ইনিংস খেলার পর হাফসেঞ্চুরিও আর করতে পারেননি। বিশ্বকাপের পর শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়েও ব্যর্থ হন। মাঝপথে নিজেকে ফিরে পেতে বিশ্রাম নেন। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্ট ম্যাচ, ত্রিদেশীয় টি২০ সিরিজ, ভারতের বিরুদ্ধে টি২০ ও টেস্ট সিরিজ খেলেননি। বিপিএলে এবার নিজের প্রথম ম্যাচেও ৫ রানের বেশি করতে পারেননি। অবশেষে বিপিএল দিয়েই, দ্বিতীয় ম্যাচেই নিজের চেনা ছন্দ খুঁজে পান। রান করার ছন্দে ফেরেন তামিম। মিরপুরে ‘তামিম ঝড়’ দেখা মেলে।

ঢাকার ইনিংস শেষ হতেই বোঝা হয়ে যায় রানের গতি কুমিল্লাও দেখাবে। শুরুতেই ভানুকা রাজাপাকশে মেহেদি হাসানের স্পিন বলে ছক্কা-চার হাঁকিয়ে তা বুঝিয়েও দেন। মাশরাফির ওভারেও ছক্কা-চার হাঁকান। কিন্তু অভিজ্ঞতার যে কী মূল্য, তা মাশরাফিও বুঝিয়ে দেন। স্লো বল দিয়ে রাজপাকশেকে (১২ বলে ২৯ রান) বোল্ড করে দেন। ওপেনার ইয়াসির আলীও (৩) বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তবে সৌম্য সরকার ও ডেভিড মালান মিলে ভালই এগিয়ে যেতে থাকেন। সৌম্যও ব্যাটিং ঝড় তোলেন। ছক্কা-চার হাঁকাতে থাকেন। মালান ধীরে ধীরে এগিয়ে যান। রানের গতিও বাড়তে থাকে। ১০ ওভারেই ৮৬ রান করে ফেলে কুমিল্লা। শুরুতে ঢাকার ১০ ওভারে ৫৯ রান ছিল। সেখানে কুমিল্লার ৮৬ রান অনেক। মনে হচ্ছিল, জিতেও যেতে পারে কুমিল্লা। কিন্তু এই সময়েই বিপত্তি ধরা দেয়।

ওয়াহাব রিয়াজের শর্ট বাউন্স বলটিতে শট নিতে গিয়ে উইকেটরক্ষক বিজয়ের হাতে ক্যাচ তুলে দেন সৌম্য (৩৫)। সৌম্য-মালানের জুটি ৫০ রানের বেশি আর যেতে পারেনি। আর এখানেই যেন পার্থক্যও হয়ে যায়। সাব্বির রহমান (৪) আসেন আর বাজে শট খেলে আউট হয়ে যান। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ঝড় তোলা দাসুন শানাকা যখন একই পথের পথিক হন, তখন ম্যাচ থেকেই ছিটকে পড়ে কুমিল্লা। সাব্বির ও শানাকাকে পরপর দুই বলে আউট করে হ্যাটট্রিকের আশা জাগান থিসারা পেরেরা। তা আর হয়নি। মালান (৪০) চেষ্টা করেন। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও (৩৭) কিছু করার তাগিদ দেখান। কিন্তু টার্গেট এত বড় যে ৯ উইকেট হারিয়ে ২০ ওভারে ১৬০ রানের বেশি করতে পারেনি কুমিল্লা। ১৯তম ওভারেই ৩ উইকেট শিকার করে পেরেরা একাই ৫ উইকেট নেন। এবার বিপিএলে প্রথম বোলার হিসেবে ৫ উইকেট শিকার করেন পেরেরা।

মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় কুমিল্লা। ঢাকা প্লাটুন ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে দলের ২৬ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে। এই চাপ সামাল দিতে হলে অফ ফর্মে থাকা ওপেনার তামিম ইকবালের ফর্মে ফেরার কোন বিকল্প পথ খোলা থাকেনি। নিজের ৪ রানে ক্যাচ আউট হওয়া থেকে বেচে ‘নতুন জীবন’ পেয়ে তামিমও জৌলুস ছড়ান। শুরু থেকে সাবধানে এগিয়ে গিয়ে ৪০ বলে হাফসেঞ্চুরিও করে ফেলেন। এর আগে ৪৩ রানে থাকার সময় আবারও ক্যাচ আউট হওয়া থেকে বাঁচেন তামিম। হাফসেঞ্চুরি হতেই আকাশের দিকে তাকিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন। প্রায় ছয় মাস পর, জুনের পর তামিমের ব্যাট থেকে যে হাফসেঞ্চুরির দেখা মেলে।

হাফসেঞ্চুরির পর তামিম যেন আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন। ছক্কা-চার হাঁকাতে থাকেন। দ্রুত রান তুলতে থাকেন। ১০ ওভারে যেখানে ৫৯ রান থাকে, সেখানে পরের ৫ ওভারেই স্কোরবোর্ডে ৫১ রান জমা হয়ে স্কোর ১১০ রানে দাঁড়িয়ে যায়। এর আগেই অবশ্য ইভান্স (২৩) সাজঘরে ফেরেন। তবে দলকে ১০১ রানে রেখে যান। তামিমের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৭৫ রানের জুটি গড়েন। এই জুটিই চাপ সামাল দেয়। বিপদ দূর করে।

শুরুতে যে চাপে পড়েছিল ঢাকা তা সামলে নেন তামিম। তামিম ঝড় তুলে মাতিয়ে দেন। ইভান্স আউটের পর শেষদিকে ব্যাট হাতে নেমে থিসারা পেরেরা এমনই টর্নেডো দেখান, দর্শক আনন্দে মাতেন। আবু হায়দার রনির করা ১৬তম ওভারেই দ্বিতীয় বল থেকে টানা এক ছক্কা ও চারটি চার হাঁকান। পাঁচ বলেই ২২ রান নিয়ে নেন পেরেরা। মুহূর্তেই দলের রানও ১৬ ওভারেই ১৩৩ হয়ে যায়। ব্যাট হাতে নেমেই ৫ বলে ২২ রান করে ফেলেন পেরেরাও। দলের রান যখন ১৪৯ হয়, তখন বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে কাভারে ক্যাচ আউট হয়ে যান তামিম (৭৪)। তবে পেরেরা থামেননি। তিনি শেষপর্যন্ত টিকে থেকে ১৭ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৪২ রান করে অপরাজিত থাকেন। শেষ ১০ ওভারে ১২১ রান করে ঢাকা। ৭ উইকেট হারিয়ে ২০ ওভারে ১৮০ রানের বড় স্কোর গড়ে। এই স্কোর অতিক্রম করা কী আর এত সহজ? কুমিল্লা অতিক্রম করতেও পারেনি। তাই হেরেছেও।

কুমিল্লা নিজেদের প্রথম ম্যাচে ১৭৩ রান করে বিপিএলের দলীয় সর্বোচ্চ রান করেছিল। এবার কুমিল্লার বিরুদ্ধেই ঢাকা তার চেয়েও ৭ রান বেশি করে এবারের বিপিএলে সবচেয়ে বড় স্কোর গড়ে। তামিম, পেরেরার জৌলুস ছড়ানো ব্যাটিংয়ে এই স্কোর গড়েই ম্যাচে জয়ের আশা তৈরি করে ফেলে ঢাকা। শেষ পর্যন্ত মাশরাফির দল ঢাকা প্লাটুন জয়ও তুলে নেয়।

স্কোর ॥ ঢাকা প্লাটুন-কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ম্যাচ-মিরপুর

টস ॥ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স (ফিল্ডিং)।

ঢাকা প্লাটুন ইনিংস ১৮০/৭; ২০ ওভার; বিজয় ০, তামিম ৭৪, মেহেদি ১২, ইভান্স ২৩, পেরেরা ৪২*, আফ্রিদি ৪, ওয়াহাব ০, মাশরাফি ৯; সৌম্য ২/৩৯, শানাকা ২/৪৮।

কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ইনিংস

রাজাপাকশে ২৯, ইয়াসির ৩, সৌম্য ৩৫, মালান ৪০, সাব্বির ৪, শানাকা ০, মাহিদুল ৩৭, রনি ০, সানজামুল ১, মুজিব ৪, আল আমিন ২; পেরেরা ৫/৩০, ওয়াহাব ২/১৬।

ফল ॥ ঢাকা প্লাটুন ২০ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা ॥ থিসারা পেরেরা (ঢাকা প্লাটুন)।

প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

১৪/১২/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: