২৭ জানুয়ারী ২০২০, ১৪ মাঘ ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

খালেদার বিরুদ্ধে মোট ৩৭ মামলা ॥ মুক্তি পেতে দুটিতে জামিন চাই

প্রকাশিত : ১১ ডিসেম্বর ২০১৯
  • কাল জিয়া এতিমখানা মামলার জামিন শুনানি ॥ আদালতের নিরাপত্তা জোরদার

বিকাশ দত্ত ॥ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি পেতে হলে দুটি দুর্নীতি মামলা থেকেই জামিন নিতে হবে। এ দুটি মামলা থেকে জামিন না পেলে তিনি মুক্তি পাবেন না। অন্যদিকে তাকে আরও ৩৫টি মামলায় মোকাবেলা করতে হবে। কাল বৃহস্পতিবার আপীল বিভাগে রয়েছে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার জামিনের শুনানির দিন। এদিন উভয়পক্ষই আইনগতভাবে মোকবেলা করবে। রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক সাফ জানিয়ে দিয়েছে আইনগতভাবে মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত। কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। শুধু জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা নয় তাকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাতেও জামিন পেতে হবে। অর্থাৎ দুটি মামলায় তিনটি জামিন পেতে হবে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুনীতি মামলায় পাঁচ বছর কারাদ-ের পর আপীলে হাইকোর্টে তা বেড়ে ১০ বছর হয়েছে। খালেদা জিয়া খালাস চেয়ে এ মামলাতেও আপীল বিভাগে জামিন আবেদন করেছেন। তবে সে আবেদন এখনও আদালতে উপস্থাপন করেননি তার আইনজীবীরা। আইনজীবীদের মামলা পরিচালনায় সমন্বয়হীনতার কারনে আপীল আবেদন উপস্থাপন করা হয়নি বলে জানা গেছে। পাশাপাশি দলীয় কোন্দলও রয়েছে। মুক্তি পেতে হলে সমস্ত মামলা থেকেই তাকে জামিন পেতে হবে। তা হলেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। আইন বিশেষজ্ঞগণ এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির দিন যাতে কোনরূপ অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নেয়া হচ্ছে সুপ্রীমকোর্টে। নিরাপত্তার পাশাপাশি বহিরাগতরা যাতে আদালতে না প্রবেশ করতে পারে সে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। আপীল বিভাগের এক নম্বর এজলাস কক্ষ ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। সুপ্রীমকোর্ট প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ইলেকট্রিশিয়ানরা মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে সিসি ক্যামেরা লাগাচ্ছেন। এজলাস কক্ষ নিয়ন্ত্রণের জন্য ৮টি সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুনীতি মামলার শুনানিতে ৫ ডিসেম্বর বিএনপি পন্থী আইনজীবীদের তুলকালাম কা-ে আপীল বিভাগের কার্যতালিকার ৭ নম্বর আইটেমের পর আর কোন মামলার কার্যক্রম চালানো যায়নি। এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যবিশিষ্ট আপীল বেঞ্চ এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যাতে ঐ ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন্যই নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

দুদকের দায়েরকৃত দুটি মামলায় ১০ ও ৭ বছরের কারাদ-ে দ-িত হয়েছেন। আপীলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের কারাদ- বেড়ে ১০ বছর এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ আদালতে ৭ বছরের কারাদ-ে দ-িত হন তিনি। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর থেকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে অবস্থিত ঢাকা সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রাখা হয়। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা ছাড়াও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার জামিনের আবেদন ফাইল করা হয়েছে। তবে সে আবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। এ দুটি মামলা ছাড়াও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরও ৩৫টি মামলা রয়েছে। বিচারিক আদালতে নাইকো, গ্যাটকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা তিনটির বিচার কাজ চলছে। এ ছাড়াও ১১টি মামলা বিচারাধী। আর হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে ২৩ মামলা। জামিনে মুক্তি পেতে হলে অবশ্যই এ দুটি মামলায় তাকে জামিন পেতে হবে। যদিও অন্য ৩৫টি মামলায় জামিনে রয়েছেন। জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলায় আপীল ও হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেই খালেদা জিয়ার মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, বৃহস্পতিবার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির দিন রয়েছে। আমরা আইনীভাবেই তা মোকাবেলা করব। গত বৃহস্পতিবারের আপীল বিভাগে বিএনপি পন্থী আইনজীবীদের তুলকালাম কা-ে বিষয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি আদালতের বিষয়। এ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে চাই না। ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারের প্রস্তুতি থাকবে। বহিরাগত বিষয়টি সুপ্রীমকোর্ট প্রশাসন দেখবে। আমি শুনেছি যাতে বহরিাগতরা প্রধান বিচারপতির এজলাসে এসে হৈচৈ না করতে পারে সে জন্য সিসি ক্যামেরা লাগানোর প্রস্তÍতি নিয়েছে। আমরা ঐ দিন খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করব। অন্যদিকে রেজিস্ট্রার জেনারেল আলী আকবর বলেছেন, আপীল বিভাগে গত বৃহস্পতিবার বহিরাগত এসেছিল কিনা তা আমার জানা নেই। নিরাপত্তার বিষয়ে যাদের দায়িত্ব আছে তারাই বিষয়টি দেখবেন। অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেছেন, নিরাপত্তার বিষয়ে আমি বলতে পারব না। তবে মামলায় আমরা প্রস্তুত। কাউকেও ছাড় দেয়া হবে না। আইনীভাবেই মোকাবেলা করব। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি পেতে হলে সমস্ত মামলাতেই জামিন পেতে হবে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা ছাড়াও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা রয়েছে। এ দুটি মামলায় তিনটি জামিন নিতে হবে। তাদের আইনজীবী এ মামলায় জামিন আবেদন করেছে। কিন্ত আদালতে তা উপস্থাপন করেনি। এদিকে ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেছেন, ম্যাডাম অন্যসব মামলায় জামিন পেয়েছেন। তাকে মুক্তি পেতে হলে জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন পেতে হবে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন পেলেই তিনি মুক্ত হবেন না। আমরা আশা করছি বৃহস্পতিবার ম্যাডাম জামিন পাবেন।

নাইকো দুর্নীতি মামলার

নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামী ?? জানুয়ারি দিন ধার্য করেছে আদালত। কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারে ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমান এই দিন ধার্য করেন।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা

বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় চার্জ শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামী ১৫ জানুয়ারি দিন ধার্র্য করেছে আদালত। কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালত-২ এর বিচারক এ এইচ এম রুহুল ইমরান এ দিন নির্ধারণ করেছেন।

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছে। কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ সৈয়দ দিলজার হোসেন এ মামলাটির বিচার কাজ চলছ্।ে ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক মোঃ গোলাম শাহরিয়ার ১৩ জনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ২০০৮ সালের ১৩ মে মামলাটি তদন্ত করে জোট সরকারের প্রভাবশালী ৯ সাবেক মন্ত্রী ও উপমন্ত্রীসহ মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের উপপরিচালক মোঃ জহিরুল হুদা অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

প্রকাশিত : ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

১১/১২/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: