১৯ জানুয়ারী ২০২০, ৬ মাঘ ১৪২৬, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

স্ট্যামফোর্ডের ছাত্রী রুম্পা হত্যার বিচার দাবিতে সিদ্ধেশ্বরীতে মিছিল

প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর ২০১৯
 স্ট্যামফোর্ডের ছাত্রী রুম্পা  হত্যার বিচার দাবিতে  সিদ্ধেশ্বরীতে মিছিল
  • ময়মনসিংহে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন

নিয়াজ আহমেদ লাবু ॥ রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী সড়কে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার (২১) মৃত্যুরহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। দু’দিনেও পুলিশ এ মৃত্যুরহস্য উৎঘাটন করতে পারেনি। তবে পুলিশ এক বখাটেকে খুঁজছে। ওই বখাটে প্রায়ই রুম্পাদের শান্তিবাগের বাসার সামনে মোটরসাইকেল নিয়ে তাকে উত্ত্যক্ত করত। পুলিশ ওই বখাটের বাড়িতে গিয়ে তালাবদ্ধ দেখতে পায়। এরপর থেকে পুলিশের সন্দেহের তীর তার দিকেই। পুলিশ তার কয়েক বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে বাসা থেকে কে একজন রুম্পাকে কৌশলে ডেকে সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডের ওই গলিতে নিয়ে যায়। তাকে বহুতল ভবনে নিয়ে ধর্ষণের পর সেখান থেকে ফেলে দিয়ে পরিকল্পিত হত্যা করে থাকতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম রুম্পা হত্যার রহস্য উৎঘাটনে মাঠে নেমেছে। রাতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

এদিকে শুক্রবার দুপুরে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রুম্পা ‘হত্যার’ বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সিদ্ধেশ্বরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাসের ফটক থেকে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আধাঘণ্টার এই কর্মসূচীতে অংশ নেয়। শিক্ষার্থীরা এ সময় তাদের ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজের সামনে যায়। সেখানে তারা মানববন্ধন করে রুম্পা হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে।

রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জনকণ্ঠকে জানান, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডের ওপর পড়ে থাকা ওই তরুণীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা। বৃহস্পতিবার রাতে তার বাবা রোকনউদ্দিন তার পরিচয় শনাক্ত করেন। তিনি হবিগঞ্জে পুলিশ ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মরত। তাদের বাড়ি ময়মনসিংহের বিজয়নগর গ্রামে। বর্তমানে রাজধানীর মালিবাগের শান্তিবাগ এলাকায় থাকতেন। ওসি জানান, বুধবার রাত পৌনে এগারোটার দিকে সিদ্ধেশ্বরীর ৬৪/৪ নম্বর বাসার নিচে রুম্পা নামে ওই ছাত্রীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। যে জায়গায় এ ঘটনা, তার আশপাশে বেশকিছু ছেলেমেয়ের হোস্টেল রয়েছে। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হত্যার আলামত সংগ্রহ করে। ঘটনাস্থলের পাশের তিনটি বাড়ির একটি চারতলা, একটি পাঁচতলা ও আরেকটি দশতলার। সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, তিনটি ভবনের কোন একটি ভবন থেকে তাকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে সে ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। ময়নাতদন্তের পর তার আলামত পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কে বা কারা জড়িত-এ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে নিহত রুম্পার মালিবাগ শান্তিবাগের বাসার সামনে রুম্পাকে উত্ত্যক্তকারী যে বখাটে প্রায়ই হানা দিত তাকে খুঁজে পায়নি পুলিশ। পুলিশ আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। অনেককে নজরদারির মধ্যে রেখেছে। নিহত রুম্পার চাচা জানান, রুম্পা স্ট্যামফোর্ড ভার্সিটির ইংরেজী স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিল। শান্তিবাগে মা-ভাইয়ের সঙ্গে থাকত। তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যার দিকে রুম্পা টিউশনি শেষ করে বাসায় এসে টাকাপয়সা, মোবাইল রেখেই বাসা থেকে বের হয়েছে। পায়ে হিল ছিল। সেটা খুলে স্লিপার পরে বের হয়। এ ঘটনায় রমনা থানার এসআই আবুল খায়ের বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যার পর রুম্পা বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন, সঙ্গে মোবাইল ফোনও নেননি।

এদিকে শুক্রবার সকাল এগারোটার দিকে সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সিদ্ধেশ্বরী শাখার শিক্ষার্থীরা এ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ভিকারুননিসা স্কুল এ্যান্ড কলেজের সামনে যান। সেখানে তারা মানববন্ধন করেন। এ সময় তারা রুম্পা হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। অন্যদিকে রুম্পা হত্যার বিচার দাবিতে উত্তাল ছিল সোশ্যাল মিডিয়াও। অনলাইন-অফলাইন সবখানেই রুম্পা হত্যার বিচার দাবিতে সোচ্চার সর্বস্তরের মানুষ।

নিহত রুম্পার পরিবারের সন্দেহ তার কয়েক বন্ধুর দিকে। তবে রুম্পার মা মাহিদা আক্তার পারুল জানান, তার বাসার কাছে মোটরসাইকেল নিয়ে এক বখাটে প্রায়ই রুম্পাকে উত্ত্যক্ত করত। ওই বখাটে এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। ঘটনার পর থেকে ওই বাসা তালাবদ্ধ। এতে সন্দেহ দানা বাঁধছে । নিহতের বাবা পুলিশ কর্মকর্তা রুকন উদ্দিন জানান, পরিকল্পিত এই হত্যাকা- ঘটতে পারে বন্ধুদের ভেতর থেকেই। পুলিশী তদন্তে এ রহস্য উদঘাটন হবে বলে আশাবাদী তিনি। রুম্পার হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

ময়মনসিংহে গ্রামের বাড়িতে মাতম

স্টাফ রিপোর্টার বাবুল হোসেন ময়মনসিংহ থেকে জানান, ঢাকার স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী রুম্পার মৃত্যুতে গ্রামের বাড়ি বিজয়নগরে চলছে মাতম। এই মৃত্যুকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না রুম্পার পরিবার ও স্বজনসহ এলাকাবাসী। শুক্রবার সকালে বিজয়নগর গ্রামের বাড়িতে নামাজে জানাজাশেষে রুম্পাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। রুম্পার মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর থেকে মা মাহিদা আক্তার পারুল অনেকটাই নির্বাক। পাগলপ্রায় পুলিশ কর্মকর্তা বাবা রুকনউদ্দিন। রুম্পা ঢাকা স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। শান্তিবাগে রুম্পা ও এক পুত্রকে নিয়ে মা পারুল থাকতেন। বাবা হবিগঞ্জের পুলিশের পরিদর্শক। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে রুম্পা বড়।

বৃহস্পতিবার রাতে ঢামেক মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে রুম্পার লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মধ্যরাতে ময়মনসিংহ সদরের বিজয়নগর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছার পর থেকে শুরু হয় স্বজনদের মাতম। শুক্রবার সকালে পরিবার ও স্বজনসহ এলাকাবাসীর এই মাতমে আশপাশের বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। সকাল দশটায় বিজয়নগর গ্রামে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। পরিবার ও স্বজনসহ এলাকাবাসী ও রুম্পার সহপাঠীরা অবিলম্বে হত্যকারীদের গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান।

প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর ২০১৯

০৭/১২/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: