১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২ পৌষ ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 

যুবলীগের সম্মেলনে ওমর ফারুকসহ বিতর্কিতরা আমন্ত্রণ পাননি

প্রকাশিত : ২২ নভেম্বর ২০১৯, ০১:৫১ পি. এম.
যুবলীগের সম্মেলনে ওমর ফারুকসহ বিতর্কিতরা আমন্ত্রণ পাননি

অনলাইন রিপোর্টার ॥ আগামীকাল শনিবার (২৩ নভেম্বর) রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুবলীগের ৭ম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।সম্মেলন উপলক্ষে যুবলীগ সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে কাউন্সিলর, ডেলিগেট ও অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সম্মেলনে কাউন্সিলর, ডেলিগেট, অতিথিসহ প্রায় ৩০ হাজার ব্যক্তি উপস্থিত থাকবে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে যুবলীগের সম্মেলনে (কংগ্রেস) অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন না সংগঠনটি থেকে অব্যাহতি পাওয়া সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী। কংগ্রেসের কাউন্সিলর, ডেলিগেট বা অতিথি কোনও পর্যায়েই তিনি আমন্ত্রণ পাচ্ছেন না। এর বাইরে সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুর রহমান মারুফ, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ও শেখ আতিয়ার রহমান দিপুসহ বিতর্কিতদেরও সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না। যুবলীগের সম্মেলন প্রস্তুতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে আলাপ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

যুবলীগের সম্মেলনে চেয়ারম্যানসহ বিতর্কিতরা থাকবেন না এটা আগে থেকেই চাউর ছিল। সর্বশেষ এসব ব্যক্তিকে কাউন্সিলর বা ডেলিগেট হিসেবে মনোনয়ন না দেওয়া কিংবা তাদের অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ পত্র ইস্যু না করায় বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস সামনে রেখে গত ২০ অক্টোবর যুবলীগের একটি প্রতিনিধি দল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। ওই প্রতিনিধি দলে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুর রহমান মারুফ, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ও শেখ আতিয়ার রহমান দিপুকে না রাখার জন্য গণভবন থেকে আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওই বৈঠকে বিতর্কিত অন্যদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হলেও ওমর ফারুককে চেয়ারম্যানের পদ অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য চয়ন ইসলামকে আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদকে সদস্যসচিব করে প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকেই পদবাণিজ্য ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অভিযুক্ত ওমর ফারুক চৌধুরী সমালোচনার মুখে পড়েন। পরে প্রভাবশালী এই যুবলীগ নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করার পাশাপাশি তার বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়। ক্যাসিনোকাণ্ডে নাম আসার পর পরই ওমর ফারুক চৌধুরী অনেকটাই লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান। বর্তমানে অনেকটা গৃহবন্দির মতো ধানমন্ডির বাসায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। গণমাধ্যমকেও এড়িয়ে চলছেন তিনি।

এদিকে চেয়ারম্যান ওমর ফারুকের বিষয়ে যুবলীগের কোনও পর্যায়ের নেতা-কর্মীর কথা বলার সুযোগ না থাকলেও ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মতবিনিময় কালে কয়েকজন নেতা প্রথমে তার বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। তার বিরুদ্ধে পদবাণিজ্যসহ নেতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়। এর আগে ১১ অক্টোবর যুবলীগ প্রেসিডিয়ামের সভায়ও ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পদবাণিজ্যসহ ক্যাসিনো, দরপত্র ও চাঁদাবাজির কমিশন পেয়ে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। ওই সভায় চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত সংগঠনের দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান আনিসকে বহিষ্কার করা হয়।

প্রকাশিত : ২২ নভেম্বর ২০১৯, ০১:৫১ পি. এম.

২২/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

জাতীয়



শীর্ষ সংবাদ: