১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়নি

প্রকাশিত : ২২ নভেম্বর ২০১৯
বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়নি
  • মালিক-শ্রমিক নেতারা কেউ দায় নিচ্ছেন না

রাজন ভট্টাচার্য ॥ নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে চালক ও শ্রমিকদের অঘোষিত ধর্মঘটের টানা তিনদিন পরও সারাদেশে বাস চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ফলে চতুর্থ দিনের মতো ঢাকাসহ সারাদেশে সড়ক পথের যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কিছু জেলায় স্বল্প পরিসরে বাস চলাচল শুরু হয়। খুলনা, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ, কুড়িগ্রাম, টাঙ্গাইলসহ অন্তত কুড়ির বেশি জেলায় বাস চলাচল বন্ধ ছিল। এসব জেলায় দূরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যায়নি। অভ্যন্তরীণ রুটেও বাস চলাচল ছিল কম।

ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিকদের ঘোষণা অনুযায়ী সকাল থেকে সারাদেশে পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও রাজধানীতে খুব বেশি বাস চলতে দেখা যায়নি। কোন কোন বাস কোম্পানি একেবারেই গাড়ি ছাড়েনি। আবার কিছু কোম্পানির বাস স্বল্প পরিসরে রাস্তায় নামাতে দেখা গেছে। এতে বুধবারের মতো বৃহস্পতিবারেও গণপরিবহন সঙ্কট দেখা দেয়। বিকল্প যানে বাড়তি ভাড়ায় চলতে হয়েছে নগরবাসীর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নয় দফা দাবি-দাওয়া ইতোমধ্যে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে কোন অসঙ্গতি থাকলে তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নতুন সড়ক আইন প্রয়োগে অহেতুক বাড়াবাড়ি হবে না। এই আইন নিয়ে শ্রমিকদের ধর্মঘট আর নেই বলেও জানান তিনি। বলেন, আইন বাস্তবায়নের কোন বিকল্প নেই।

প্রশ্ন হলো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুইজন মন্ত্রী শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া পূরণের আশ^াস দিয়েছেন। কিছু দাবি-দাওয়া ইতোমধ্যে সময় দিয়ে মেনে নেয়া হয়েছে। পরিবহন মালিকরা বলছেন, তারা ধর্মঘটের বিষয়ে কিছুই জানেন না। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী উভয়ই বলেছেন, গাড়ি না চালানোর বিষয়ে তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশনা নেই। তারা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তাহলে বিভিন্ন জেলায় বাস বন্ধ কেন। চারদিনেও সারাদেশে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। নেপথ্যে কারা কলকাঠি নাড়ছেন? এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের ইচ্ছাতেই কোথাও বাস চলছে, কোথাও চলছে না।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেছেন, পরিবহন ধর্মঘট, বাস চলা না চলা সব বিষয়ে নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন মালিক ও শ্রমিক নেতারা। দুই সংগঠনের প্রথম সারির নেতারা নিজেদের আড়ালে রাখতে এবার কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন। নইলে গত চারদিনে কোন জেলা সংগঠনের শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা কেন নেয়া হয়নি। তিনি বলেন, মালিক ও শ্রমিক নেতাদের ইশারা ছাড়া বাস চলাচল বন্ধ থাকতে পারে না।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ও চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমি মনে করি নতুন সড়ক পরিবহন আইনটি যদি কোন মহলের চাপের মুখে ব্যাহত হয় এবং সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হয় তাহলে আমরা যে দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি তা হয়ত আর বাস্তবায়ন হবে না। পূর্বে যা ছিল অর্থাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল আর অসহায় পরিবারের কান্না চলতেই থাকবে। তাই আমি মনে করি, এই আইনের সঠিক প্রয়োগে ও বাস্তবায়নে যদি হেরে যাই তাহলে হেরে যাবে বাংলাদেশ।

ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতা রুস্তম আলী বলেন, বুধবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দাবি-দাওয়া পূরণে যে আশ^াস পেয়েছি তাতে আমরা সন্তুষ্ট। উভয় পক্ষের মধ্যে সফল আলোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈঠকের পর আমরা অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছি। রাত থেকেই সারাদেশে পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

একই ইস্যুতে পণ্যবাহী পরিবহন শ্রমিকরা যদি সন্তুষ্ট হয় তাহলে বাস শ্রমিকরা কেন নয় এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। আমাদের নয় দফা দাবি-দাওয়া যদি পূরণ হয় এর প্রত্যেকটি সুফল পাবেন মোটরযান শ্রমিকদের সবাই। আইনে পরিবহন শ্রমিকদের কোন বিভাজন নেই। তবে বাস শ্রমিকরা কেন পুরোপুরিভাবে মাঠে নামছেন না তা বলার এখতিয়ার আমার নেই। কারণ আমাদের সঙ্গে বাস শ্রমিকরা যুক্ত নয়। এ বিষয়ে যদি শ্রমিক ফেডারেশন বা বাস মালিক সমিতির হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার আছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গাবতলী ও সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাস ছাড়লেও সংখ্যায় ছিল কম। মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে অর্ধেক বাসও ছাড়েনি। সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, কাল রাত থেকেই বাস চলাচল শুরু হয়েছে। শতভাগ না হলেও পূর্বাঞ্চলের নব্বই শতাংশের বেশি গাড়ি ছেড়ে গেছে বলে দাবি এই নেতার। তবে সায়েদাবাদে অধিকাংশ বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। কাউন্টারগুলোতে যাত্রীর সংখ্যাও ছিল কম।

এনা পরিবহনের কর্মী রাসেল বলেন, গত কালের তুলনায় আজ বেশি গাড়ি চললেও সব চলছে না। হিমাচল পরিবহনের কাউন্টার কর্মী সুমন বলেন, গতকাল কোন গাড়ি চলাচল করেনি। আজ কিছু গাড়ি চলছে, তাও খুব কম। ইউনিক পরিবহনের কাউন্টারের কর্মী রিপন বলেন, সিলেট ও চট্টগ্রামে তাদের গাড়ি যাচ্ছে। অন্য রুটের গাড়ি ছাড়ার কোন ‘নির্দেশনা’ তারা পাননি। চালকদের অনেকে বাড়ি চলে যাওয়ায় মহাখালী থেকে এখনও সব বাস চলাচল শুরু হয়নি বলে জানান মহাখালী আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক।

তিনি বলেন, বাস শ্রমিকরা কোন আন্দোলনে নেই। কিন্তু তারা বাড়ি চলে গিয়েছিল। ফলে সব গাড়ি চলছে না। চলছে পঞ্চাশ শতাংশের কম। গাবতলী আন্তঃজেলা বাস-ট্রাক মালিক সমিতির সদস্য মোঃ সালাউদ্দিন বলেন, গাবতলী টার্মিনাল থেকে বাস সেভাবে এখনও ছাড়তে পারছি না। অনেক যাত্রী এসে বসে আছেন, এটা সত্যি। দূরপাল্লার রুটে আমরা যেখানে ১০টা গাড়ি ছাড়তাম, সেখানে ছাড়ছি ২টা গাড়ি।

তিনি জানান, সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে খুলনার রুটে। খুলনার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা এখনও গাড়ি ছাড়তে চাইছেন না। দূরপাল্লার রুটের সোহাগ পরিবহনের কাউন্টার ব্যবস্থাপকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সোহাগের যে গাড়িগুলো ছেড়ে গিয়েছিল খুলনার দিকে, সেগুলো ফিরছে না। শ্রমিকরা সে গাড়িগুলো আসতে দিচ্ছে না। তাহলে ঢাকায় গাড়ি পাব কই? তাই এই সঙ্কট। একই কথা জানাল, শ্যামলী ও এস আলম পরিবহনের লোকজন।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, এখন কম কম করে বাস ছাড়ছে। তবে টার্মিনালে অনেক যাত্রী। বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলার পরিবহন শ্রমিকরা এখনও কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছেন। যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, মাগুরা, নড়াইল, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার পরিবহন শ্রমিকরা এখনও স্বেচ্ছায় কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান খুলনা বিভাগীয় শ্রমিক ফেডারশনের যুগ্ম সম্পাদক ও বাংলাদেশ পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোর্তজা হোসেন। এর বাইরেও শেরপুর, পিরোজপুর, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ী, নওগাঁ, বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পুরোদমে বাস চলাচল শুরু হয়নি।

জানা গেছে, যশোর জেলা থেকে ১৮ রুটে বাস চলাচল করে। বৃৃহস্পতিবার সকাল থেকে কোন রুটের বাস ছাড়েনি। খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান বিল্লব বলেন, আমরা গত তিনদিন ধরে চেষ্টা করেছি। কিন্তু শ্রমিকরা আমাদের কথা শুনছেন না। তারা আইন সংশোধন না হলে গাড়ি চালাতে রাজি নন। ঢাকায় আলোচনা হচ্ছে, কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত হলে তারপর গাড়ি চলাচল শুরু হবে।

সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ নয় দফা দাবিতে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচী ঘোষণা করে মঙ্গলবার। বুধবার সকাল থেকে কর্মসূচী শুরু হওয়ার পর ট্রাকের সঙ্গে সারাদেশে বাস চলাচলও কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বুধবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল পরিবহন নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দিলে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ কর্মসূচী প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। মূলত রবিবার থেকেই বিভিন্ন জেলায় বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আইন না মানা আমাদের সংস্কৃতি হয়ে গেছে। কেউ আইন মানতে চায় না। যদি সবাই আইন মেনে চলে, তবে কোন সমস্যা থাকে না। শুধু ট্রাফিক আইন নয়, সব পর্যায়ে সবাই আইন মেনে চললে অপরাধ অনেক কমবে। সব পর্যায়ে আইন মেনে চলার সংস্কৃতি চালু হোক, এটাই আমার চাওয়া।

মন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে যারা বাস-ট্রাক চালায়, তাদের দীর্ঘক্ষণ গাড়ি চালাতে হয়। তাই তাদের নির্দিষ্ট সময় পর বিশ্রামের প্রয়োজন। একটা চালক আট ঘণ্টা গাড়ি চালানোর পর তাকে বাধ্যতামূলক বিশ্রাম নিতে হবে। মহাসড়কে বিভিন্ন জায়গায় চালকদের বিশ্রামের জন্য বিশ্রামাগার তৈরির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।

সড়কে আইন প্রয়োগ করতে গেলে পুলিশ কর্মকর্তাদের অনেকেই বড় হিসেবে পরিচয় দেয় এবং বদলির হুমকি দেয় উল্লেখ করে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী এই অনুষ্ঠানে বলেন, ‘পুলিশের কেউ যদি সড়কে আইন প্রয়োগ করে তবে এর জন্য কোন কর্মকর্তা বদলি হবেন না। আমি এটা আশ্বস্ত করছি। তবে সবার ব্যবহার বিনয়ী হতে হবে।

তিনি বলেন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে প্রধানত ইঞ্জিনিয়ারিং, এডুকেশন, এনফোর্সমেন্ট এই ট্রিপলই বিবেচনায় রাখা হয়। এসব নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ছাড়াও কয়েকটি সংস্থা কাজ করে। যেমন সিটি কর্পোরেশন, রাজউক, বিআরটিএ। এর মধ্যে পুলিশ শুধু এনফোর্সমেন্ট দেখে। কিন্তু সড়কে কোন সমস্যা হলেই সবাই ট্রাফিক পুলিশকে দোষারোপ করেন। একটা সিটির রাস্তা থাকা প্রয়োজন ২৫ শতাংশ। কিন্তু আমাদের আছে মাত্র ৮ শতাংশ। এটি আদর্শ একটি সিটির তিন ভাগের এক ভাগেরও কম। তবুও এটুকু সড়ক ব্যবহার করা হয় না।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, একটি মহল নিরীহ পরিবহন শ্রমিকদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। পেঁয়াজ-লবণের পর গুজব পরিবহন সেক্টরে ভর করেছে। দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে তারা।

তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীও বলেছেন, নতুন আইনে কোন সংশোধনী থাকলে তা দেখা হবে। আগামী জুন মাস পর্যন্ত যার যে লাইসেন্স আছে তাই দিয়ে যানবাহন চালাতে পারবেন। তবে অবৈধ কোন লাইসেন্স পেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

এদিকে বৃহস্পতিবার সারাদেশে সকল জেলার শ্রমিক নেতাদের ডেকেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। সড়ক পরিবহন আইনে কেন্দ্র করে দুই দিনব্যাপী চলছে ফেডারেশনের বৈঠক। বৈঠকে উত্থাপিত যৌক্তিক দাবি-দাওয়া পূরণে পাঠানো হবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী শনিবার থেকে সারাদেশে পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে।

২০১২ সাল থেকে নতুন করে সড়ক পরিবহন আইনের প্রক্রিয়া শুরু করে সরকার। গত বছর আইনটি সংসদে পাস হয়। এক বছর পর এক নবেম্বর থেকে তা কার্যকর করার ঘোষণা আসে। কিন্তু প্রস্তুতি ছাড়াই আইন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মালিক-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তি ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় দু’দফায় ১৫ দিন সময় বাড়ানো হয় আইন প্রয়োগে। গত রবিবার থেকে আইন কার্যকর করার ঘোষণা দেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। এরপর থেকেই বাস চলাচল বন্ধ হতে থাকে। যা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারাদেশে স্বাভাবিক হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরাও। তাছাড়া কোন রকম প্রস্তুতি ছাড়াই সড়ক নিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর আইন কার্যকর করা নিয়েও আছে বিস্তর সমালোচনা। যার প্রেক্ষিতে পুরোপুরিভাবে আইনের সব ধারা প্রয়োগ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অনেক বিষয়ে মালিক-শ্রমিকদের সময় দেয়া হচ্ছে। সহনীয় পর্যায়ে আইন প্রয়োগে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে।

প্রকাশিত : ২২ নভেম্বর ২০১৯

২২/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: