১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২ পৌষ ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 

নগরবাসীর সমস্যা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ

প্রকাশিত : ২০ নভেম্বর ২০১৯
  • দক্ষিণ সিটিতে কাজ শুরু করেছেন কমিউনিটি এ্যাম্বাসেডররা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কম সময়ে বেশি নাগরিক সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে ওয়ার্ড পর্যায়ে নাগরিকদের আরও সংশ্লিষ্ট করতে ৭৫টি ওয়ার্ডে প্রায় ১৮০০ কমিউনিটি এ্যাম্বাসেডর নিয়োগ করে কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। এর মাধ্যমে দক্ষিণ সিটি তার সেবামূলক কাজে অধিক সংখ্যক নাগরিককে সম্পৃক্ত করছে। স্বেচ্ছাসেবী এসব এ্যাম্বাসেডর প্রতিটি এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক বাতি, মশক নিয়ন্ত্রণ, সড়ক মেরামতসহ নানা সমস্যার জরুরী সমাধান ও সেবা কার্যক্রম মনিটরিং করবেন এবং সিটি কর্পোরেশনের কাছে সমস্যা সমাধানে সুপারিশ করবেন। সিটি কর্পোরেশনের ৫টি আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (আনিক) তাৎক্ষণিকভাবেই এসব সমস্যা সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠিয়ে দেবেন। এসব কাজে কেউ অবহেলা করলে বা সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে শাস্তিও প্রদান করা হবে বলে জানা গেছে। এর মাধ্যমে নাগরিক সেবার মান বর্তমানের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পাবে বলেছেন সংস্থাটির মেয়র সাঈদ খোকন। মঙ্গলবার ডিএসসিসির নগর ভবন প্রাঙ্গণে নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নিয়োজিতদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ডিএসসিসির প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে আসা কমিউনিটি এ্যাম্বাসেডর, সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোঃ ইমদাদুল হক, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক এয়ার কমোডর জাহিদ হোসেন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডাঃ শরীফ আহমেদ ও প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন ।

সাঈদ খোকন বলেন, এ্যাম্বাসেডর ওয়ার্ড পর্যায়ে নাগরিক সেবা প্রাপ্তি সহজ এবং নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন। তিনি বলেন, কোনক্রমেই একজন মেয়রের পক্ষে নগরীকে শতভাগ সুন্দর রাখা সম্ভব নয়। এজন্য তিনি প্রতিটি নাগরিককে মেয়রের ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। মেয়র বলেন, আগেই আপনাদের বলেছি এখনও আবার বলছি যে, নগরীর উন্নয়নের জন্য মেয়র আর নাগরিক যৌথভাবে কাজ করতে হবে। এ শহর আপনার তাই শহরটি সুন্দর ও গতিশীল রাখতে আপনাকেই সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে। নগরীর সকল সমস্যার তথ্য সংগ্রহ করে তার কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের জন্য এখন থেকে ডিএসসিসির আওতায় ৭৫টি ওয়ার্ডে প্রায় ১৮০০ কমিউনিটি এ্যাম্বাসেডর টিমের সদস্য হিসেবে কাজ করবেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নাগরিক সমস্যা খুঁজে বের করে সমাধান করতে প্রতিটি ওয়ার্ডকে চার বা পাঁচটি ইউনিটে ভাগ করা হয়েছে। প্রতি ইউনিটে ৭ জন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করবেন। রোস্টার অনুযায়ী স্বেচ্ছাসেবীরা তাদের আওতাধীন এলাকার রাস্তা, ড্রেন, সড়ক বাতিসহ অন্যান্য সেবা কার্যক্রম ঘুরে দেখবেন। আর সে অনুযায়ী একটা রিপোর্ট, পরামর্শ ও অভিযোগ নিয়ে মেয়র ও সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত গ্রুপে তার সমাধানের জন্য সুপারিশ করা হবে। এই গ্রুপটি পরিচালনা করার জন্য সংস্থাটির ৫টি অঞ্চলের প্রধানরা সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন। যে বিষয়ে অভিযোগ আসবে সেগুলো সেই অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট বিভাগে চলে যাবে। নাগরিকরা সিটি কর্পোরেশনের ওয়েবসাইটে িি.িফংপপ.মড়া.নফ তে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্বেচ্ছাসেবীদের পরামর্শ ও রিপোর্ট পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়সমূহ হতে এসবের সমাধান দেয়া হবে। এর ব্যত্যয় হলে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এসব সমস্যার কথা তুলে ধরবেন এসব কমিউনিটি এ্যাম্বাসেডর।

স্বেচ্ছাসেবী বা কমিউনিটি এ্যাম্বাসেডর হিসেবে এসব টিমে ওয়ার্ডের দায়িত্বশীল নেতাকর্মী, অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত ছাড়াও সরকাীর বেসরকারী চাকরিজীবীরা থাকবেন। অভিযোগ, পরামর্শ ও রিপোর্ট পাঠানোর জন্য স্বেচ্ছাসেবীদের পরিচয়পত্র এবং লগ বুক দেয়া হবে পাশাপাশি যোগাযোগের স্বার্থে স্বেচ্ছাসেবীদের সবাইকে ক্লোজ গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ফলে যে কোন এলাকায় নাগরিক সেবা কার্যক্রমের ধীরগতি, অসঙ্গতি, অভিযোগ খুব সহজেই জানতে পারবে ডিএসসিসি। সেই সঙ্গে সংস্থাটি তাৎক্ষণিক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়।

প্রকাশিত : ২০ নভেম্বর ২০১৯

২০/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: