৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 

চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণের নেপথ্য জানতে কাজ করছে ৪ কমিটি

প্রকাশিত : ১৯ নভেম্বর ২০১৯
  • কেজিডিসিএলের রিপোর্ট- লাইনে কোন ত্রুটি ছিল না

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রামের জনবহুল অধ্যুষিত পাথরঘাটার ব্রিকফিল্ড রোডের বড়ুয়া ভবনে গ্যাস লাইনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের নেপথ্য ঘটনা এখনও অনুদঘাটিত। এ নিয়ে চারটি কমিটি কাজ করছে। তন্মধ্যে গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কমিটি রবিবার রাতেই তাদের রিপোর্ট পেশ করেছে। যে রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্যাস লাইনে কোন ত্রুটি মেলেনি। তদন্ত প্রতিবেদনটি দাখিল করে চার সদস্যের কমিটি। ঘটনা তদন্তে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের দুটি পৃথক তদন্ত কমিটির কাজ চলছে। কমিটির সদস্যরা অকুস্থলে গিয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও আলামত সংগ্রহ করছেন।

এদিকে, ভবন সংলগ্ন এলাকাবাসী অনেকের মতে, গ্যাস লিকেজের কারণে বড়ুয়া ভবনের নিচ তলার ফ্ল্যাটের রান্নাঘর থেকে ঘটনার সৃষ্টি। যে কোন কারণে রাস্তা সংলগ্ন ভবনটির রান্নাঘরে গ্যাস লিকেজ হয়ে বদ্ধ অবস্থায় থেকে রীতিমত গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়। ঐ ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া কাজল দেবনাথের মেয়ে অর্পিতা দেবনাথ দিয়াশলাই দিয়ে চুলা জ¦ালাতে গেলে বদ্ধ থাকা গ্যাসের ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এ বিস্ফোরণে ঐ ফ্ল্যাটের নিচ তলার কক্ষের দুটি দেয়াল উড়ে যায়। এ দেয়ালের আঘাতে ভবনের সীমানা দেয়ালও ধ্বংস হয়। শুধু তাই নয়, রাস্তার ওপারের আরও দুটি ভবনের প্রাচীরও বিধ্বস্ত হয়ে যায়। ঘটনার পর যা রীতিমত একটি ধ্বংসলীলায় পরিণত হয়ে যায়। এ ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার লোকজন বিভিন্ন ধরনের সন্দেহ করলেও রবিবার পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায়নি এ ঘটনার নেপথ্যে কী ঘটেছিল।

গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা ঘটনার পর এবং পরবর্তীতে তাদের তদন্ত রিপোর্টে সুনির্দিষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, গ্যাস লাইনে বা রাইজারে কোন লিকেজ বা ত্রুটি পাওয়া যায়নি। কেজিডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী খায়েজ আহমেদ মজুমদার বলেন, গ্যাস সরবরাহের পাইপ থেকে যে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি তা আমরা নিশ্চিত হয়েছি। ঘটনার পরই মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস) প্রকৌশলী সারোয়ার হোসেনকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে খতিয়ে দেখেছেন।

কেজিডিসিএল গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান প্রকৌশলী সারোয়ার হোসেন সোমবার জনকণ্ঠকে জানান, তারা ঘটনার দিনই অকুস্থলে গিয়ে সবকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। গ্যাসলাইন কিংবা রাইজারে কোন ত্রুটি বা লিকেজ পাওয়া যায়নি। রান্নার চুলাও অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। রান্নাঘরে ভয়াবহ অগ্নিকা-ের আলামতও মেলেনি। গ্যাসলাইন থেকে অগ্নিকা- হলে ক্ষয়ক্ষতি হতো আরও ব্যাপক।

লাইনের গ্যাসে এতবড় বিস্ফোরণের কারণ ছিল না। তিনি বলেন, যেভাবে দেয়াল উড়ে গেছে তাতে ধারণা হয় অন্য কোন কিছুর বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। তদন্ত কমিটি ভবনের নিচে সেপ্্টিক ট্যাঙ্কের ঢাকনা খোলা পেয়েছে। এই ট্যাঙ্কের অবস্থান ভবনের একটি কক্ষের নিচে। সেখানে বিস্ফোরণ ঘটেছে। তিনি বলেন, অনেক সময় সেপটিক ট্যাঙ্কে অত্যধিক গ্যাস জমে গেলে এমন বিস্ফোরণ হয়ে থাকে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের তদন্ত কমিটি এদিকটিও পরীক্ষা করে দেখতে পারে।

এদিকে, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটিও কাজ শুরু করেছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এ জেড এম শরিফ হোসেনকে প্রধান করে গঠিত এ তদন্ত কমিটি সোমবার সকালে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে। এ কমিটির অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ফায়ার সার্ভিস, সিটি কর্পোরেশন, কর্ণফুলী গ্যাস, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের প্রতিনিধি। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোঃ ইলিয়াস হোসেন।

এছাড়া পুলিশের একটি তদন্ত কমিটিও সোমবার অকুস্থল পরিদর্শন করে। নগর পুলিশের দক্ষিণ জোনের উপকমিশনার মেহেদী হাসান, বিশেষ শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার মঞ্জুর মোর্শেদ, কোতোয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার নোবেল চাকমা, কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সারোয়ার হোসেন, উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আহসান হাবিব, প্রকৌশলী আবু জাহের এবং প্রকৌশলী শফিউল আলমসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনা তদন্ত করছেন।

শিক্ষা উপমন্ত্রী আর্থিক সহায়তা

পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডে বড়ুয়া ভবনের নিচতলায় গ্যাস বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে এবং প্রত্যেক আহত ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

নিজস্ব তহবিল থেকে তিনি এ সহায়তা প্রদান করছেন বলে জানান তার ব্যক্তিগত সহকারী নাজিউর রহমান সিকদার অনিক। উপমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামে এসে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের দেখতে যাবেন। পরে সেখান থেকে পাথরঘাটার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন।

নিহতদের তিনজন কক্সবাজারের

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার থেকে জানান, চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণে নিহতদের মধ্যে তিনজন কক্সবাজার জেলার বাসিন্দা। নিহত ৭ জনের মধ্যে শনাক্ত হওয়া ৬টি লাশের মধ্যে ৩জনের বাড়ি মহেশখালী, রামু ও উখিয়ায়। তারা হচ্ছে- রামু ফতেখাঁরকুল হাইটুপী গ্রামের এ্যানি বডুয়া, উখিয়া রাজাপালং তুতুরবিলের আবদুল হামিদের পুত্র নুরুল ইসলাম ও মহেশখালীর ভ্যানচালক মোঃ সেলিম।

পাথরঘাটায় বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রাম মহানগরীর পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড সড়কের বড়ুয়া ভবনের বিস্ফোরণের ঘটনায় দুজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। অবহেলাজনিত মৃত্যু ও ক্ষতি সাধনের অভিযোগ এনে সোমবার মামলাটি দায়ের করেন নিহত রিক্সাচালক মাহমুদুল হকের স্ত্রী শাহীনা আক্তার।

সিএমপির কোতোয়ালি থানা সূত্রে জানা যায়, মামলায় দুজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম প্রকাশ করেননি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মহসিন। তিনি জানান, এ ঘটনায় একাধিক তদন্ত কমিটি এখন কাজ করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এর নেপথ্যের সম্ভাব্য সব কারণই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রকাশিত : ১৯ নভেম্বর ২০১৯

১৯/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: