১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২ পৌষ ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 

ইন্টারনেটের ইতিবাচক দিক কাজে লাগাতে হবে ॥ মোস্তাফা জব্বার

প্রকাশিত : ১৭ নভেম্বর ২০১৯
  • বাংলাদেশ ইন্টারনেট গবর্নেন্স ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

স্টাফ রিপোর্টার ॥ চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে ইন্টারনেটকে সাইড লাইনে রাখার কোন সুযোগ নেই। ইন্টারনেটের ইতিবাচক দিক আমাদের কাজে লাগাতে হবে। ইন্টারনেটের সঙ্গে আইওটি, বিগডাটা, এআই ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিং সংযুক্ত হওয়ার ফলে আগামী পাঁচ বছর পরের পৃথিবী হবে অকল্পনীয় বিস্ময়। কি যে ঘটবে আর কি ঘটবে না তা বলা মুশকিল। এজন্য তৈরি করতে হবে দক্ষ মানব সম্পদ। তাই ইন্টারনেটের বিশাল সুযোগ কাজে লাগাতে এর ব্যবহার সম্পর্কে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এ বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির প্রয়োজন রয়েছে। শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত চতুর্দশ ‘বাংলাদেশ ইন্টারনেট গবর্নেন্স ফোরামের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এ কথা বলেন।

বিআইজিএফ সভাপতি ও তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এশিয়া প্যাসিফিক নেটওয়ার্ক ইনফরমেশন সেন্টারের পলিসি এ্যান্ড কমিউনিটি বিষয়ক সিনিয়র এডভাইসর শ্রীনিবাস গাউদ চেন্দি এবং আইএসপিএবি সভাপতি আমিনুল হাকিম প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমরা চাই বা না চাই ইন্টারনেট সভ্যতা ভয়াবহ রূপে আবির্ভূত হবে। ২০০৮ সালে দেশে মাত্র আট লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করত যা বর্তমানে প্রায় ১০ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। সে সময় দেশে মোট ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করা হতো মাত্র সাড়ে সাত জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড)। দেশের প্রায় ৪ হাজারেরও বেশি ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এসওএফ তহবিলের মাধ্যমে দেশের ৪০টি দ্বীপ, চরাঞ্চলসহ দূর্গম এলাকায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও অধুনালুপ্ত ছিটমহলসহ ৭৭২টি দুর্গম এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ দেয়ার কাজ চলছে। ২০২১ সালে বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রথম স্তর অতিক্রম করবে। কিন্তু এটাই শেষ না বাংলাদেশ দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্তর অতিক্রম করার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ফাইভ জি নেটওয়ার্ক তৈরি করার জন্য কাজ শুরু করা হয়েছে। আমরা দ্বিতীয় সাবমেরিন ও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণেরও কাজ শুরু করেছি। বর্তমানে দেশে এক হাজার তিন শ’ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হচ্ছে। আগামী বছরে এর পরিমাণ দুই হাজার এক শ’ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথের প্রয়োজন হবে। দেশে ডাটার ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। কুয়াকাটা থেকে ব্যান্ডউইথ বাড়াতে পারবে সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি। তারা সেখান থেকে দেড় হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ পেতে পারে। আমরা বিটিসিএলকে লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করব। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিষ্ঠান বিটিসিএল আধুনিয়ান করে সারাদেশে ইন্টারনেট বিস্তার করা হবে। জেলা পর্যায়ে গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। একইভাবে উপজেলা পর্যায়েও ইন্টারনেটের চাহিদা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। জেলায় ১০ জিবিপিএস ও উপজেলায় ২ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিভাগীয় পর্যায়ে আরও বেশি ব্যান্ডউইথ দেয়া হবে।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে রাশিয়া সহযোগিতা করতে চায়। দেশটির স্যাটেলাইট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গ্লাভকসমসের মাধ্যমে দ্বিতীয় স্যাটেলাইট তৈরি করার প্রস্তাব এসেছে। সম্প্রতি রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার চলমান কর্মসূচী এগিয়ে নিতে টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগেরও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০২৩ সালের মধ্যে মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের নেতৃত্বে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে ইতোমধ্যে কাজ অনেক দূর এগিয়েও গেছে। একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ এর কারিগরি ও আর্থিক সম্ভাব্যতা যাচাই থেকে শুরু করে নির্মাণ ও উৎক্ষেপণে রাশিয়া সহযোগিতা করতে চায়। এমনকি তারা বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগের অন্য খাত টেলিটকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। আমরা রাশিয়ার প্রস্তাব পেয়েছি। আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

মন্ত্রী বলেন, একইভাবে দেশের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে কনসোর্টিয়ামের সদস্য পদ নেয়া হয়েছে। দেশে একটি মাত্র কোম্পানি থাকার কারণে এত দিন কোন প্রকার নীতিমালা ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি চলেছে। বেসরকারী কোন কোম্পানি যদি ক্যাবল স্থাপন করতে চায় সেক্ষেত্রে অবশ্যই নীতিমালার প্রয়োজন রয়েছে। তা না হলে ওই কোম্পানি কিসের ভিত্তিতে চলবে। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হয়। এরপর থেকে নীতিমালা ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি চলছে। একটি কোম্পানি থাকার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এখন অনেক বেসরকারী কোম্পানি সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করতে আগ্রহী। তাদের জন্যও না একটি প্রতিষ্ঠান চললে তার একটা নীতিমালা আইন কানুন থাকতে হয়। আমাদের বিটিআরসি কোন লাইসেন্সও দেয়নি। একটি পারমিটের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি চালানো হচ্ছে। একটা নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, সভ্যতার আর একটি মাপকাঠি ইন্টারনেটের বিপদ মোকাবেলা। এটা খুব চ্যালেঞ্জের বিষয় ইন্টারনেটকে কিভাবে নিরাপদ রাখা যায়। আমরা সবার হাতে ইন্টারনেট তুলে দিয়েছি। এখন এর নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। বাস্তবতা হচ্ছে যাদের দ্বারা আক্রান্ত হই তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। তবে সরকারের ফলপ্রসূ প্রচেষ্টার ফলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। এখন অনেক বাজে সাইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ধীরে ধীরে ইন্টারনেটকে নিরাপদ করার সব ধরনের ব্যবস্থা কাজে লাগানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে এটাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে।

প্রকাশিত : ১৭ নভেম্বর ২০১৯

১৭/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: