১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২ পৌষ ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 

ভারতের বিরুদ্ধে ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ১৭ নভেম্বর ২০১৯

মিথুন আশরাফ ॥ প্রথমবার ভারত সফরে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে গিয়ে শুরুটা কি দুর্দান্ত হয়েছিল। এরপর থেকে শুধু হারই হচ্ছে সঙ্গী। শনিবার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টে যেমন ইনিংস ব্যবধানে হার হয়েছে। ইনিংস ও ১৩০ রানের ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। তিনদিনেই ইন্দোর টেস্ট শেষ হয়ে গেছে।

ভারত ব্যাটসম্যান মায়াঙ্ক আগারওয়াল (২৪৩), অজিঙ্কা রাহানে (৮৬), রবীন্দ্র জাদেজা (৬০*), চেতেশ্বর পুজারা (৫৪) যখন ব্যাটিং করেছেন তখন মনে হয়েছে উইকেট ব্যাটিং স্বর্গ। আর যখন দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট নেয়া মোহাম্মদ শামি বোলিং করেছেন তখন মনে হয়েছে উইকেট পেসারদের হিসেবেই বানানো। যখন ৫ উইকেট নেয়া রবিচন্দ্রন অশ্বিন বোলিং করেছেন, মনে হয়েছে উইকেট শুধু স্পিনারদের কথাই বলেছে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা যখন ব্যাটিং করেছেন, মনে হয়েছে উইকেটে ব্যাটিং করা কত কঠিন। মুশফিকুর রহিম (৪৩ ও ৬৪ রান), লিটন কুমার দাস (২১ ও ৩৫ রান), মুমিনুল হক (৩৭ ও ৭ রান), মেহেদী হাসান মিরাজ (০ ও ৩৮ রান) ছাড়া আর কোন ব্যাটসম্যান ব্যাট হাতে যেন দাঁড়াতেই পারেননি। বল হাতে এক আবু জায়েদ রাহী (৪/১০৮) ছাড়া নৈপুণ্যই নেই। কি করুণ দশা।

এক আগারওয়াল যে রান করেছেন দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের ১১ ব্যাটসম্যান দুই ইনিংসে ব্যাটিং করে মাত্র ১২০ রান বেশি করেছেন। ব্যাটিংয়ের কি বেহাল দশা হয়েছে। এমনই অবস্থা যে, দুই ইনিংস মিলিয়ে দেড়দিনও ঠিকমতো খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১৫০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর শামির গতি আর অশ্বিনের ঘূর্ণি জাদুর কাছে অসহায় হয়ে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ২১৩ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। ভারত এক ইনিংসে সোয়া একদিনের বেশি খেলেই যে ৬ উইকেটে ৪৯৩ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে, তাতেই কাজ হয়ে যায়। রবীন্দ্র জাদেজা ও উমেশ যাদব (২৫*) দ্বিতীয়দিন শেষেও উইকেটে থাকেন। তৃতীয়দিন তাদের ব্যাট হাতে নামার কথা। কিন্তু ভারত ইনিংস ঘোষণা করে দেয়। ভারত যে দ্বিতীয়দিনে ৬ উইকেটে ৪৯৩ রান করে, তখনই ৩৪৩ রানে এগিয়ে যায়। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের যে দুর্দশাগ্রস্ত ব্যাটিং দেখার মিলে, তাতে দ্বিতীয় ইনিংসে এই রান করাও তো কঠিন। ভারত তা ভালভাবেই বুঝতে পেরেছে। আর তাই তো তৃতীয়দিনে বাংলাদেশকে আবার ব্যাটিংয়ে পাঠায়।

ম্যাচটি বাংলাদেশ হারতে যাচ্ছে তা দ্বিতীয়দিন শেষেই ধারণা করা গেছে। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে যদি বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা ভাল কিছু করতে পারতেন তাহলে ম্যাচটি হয়তো চারদিনে নেয়া যেত। সেই সুযোগ মিললই না। বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা যে ভারত পেসার আর স্পিনারদের সামনে ভীত হয়ে পড়েন। তাই তো একের পর এক দৃষ্টিকটু আউটগুলোও হতে থাকে। শুরুতে ইমরুল কায়েস (৬) ও সাদমান ইসলাম (৬) আবারও দলকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। এরপর টেস্ট স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান মুমিনুল হকও (৭) যখন আউট হয়ে যান দল তখন বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। মোহাম্মদ মিঠুন (১৮), মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ তো (১৫) যেন মাত্র টেস্ট খেলা শুরু করেছেন, এমনভাবে খেলেন আর আউট হন। ৭২ রানেই যখন একটি দলের ৫ উইকেট পড়ে যায় তখন কী আর ভাল কিছু মিলে? তাই, তৃতীয়দিনেই খেলা শেষ হয়ে যাওয়ার আভাস ভালভাবেই মিলে যায়। ষষ্ঠ উইকেটে মুশফিক-লিটন মিলে ৬৩ ও সপ্তম উইকেটে মুশফিক-মিরাজ মিলে ৫৯ রানের জুটি গড়তে না পারলে তো এবার ১৫০ রান করাই কঠিন ছিল।

দ্বিতীয় সেশনটিতে বাংলাদেশ খুবই ভাল করে। আশা জাগানিয়া জুটি যে হয়। কিন্তু জুটি যদি আরও বড় না হতে পারে তাহলে ইনিংস হার এড়ানো কঠিনই হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ তা করতেও পারেনি। দলের ১৩৫ রানে গিয়ে লিটন কুমার দাস (৩৫) আউট হয়ে যাওয়ার পর দলের ১৯৪ রানে মিরাজও (৩৮) আউট হন। এরপর আসলে কত দ্রুত বাংলাদেশ অলআউট হবে তা নিয়েই যেন ছিল জল্পনা। মুশফিক ১০১ বলে ৫০ রান করেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মুশফিকের কাছ থেকে এই একটি হাফ সেঞ্চুরিই মিলে। বাকিরা সবাই ব্যর্থতার মিছিলে সামিল হন। মুশফিক উইকেটে থাকলেও তখন যে তাইজুল, রাহী আর এবাদতই বাকি থাকেন। মুশফিক উইকেট আঁকড়ে থাকতে পারবেন। কিন্তু বাকিরা কী পারবেন? দেখা গেল মিরাজের পর তাইজুল অনেকক্ষণ উইকেটে টিকে থেকে দলকে ২০৮ রানে নিয়ে গিয়ে আউট হয়ে যাওয়ার পর মুশফিকও (১৫০ বলে ৭ চারে ৬৪ রান) একই রানের সময় আউট হয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ২১৩ রান পর্যন্ত দল যেতে পারে। এবাদত আউট হতেই প্রথম টেস্ট শেষ হয়ে যায়। দুইদিন বাকি থাকতেই টেস্ট সমাপ্ত হয়। বাংলাদেশের বড় হার দিয়েই টেস্ট শেষ হয়।

ভারতীয় ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোর আশ্চর্য হয়েছেন, তিনদিনেই টেস্ট শেষ হয়ে গেল। তিনি বলেছেন, ‘তিনদিনে ম্যাচ শেষ হয়ে যাবে এটা আমরা কেউ অনুমান করতে পারিনি। বাংলাদেশ তো ভাল দল। ওদের প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্তটা কাজে দেয়নি। তিনদিনেই ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে। আমরা সত্যি এটা আশা করিনি।’ কিন্তু বাংলাদেশ তাই করেছে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্টে নাজেহাল হওয়ার পর ভারতের কাছে নাকানি-চুবানি খেয়েছে।

বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক মুমিনুল হক বেশ কিছু ইতিবাচক দিক পাওয়ার সঙ্গে টস জেতার পর সিদ্ধান্ত নেয়াটাকে সামনে তুলে ধরেছেন। বলেছেন, ‘আমি বেশ কিছু ইতিবাচক দিক পাচ্ছি। বিশেষ করে আবু জায়েদ, চার উইকেট পেয়েছে। মুশফিকুর দুই ইনিংসেই (৪৩ ও ৬৪) দারুণ খেলেছে। লিটনও ভাল করেছে। টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের খুব ভাল লাইনআপের বিরুদ্ধে খেলতে হয়েছে, এটা একটা চ্যালেঞ্জ। ম্যাচের ফলে টস প্রভাব ফেলেছে। এটা বেশ কঠিন ছিল। আমরা জিতে ব্যাটিং বেছে নিয়েছিলাম। সিদ্ধান্তটা আসলেই কঠিন ছিল।’

প্রকাশিত : ১৭ নভেম্বর ২০১৯

১৭/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: