১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২ পৌষ ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 

বরদাশত করা হবে না ॥ পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি

প্রকাশিত : ১৭ নভেম্বর ২০১৯
বরদাশত করা হবে না ॥ পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি
  • হোতাদের খুঁজে বের করতে হবে
  • স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
  • আর চিন্তা নেই, দ্রুত চাহিদা মেটাতে কার্গো বিমানে পেঁয়াজ আনা হচ্ছে

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দুর্নীতি-সন্ত্রাস-মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, সন্ত্রাসী কর্মকা-, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জন করে সেই টাকায় ফুটানি করলে দেশের মানুষ কখনও বরদাশ্ত করবে না। কেন দুর্নীতি ও চুরি করে টাকা বানাতে হবে? ওই সন্ত্রাসী কর্মকা-, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জন করে সেটা দিয়ে আবার বিলাসবহুল জীবন-যাপন করা কেউ মেনে নেবে না। অসৎ পথে উপার্জিত অর্থ দিয়ে বিরিয়ানি খাওয়ার চেয়ে সৎ পথে নুন-ভাত খাওয়া অনেক মর্যাদার। আমরা দেশ থেকে মাদক-সন্ত্রাস-দুর্নীতি দূর করতে চাই। এর বিরুদ্ধে যে অভিযান তা অব্যাহত রাখব। কারণ দেশের মানুষের শান্তি-নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করতে চাই।

পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে সন্দেহ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর পেছনে কোন কারসাজি কিংবা ষড়যন্ত্র আছে কিনা, দাম বৃদ্ধির পেছনে কারা জড়িত তা খুঁজে বের করতে হবে। কারণ বাংলাদেশ যতই এগিয়ে যায়, মানুষ ভাল থাকে, তখন একটা না একটা ইস্যু তৈরি করে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। তবে পেঁয়াজ নিয়ে আর চিন্তা নেই। দ্রুত চাহিদা মেটাতে কার্গো বিমানে পেঁয়াজ আনা হচ্ছে। আগামীকাল বা পরশুর (রবি বা সোমবার) মধ্যেই বিমানে করে পেঁয়াজ এসে পৌঁছবে। এখন পেঁয়াজ বিমানেও উঠে গেছে। কাজেই আর চিন্তা নেই।

শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দীর্ঘ প্রায় সাত বছর পর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৃতীয় ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের (বিএনপি-জামায়াত জোট) এই স্বভাব কোনদিন যাবে না। ওই খুনী, দুর্নীতিবাজরা যেন আর কোনদিন এই দেশে ক্ষমতায় আসতে না পারে, বাংলাদেশের জনগণকে সে ব্যাপারে সচেতন করতে হবে। এরা ক্ষমতায় আসা মানেই মানুষের ফের দুর্ভোগ, এরা ক্ষমতায় থাকা মানেই দেশকে একেবারে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া। দেশ আবারও সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদে ভরে যাওয়া।

দৃষ্টিনন্দন ও নানা সাজে সজ্জিত ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলন স্থলে উপস্থিত হলে সারাদেশ থেকে আসা সংগঠনটির হাজার হাজার নেতাকর্মী গগনবিদারী স্লোগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। প্রধান অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি উপস্থিত হওয়ার পর জাতীয় সঙ্গীতের সুরে সুরে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব এবং বিশেষ অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর দৃষ্টিনন্দন সুবিশাল নৌকা প্রতীক দিয়ে তৈরি মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধান অতিথিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক নির্মল রঞ্জন গুহ ও সদস্য সচিব গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু। অভ্যর্থনা উপ-কমিটির সহ-সভাপতি মতিউর রহমান মতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত পুরকায়স্থ প্রধানমন্ত্রীকে সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট প্রদান করেন। এরপর প্রধান অতিথিকে উত্তরীর পরিয়ে দেন দুই নেত্রী মাহফুজা বেগম সাঈদা এবং কাজী শাহানারা ইয়াসমিন। এরপর দলীয় সঙ্গীত এবং থিম সংয়ের তালে তালে নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা দুটি গান পরিবেশন করেন দেশের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী ও আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক নির্মল রঞ্জন গুহের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চুর সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অভ্যর্থনা উপ-কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান মতি। শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন সংগঠনটির দফতর সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ টুটুল। এরপর সবাই এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন। পরে দুপুরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিলরদের মতামত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী কারও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের মানুষের জন্য একটা সুন্দর জীবন দেয়াই তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য। দেশে একটা শ্রেণী আছে, একটি গোষ্ঠী আছে- মানুষ যত ভাল থাকবে তারা তখন মনোকষ্টে ভোগে, অসুস্থতায় ভোগে। এখন তাদের এই রোগ কিভাবে সারানো যায়, এটা জনগণই বিচার করবে। জনগণই এটা দেখবে।

তিনি বলেন, দেশ দারিদ্র্যমুক্ত হলে দারিদ্র্য বিক্রি করে যারা চলত, তাদের আঁতে ঘা লাগে। তাই তারা বারবার বাগড়া দেয়ার চেষ্টা করে এবং অপপ্রচার চালায়। কেউ যেন এই অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হন, আমি সেটাই বলব। আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকে জনগণের যে সেবা দিচ্ছে, এই কথাগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এই গতি আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশকে আর কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।

সম্প্রতি পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন পেঁয়াজ নিয়ে একটা সমস্যা। প্রায় সব দেশেই পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এটা ঠিক। কিন্তু আমাদের দেশে কেন এবং কী কারণে এত অস্বাভাবিকভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ছে জানি না। যে কারণে আমি ব্যবস্থা নিয়েছি, এখন আমরা বিমানে করে, বিমানের কার্গোতে আমরা পেঁয়াজ আমদানি করে নিয়ে আসছি। তবে আমরা দেখতে চাই, এই ধরনের চক্রান্তের সঙ্গে কেউ জড়িত আছে কিনা?

তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবে আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় অনেক পণ্য উৎপাদন বাড়ে বা উৎপাদন কমে। আর যেহেতু পেঁয়াজটা বেশিদিন রাখা যায় না, কিন্তু কেউ যদি এখন হোর্ডিং করে দাম বাড়িয়ে দু’পয়সা কামাতে চায় তাদের এটাও চিন্তা করতে হবে, পেঁয়াজ তো পচেও যাবে। তিনি বলেন, এখন পচা পেঁয়াজও শুকানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে মানুষকে কষ্ট দেয়াটা কেন? এভাবে কারা এর পেছনে আছে, সেটাও আমাদের দেখতে হবে। কারণ যতই আমরা এগিয়ে যাই, মানুষ যত ভাল থাকে, একটা না একটা ইস্যু তৈরি করার এবং মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়। তাই আমি সবাইকে অনুরোধ করব, এইভাবে চেষ্টা না করে, এর পেছনে মূল কারণটা কি সেটা খুঁজে বের করতে হবে।

ভারতেও পেঁয়াজের দাম বেশি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে এক শ’ রুপীতে এখন প্রতি কেজি কিনতে পারে। ভারতের শুধু একটা স্টেটে (রাজ্য) তাদের পেঁয়াজ বেশি, কিন্তু ওই স্টেটের বাইরে যেতে দেয় না, শুধু সেখানেই পেঁয়াজের দাম একটু কম। তাছাড়া সার্বিকভাবে সেখানেও দাম বেশি। তিনি বলেন, আমরা যেখান থেকে কিনছি, আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। কিন্তু এই সমস্যা যাতে না থাকে তাই কার্গো ভাড়া করে আমরা পেঁয়াজ আনা শুরু করেছি। দু’একদিনের মধ্যেই এই বিমানে পেঁয়াজ এসে পৌঁছবে।

দুর্নীতি-সন্ত্রাস-মাদকের বিরুদ্ধে চলমান শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এই দেশ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি দূর করতে চাই। এর বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে, সেই অভিযান আমরা অব্যাহত রাখব। কারণ বাংলাদেশের মানুষের জীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। আর একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলেই উন্নতি সম্ভব। সেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ আমরা চাই।

এ সময় বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এবং পরবর্তীতে সেনাশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তাঁর এবং পরিবারের দুর্নীতি খুঁজে বের করার প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের দুর্নীতি খুঁজতে গিয়ে খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবারের দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসে। বিএনপি ক্ষমতায় এসে আমাদের বিরুদ্ধে অনেক তদন্ত করে। এরপরে আবার কেয়ারটেকার (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) এসে তদন্ত শুরু করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সময় আবার আমেরিকায় জয়কে (পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়) কিডন্যাপ (অপহরণ) করার পরিকল্পনা হয়। বিএনপি দুর্নীতি করে এত টাকা কামিয়েছিল যে, আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই’র একজন অফিসারকে ভাড়া করে ফেলে, তাকে টাকা দিয়ে কিনে ফেলে। আমেরিকা সেই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া, তাঁর দুই পুত্রের দুর্নীতির তথ্য জানতে পারে। তাদেরই (এফবিআই) রিপোর্ট, একমাত্র প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) এবং তাঁর ছেলে ও বোন, আমাদের বিষয়ে কোথাও কোন রকম কমিশন খাওয়া, দুর্নীতির কোন দৃষ্টান্ত তারা (এফবিআই) খুঁজে পাননি। বরং যে অফিসারকে বিএনপি হায়ার করেছিল, এফবিআই তার বিরুদ্ধে মামলা করে। ওই মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে বের হয়ে আসে কোন কোন বিএনপি নেতা ওই এফবিআই অফিসারকে টাকা দিয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করেই ষড়যন্ত্রকারীরা থেমে যায়নি। তাদের চক্রান্ত অনেক দূর পর্যন্ত। তারা (বিএনপি) খুঁজতে গেল আমাদের দুর্নীতি, ধরা পড়ল নিজেরাই। আর যখন তারা জয়কে কিডন্যাপ করার পরিকল্পনা নিল, সেখানেও ধরা পড়ল। তাদের (বিএনপি) ওই দুই নেতার নাম চলে আসল জাজমেন্টে (আদালতের রায়ে)। এই চক্রান্তকারী তারাই, যারা (বিএনপি) বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনীদের মদদ দিতে পারে, অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে পারে, পুরস্কৃত করতে পারে। যুদ্ধাপরাধীদের যারা কাছে টেনে নিয়ে মন্ত্রী বানিয়ে লাখো শহীদের রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা তুলে দেয়, যারা জনগণের ভোট চুরি করে জাতির পিতার খুনীদের এমপি বানায়।

সরকারপ্রধান বলেন, আজকে তারা (বিএনপি নেতা) অনেক কথা বলে। তাদের সময়েই সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, দুর্নীতি, গ্রেনেড হামলা হয়েছে। দেশকে পাঁচ পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেছিল। তারাই দেশে রাজনৈতিক হত্যাকা- শুরু করে। সেই জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে খালেদা জিয়া পর্যন্ত। তাদের এই স্বভাব কোনদিন যাবে না। ওই খুনী, দুর্নীতিবাজরা যেন আর কোনদিন এই দেশে ক্ষমতায় আসতে না পারে, বাংলাদেশের জনগণকে সে ব্যাপারে সচেতন করতে হবে। এরা আসা মানেই মানুষের দুর্ভোগ, এরা ক্ষমতায় থাকা মানেই দেশকে একেবারে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া।

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এবং নিঃশেষ করতে আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান, জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া অনেক ষড়যন্ত্র করেছে, কিন্তু পারেনি। কারণ, আওয়ামী লীগের শিকড় বাংলাদেশের মানুষের মাঝে। আওয়ামী লীগের শিকড় দেশের মাটির অনেক গভীর প্রোথিত। তিনি বলেন, আমরা যতই এগিয়ে যাই, মানুষ যখন ভাল থাকে তখন একটা না একটা ইস্যু তৈরি করা হয় এবং মানুষের মাঝে একটা বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের মূল নীতিই হচ্ছে দেশের কোন মানুষ পেছনে পড়ে থাকবে না। আমরা বিজয়ী জাতি। বিজয়ী জাতি হিসেবেই সারাবিশ্বে মাথা উঁচু করে চলতে চাই। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকার গৃহীত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য যা যা করণীয় তা আমরা করে যাচ্ছি এবং করে যাব। এমন একটা সময় ছিল যখন মানুষ এক বেলা খেতে পেত না, এটা খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। ১০-১১ বছর আগের কথাটিই আপনারা চিন্তা করুন তখন দেশের অবস্থা কী ছিল, এখন আর সেই অবস্থা নেই।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি ২৩ উপজেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিদ্যুত সরবরাহের উদ্বোধন আমরা করলাম এবং সাতটি নতুন বিদ্যুত কেন্দ্র আমরা করলাম। সেখানে একটি উপজেলার একদম দুর্গম এলাকা, সেখানকার এক বোন বললেন তার গ্রামে তিনি বিউটিফিকেশনের কাজ করেন। আরেকজন বললেন তারা এখন হাঁড়িতে নয়, রাইস কুকারে ভাত রান্না করে। এখানেই আমাদের তৃপ্তি। এই বিদ্যুত সর্বত্র পৌঁছে গেছে বলেই তাদের কাজে আরও সহায়ক হবে। কারণ আমাদের নীতি শুধু রাজধানী বা শহরকেন্দ্রিক নয়, একদম তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত যেন উন্নয়ন পৌঁছে যায়, সেই উন্নয়নের ছোঁয়া যেন দেশের মানুষ পায়। একদম তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত আমরা উন্নয়ন পৌঁছে দিয়েছি।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে দারিদ্র্যের হার ৪১ ভাগ থাকার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সেই দারিদ্র্যের হার ২১ ভাগে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এই দারিদ্র্যের হার আমরা আরও কমিয়ে আনব। বাংলাদেশ হবে দারিদ্র্যমুক্ত। দেশের প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ ভাগে উন্নীত হয়েছে। আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠে গেছি। এই উন্নয়নের ধারা ধরে রেখেই আমরা বিশ্বে দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলব।

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচা সবাইকে পড়ার আহ্বান জানিয়ে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, নীতি ও আদর্শ নিয়ে বঙ্গবন্ধু মহান আত্মত্যাগ করে গেছেন, দেশকে স্বাধীন করে গেছেন। কখনও নিজের দিকে তাকাননি। তাই যারা মুজিবাদর্শে বিশ্বাসী, সবাইকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও নীতি মেনেই নিজেদের গড়ে তুলতে হবে, মানব কল্যাণে কাজ করতে হবে। এদেশকে গড়ে তুলতে হবে। কী পেলাম বা কী পেলাম না, সেটি বড় কথা নয়। দেশের মানুষকে কী দিয়ে যেতে পারলাম সেটিই বড় কথা। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আমরা এক উচ্চ মর্যাদায় নিয়ে গেছি। এই মর্যাদা আমাদের ধরে রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যত প্রজন্মের কল্যাণে তাঁর সরকারের ঘোষিত এক শ’ বছরের ডেল্টা প্ল্যান ঘোষণার কথা উল্লেখ করে বলেন, ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, আর ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এই একটি বছরকে আমরা মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছি। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ। আর ২০৭১ সালে আমরা স্বাধীনতার শতবার্ষিকী পালন করব। সে কারণে আমরা শত বছরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, যাতে আগামী প্রজন্মকে আমরা একটি সুন্দর ও অর্থবহ জীবন দিতে চাই। তাই সবাইকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে সেবার মনোভাব নিয়ে জনকল্যাণে কাজ করে যেতে হবে। ইনশাল্লাহ বাংলাদেশকে আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলব।

শেখ হাসিনা নির্বাচনভিত্তিক রাজনীতি করেন না

সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তার বক্তব্যে বলেন, শেখ হাসিনার ভিশন শুধু পরবর্তী নির্বাচন নয়। তার চিন্তা ভবিষ্যত নিয়ে, এটা আমাদের মনে রাখতে হবে। তিনি নির্বাচনভিত্তিক রাজনীতি করেন না। তিনি বলেন, আমরা আজকে গর্ব করে বলতে পারি, গত ৪৪ বছরে বাংলাদেশের সবচেয়ে সাহসী নেতার নাম শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর রক্তাক্ত বিদায়ের পর আমরা আজ একথা বুক ফুলিয়ে বলতে পারি, শেখ হাসিনার মতো সৎ রাজনীতিক ও রাষ্ট্রনায়ক এদেশে আগে আসেনি। আমরা গর্ব করে বলতে পারি, গত ৪৪ বছরে সবচেয়ে দক্ষ প্রশাসকের নাম শেখ হাসিনা। দেশের সবচেয়ে সফল কূটনীতিকের নাম শেখ হাসিনা।

নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের কাছে অনুরোধ করব নেত্রী যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন, তা যে কোন মূল্যে সফল করতে হবে। দুর্নীতিবাজ, মাদকসেবী, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও ভূমিদস্যুদের ‘না’ বলুন। এটাই হচ্ছে শেখ হাসিনার শুদ্ধি অর্জন। সৎ সাহস আছে বলেই বঙ্গবন্ধু কন্যা নিজের ঘর থেকে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। আমরা তাঁকে স্যালুট করি।

প্রকাশিত : ১৭ নভেম্বর ২০১৯

১৭/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: