২৩ জানুয়ারী ২০২০, ১০ মাঘ ১৪২৬, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

বরিশালে আমন ও শীতকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষতি

প্রকাশিত : ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ০৫:৩০ পি. এম.
বরিশালে আমন ও শীতকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষতি

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে বরিশালে আমন ও শীতকালীন শাক সবজির ক্ষয়ক্ষতির হিসাব প্রাথমিকভাবে নিরুপন করা হলেও নিশ্চিত করে এখনও কোন তালিকা করা সম্ভব হয়নি। বিভাগের ছয় জেলায় পানি নেমে যাওয়ার পর এই ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরুপন করা না হলেও বিভাগে রোপা আমন ও শীতকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর। বরিশাল কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আফতাব উদ্দিন জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে বরিশাল বিভাগে রোপা আমন সাত লাখ ১৪ হাজার ৭২০ হেক্টর জমির মধ্যে দূর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার সাতশ’ হেক্টর জমির ধান। এছাড়া শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছিল আট হাজার ৭৯৬ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে দূর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে তিন হাজার ২৭ হেক্টর জমি। যারমধ্যে খেসারি আবাদ হয়েছে এক হাজার ৮৬৮ হেক্টর জমিতে, যার পুরোটাই দূর্যোগ আক্রান্ত হয়েছে। পান আবাদ হয়েছে চার হাজার ১৩৮ হেক্টর জমিতে, যারমধ্যে দূর্যোগ আক্রান্ত হয়েছে ৬১৬ হেক্টর। কলা দুই হাজার ৬০১ হেক্টরের মধ্যে আক্রান্ত ৩৯৮ হেক্টর। পেপে ৯৮৭ হেক্টররের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে ৪০৩ হেক্টর। তিনি আরও জানান, বরিশাল বিভাগের ভোলা ও পটুয়াখালী জেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বেশি। ভোলায় রোপা আমন আবাদ হয়েছিল এক লাখ ৭৯ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে। যেখানে আক্রান্ত হয়েছে ৫৩ হাজার ৭৮৩ হেক্টর জমি। এ জেলায় শীতকালী সবজির আবাদ হয়েছিল দুই হাজার সাতশ’ ৪২ হেক্টর জমিতে। দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে ৭৪২ হেক্টর জমি। জেলাটিতে খেসারির আবাদ হয়েছিলো ৫১৮ হেক্টর জমিতে যার পুরোটাই আক্রান্ত হয়েছে। পান আবাদ হয়েছে ৫৩৮ হেক্টর জমিতে, এরমধ্যে ৫৪ হেক্টর আক্রান্ত হয়েছে।

পটুয়াখালী জেলায় বোরো আমন আবাদ হয়েছিল দুই লাখ দুই হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে ৫৫ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমি। এ জেলায় শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছিল ছয়শ’ হেক্টর জমিতে। দূর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে ১৮০ হেক্টর। এখানে সবচেয়ে বেশি খেসারি ক্ষেত আক্রান্ত হয়েছে।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আফতাব উদ্দিন বলেন, কৃষকদের প্রনদনা কার্যক্রম চলছে। চাষীদের মাঠে ধরে রাখতে ও চাষাবাদে উৎসাহিত করতে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এই প্রনদোনা কার্যক্রমের মধ্যে এবার যারা ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হরিদাস শিকারী জানান, বরিশাল জেলায় রোপা আমন আবাদ হয়েছিল এক লাখ ২৪ হাজার ৬৩৩ হেক্টর জমিতে। দূর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে ৫০ ভাগ জমি। যার পরিমান দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার তিনশ’ হেক্টর জমি। শীতকালীন শাক সবজির আবাদ হয়েছিল ২৫শ’ হেক্টর জমিতে, যেখানে আক্রান্ত হয়েছে ৯৮০ হেক্টর জমি। বরিশাল জেলায় খেসারির আবাদ হয়েছিলো এক হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে যার শতভাগ আক্রান্ত হয়েছে। কলা ৪৬৬ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছিল, আক্রান্ত হয়েছে ১৫ ভাগ যার পরিমান ৭০ হেক্টর জমি। পেপে আবাদ হয়েছিলো ৪৬৭ হেক্টর জমিতে, আক্রান্ত হয়েছে ১৫ ভাগ যা ৭১ হেক্টর জমি। পান আবাদ হয়েছিলো দুই হাজার ৬৮২ হেক্টর জমিতে, আক্রান্ত হয়েছে ২০ ভাগ ৫৩৬ হেক্টর জমি। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, বরিশাল জেলার মুলাদী, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। তিনি আরও বলেন, যেহেতু এখন শীতকালীন সবজি চাষ করা হচ্ছেনা সেহেতু ক্ষয়ক্ষতির পরিমান তেমন হবেনা। আমন ধান মাঠে রয়েছে কিছুদিন পর পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করে জানতে পারবো।

প্রকাশিত : ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ০৫:৩০ পি. এম.

১৬/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: