১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২ পৌষ ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 

সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হচ্ছে

প্রকাশিত : ১৫ নভেম্বর ২০১৯
  • সংসদে তীব্র ক্ষোভ ॥ কারসাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানের দাবি

সংসদ রিপোর্টার ॥ লাফিয়ে লাফিয়ে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সংসদে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। তারা প্রয়োজনে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি প্রয়োজনে পেঁয়াজ আমদানির ওপর শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেছেন, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই বাজারে ঘাটতি না থাকলেও কারসাজির মাধ্যমে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে। তাই বাজারে এই কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে দ্রুত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের বিরতির পর পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টির অবতারণা করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তাকে সমর্থন করে বক্তব্য রাখেন সরকারী দলের প্রবীণ নেতা ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সাবেক চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুল হক চুন্ন ও বিএনপির হারুনুর রশীদ।

অনির্ধারিত আলোচনার সূত্রপাত করে মোহাম্মদ নাসিম বাণিজ্য ও অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, এত সুদক্ষ একটি মন্ত্রিসভা, তার দু’জন মন্ত্রী এখানে আছেন। তাদের প্রতি অনুরোধ করতে চাই, পেঁয়াজের ঝাঁজ বেশি হয়ে গেছে। জনগণের মধ্যে একটা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ২০০ টাকা হয়ে গেছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কী কারণে প্রতিদিন পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাচ্ছে? বাণিজ্যমন্ত্রী যখন সংসদে বলেন ১০০ টাকার নিচে পেঁয়াজের দাম নামবে না, তখন তো ব্যবসায়ীরা সুযোগ পেয়ে যান।

তিনি বলেন, বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির কথা বলা হচ্ছে, তারপরেও কেন দাম বাড়ছে? ব্যাপারটা বোধগম্য নয়। এতে আমাদের সরকারের সুনাম ক্ষুণœ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ভারতে গিয়ে বলেছিলেন পেঁয়াজের ঝাঁজ বেড়ে গেছে, পেঁয়াজ রফতনি বন্ধ করবেন না। পেঁয়াজের ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া উচিত, তৎপর হওয়া উচিত। বাণিজ্যমন্ত্রীকে দ্রুতই ব্যবস্থা নিতে হবে, নইলে মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া খারাপ হবে।

এ ব্যাপারে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, কয়েকদিন আগে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আঘাত হেনেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পেঁয়াজের দাম একটু বেড়েছে কিন্তু একটু না, পেঁয়াজের দাম ২০০ টাকা কেজি হয়ে গেছে। এটা কোনদিন আমরা ভাবিনি। তিনি বলেন, ভারতে পেঁয়াজ উৎপাদন কম হয়েছে বর্ষার কারণে। সাধারণত এগুলো আমরা আগেই মূল্যায়ন করি। আমাদের বাৎসরিক চাহিদা কত, আমাদের কত আছে। আর ঘাটতি যেটা সেটা আগেই তুরস্ক, মিসরসহ মিয়ানমার থেকে আগেই আমদানির ব্যবস্থা করি। টিসিবি সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

প্রয়োজনে পেঁয়াজ আমদানির ওপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করে আওয়ামী লীগের প্রবীণ এই নেতা বলেন, অর্থমন্ত্রীকে বলব পেঁয়াজ আমদানি করতে সুযোগ-সুবিধা দিন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের যখন কোন একটা পণ্যের দাম বাড়ে, আমরা তার ওপর ডিউটি কমিয়ে দেই। আমি মনে করি, এই মুহূর্তে পেঁয়াজ আমদানি করার জন্য অন্তত কিছু দিনের জন্য পেঁয়াজের ডিউটি শূন্য করে দেন। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আমি যখন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলাম, কয়েক ঘণ্টার জন্য লবণের দাম বেড়েছিল। তখন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়াকে অনুরোধ করে ডিউটি ফ্রি করে দিয়েছিলাম। এই খবর পরিবেশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লবণের মূল্যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এ রকম একটা ঘোষণা দেন যে, পেঁয়াজ আমদানি করতে কোন শুল্ক লাগবে না, ডিউটি লাগবে না তখন অবশ্যই বাজারে এর প্রভাব পড়বে।

জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, দু’দিন আগে সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর পক্ষে শিল্পমন্ত্রী বললেন, পেঁয়াজের বাজার সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে! মন্ত্রী একথা বলার পরদিনই পেঁয়াজের দাম কেজি দেড় শ’ টাকা হয়ে গেল। এরপর দাম বেড়ে ২শ’ টাকা হয়ে গেছে অথচ নিউজে দেখলাম, পেঁয়াজের দাম না পাওয়ায় ভারতের কৃষকরা কাঁদছেন। তিনি বলেন, বাজারে প্রচুর পেঁয়াজ আছে, তারপরেও দাম বাড়ছে। এর বিরুদ্ধে একটি অভিযান চালানো দরকার। তাহলে এই সমস্যাটা আর থাকবে না। আমি মনে করি, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি সরকারের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। এটা দেখা দরকার। জরুরী ভিত্তিতে এর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

সাবেক চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, আসলেই বাজারে প্রচুর পেঁয়াজ আছে, এটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। প্রধানমন্ত্রী এর আগে অনুরোধ করেছিলেন পেঁয়াজ কম খেতে। সেটাতেও মানুষ সাড়া দিয়েছেন। তবে আমিও মনে করি, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি সরকারের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। এজন্য দুর্নীতিবাজরা এটা করতে পারে। এটা মানা যায় না। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া দরকার। প্রধানমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাই, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন, যাতে পেঁয়াজের দাম কমে, মানুষের দুর্ভোগ দূর হয়।

বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, পেঁয়াজের দাম বাড়তে বাড়তে ২০০ টাকায় ঠেকেছে। এটা যে কোথায় গিয়ে ঠেকবে কেউ জানে না। দেশের মানুষ পেঁয়াজের ঝাঁজে আজ অতিষ্ঠ অথচ এদিকে সরকারের কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেই।

প্রকাশিত : ১৫ নভেম্বর ২০১৯

১৫/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: