১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২ পৌষ ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 

এবার দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ পরিকল্পনা

প্রকাশিত : ১৫ নভেম্বর ২০১৯
  • এটি হবে হাইব্রিড

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’র পর এবার দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করার জন্য প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। কয়েক দিনের মধ্যে দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের জন্য পরামর্শক নিয়োগ করা হবে। এই স্যাটেলাইটটি হবে ‘হাইব্রিড স্যাটেলাইট’। যোগাযোগ, আবহাওয়াসহ আরও কয়েকটি কাজে এটি ব্যবহার হবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলামোটরে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএসসিএল) কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান বিসিএসসিএলের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ড. শাহজাহান মাহমুদ। মতবিনিময়ের সময় উপস্থিত ছিলেন- বিসিএসসিএলের জেনারেল ম্যানেজার শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী, সহকারী জেনারেল ম্যানেজার বখতিয়ার আহমেদ প্রমুখ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ যোগাযোগের কাজে ব্যবহার হয় জানিয়ে বিসিএসসিএলের চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, আমরা দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আমাদের ধারণা, স্টেক হোল্ডারদের চাহিদা অনুযায়ী এই স্যাটেলাইট হবে হাইব্রিড স্যাটেলাইট। সব ধরনের কাজে এই স্যাটেলাইট ব্যবহার হতে পারে। কিছু দিন আগে দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের জন্য স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে সেমিনার করা হযেছে। তাদের মতামত নেয়া হয়েছে। আমরা ‘উইস লিস্ট’ তৈরি করেছি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’র ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে মাত্র ৩০-৪০ শতাংশ ব্যবহার করেছি, আরও বাকি আছে। সুতরাং পরবর্তী স্যাটেলাইট হবে হাউব্রিড স্যাটেলাইট। যেন যোগাযোগ ছাড়াও আবহাওয়ার তথ্য পাওয়াসহ অন্য সেবায় ব্যবহার করতে পারি।

মতবিনিময় সভায় ড. শাহজাহান বলেন, দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের বিষয় সরকারের নির্বাচনী ইসতেহারে রযেছে। তাছাড়া বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর লাইভ টাইম ১৫ বছর। এজন্য আরও একটি স্যাটেলাইটের প্রয়োজন রয়েছে। বিশ্বের যেসব দেশ স্যাটেলাইটের মালিক তাদের একাধিক স্যাটেলাইট রয়েছে। দেশের চাহিদা অনুযায়ী এটা আমাদের করতে হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের জন্য কাজ শুরু হয়েছে। পরামর্শক নিয়োগ হওয়ার ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে তারা একটা রিপোর্ট দেবে-সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা কাজ শুরু করবো। আইটিইউর কাছে দ্বিতীয় স্যাটেলাইট আবেদন করেছি। সেখান থেকে একটা সিদ্ধান্ত এলে স্যাটেলাইট নির্মাণ কাজে হাত দেয়া হবে। এখন রাশিয়া দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রথম স্যাটেলাইটের চেয়ে যাতে খরচ কম হবে দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের। তবে কোন দেশ থেকে স্যাটেলাইট কেনা হবে সেটা সরকারী সিদ্ধান্ত। দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মহাকাশে চারটি স্লটের আবেদন করা আছে, তবে ১০২ ও ৭৪ স্লট ভাল হতে পারে। বিটিআরসি থেকে স্লটের বিষয়ে আইটিইউর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের বিভিন্ন দিক নিয়ে একটি ‘প্রেজেন্টেশন’ তুলে ধরা হয়। অন্য দেশ এক-দেড় বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে পারে না। আমরা এক বছরের মধ্যে কাজে লাগাতে শুরু করেছি। এই স্যাটেলাইট ১৫টি দেশে সেবা দিতে সক্ষম। তবে আগে দেশের চাহিদা মিটিয়ে অন্য দেশের দিকে বাজার ধরার চেষ্টা করা হবে।

চেয়ারম্যান বলেন, আমরা প্রথমত তিন মাস টেলিভিশনগুলোকে ফ্রি সেবা দিয়েছি, ২ অক্টোবর থেকে বিল ধরা শুরু করছি। টেলিভিশনগুলোর জন্য তিনটি রিডানডেন্সি চালু করেছি যাতে কোন কারণে একটি সংযোগ কাটা পড়লেও বিকল্প পথ থাকে। আরও একটা রিডানডেন্সি তৈরির কাজ করছি।

এক বছরে সবচেয়ে বড় অর্জন ৩৫ টি টিভি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সেবায় চলে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, টিভি চ্যানেলগুলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোসহ পৃথিবীর সব জায়গায় যাতে কাভার করতে পারে এ বিষয়ে কাজ করছি। এছাড়াও প্রত্যন্ত অঞ্চলে টেলিমেডিসিন ও টেলি এডুকেশনে কাজ করছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। আজকে টেলি মেডিসিনের মাধ্যমে ভোলার চর নিউরির একজন প্রসূতি মা ঢাকার বঙ্গবন্ধু হাসপাতালের ডাক্তারকে দেখাতে পারছে। এটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অনেক খুশি। ভি-স্যাট সুবিধার মাধ্যমে একটি ব্যাংককেও সেবার আওতায় আনা হচ্ছে। স্যাটেলাইট সেবার জন্য ভারত বড় বাজার ধরারও চেষ্টা করা হচ্ছে। বিটিআরসি এ বিষয়ে যোগাযোগ করবে। আমরা অভ্যন্তরীণ বাজারকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করছি, যে পরিমাণ ধারণা করছিলাম তার থেকে চাহিদা বেশি।

এই স্যাটেলাইটের প্রেক্ষিত তুলে ধরে বিসিএসসিএল চেয়ারম্যান বলেন, ভূমিকম্পে দুর্যোগের সময় নেপালে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশে যদি এরকম যোকোনো দুর্যোগ হয় তাহলে সব জায়গায় যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ব্যান্ডউইথ ফাইবার অপটিকের চেয়ে দাম অনেকে বেশি। যদি আমরা কম দামে দিতে পারতাম তাহলে বেশ ভালো হতো। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিটিএইচ সেবার জন্য সামিট কমিউনিকেশনকে ফ্রি সেবা দেয়ার কথা অপপ্রচার, তারা আমাদের সবচেয়ে বড় গ্রাহক। সমস্ত টেলিভিশন থেকে যত টাকা পাই তার প্রায় কাছাকাছি পাই তাদের কাছে।

প্রকাশিত : ১৫ নভেম্বর ২০১৯

১৫/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: