১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

আওয়ামী লীগে বিশুদ্ধ রক্তের সঞ্চালন ঘটাতে হবে ॥ কাদের

প্রকাশিত : ১৪ নভেম্বর ২০১৯
  • চট্টগ্রামে আখতারুজ্জামান বাবু স্মরণসভা

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যারা অন্তর্কলহ করবে, অপকর্ম করবে, দুর্নীতি করবে তাদের স্থান এ দলে হবে না। আওয়ামী লীগে দূষিত রক্তের প্রয়োজন নেই। দূষিত রক্ত ফেলে দিয়ে বিশুদ্ধ রক্তের সঞ্চালন ঘটাতে হবে।

প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর কেবি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত স্মরণসভায় কথাগুলো বলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে মাঝে মাঝে অবাঞ্ছিত অপ্রীতিকর ঘটনা হয় তুচ্ছ কারণে। যখন দেখি আওয়ামী লীগই আওয়ামী লীগের শত্রু তখন কষ্ট লাগে, দুঃখ করি। চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এটি বড় দুর্বলতা। তবে নেত্রী শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। শেখ হাসিনার এ্যাকশান শুরু হয়ে গেছে।

স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া, আওয়ামী লীগের উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সংসদ সদস্য নাজমুল ইসলাম চৌধুরী ও ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ সালাম, রাউজান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, নোমান আল মাহমুদ, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, গুটি কয়েক খারাপ লোকের জন্য গোটা আওয়ামী লীগ বদনামের ভাগিদার হবে না। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমকে ম্লান করে দিতে পারে কিছু লোকের খারাপ আচরণ। আমরা পরিবর্তন চাই। তবে সে পরিবর্তন হবে শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত। সেই পরিবর্তন চাই না, যা আওয়ামী লীগের শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন। তিনি বলেন, সরকারের ভিশন-২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়নে যারা কাজ করবে তাদের চরিত্র হারালে চলবে না। আওয়ামী লীগে গণতন্ত্র অক্ষুণœ রাখতে হবে, সেটাই ট্র্যাডিশন। জনগণের মাঝ থেকেই পরিবর্তনের ধারা এগিয়ে নিতে হবে।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আখতারুজ্জামান বাবু ছিলেন চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কাণ্ডারি। ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর দল যখন মহাবিপর্যয়ের মুখে তখন চট্টগ্রামের মাটিতে হাল ধরেছিলেন এই নেতা। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর শেখ হাসিনার কাছে যারা দাঁড়িয়েছিলেন তাদেরই একজন আখতারুজ্জামান বাবু। এখন অনেক বিত্ত-বৈভবের মালিক আছেন, যারা রাজনীতিকে ক্রয় করতে চান। কিন্তু বাবু ভাইয়ের এত অর্থবিত্ত থাকার পরও তিনি রাজনীতিকে কেনার চেষ্টা করেননি। বঙ্গবন্ধুর রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেননি।

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর পুত্র ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, প্রয়াত হওয়ার পরও তিনি রাজনীতিতে আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। একজন রাজনীতিবিদের জন্য এটা অনেক বড় পাওনা। তিনি ব্যবসায়ী ছিলেন, কিন্তু ব্যবসার জন্য রাজনীতি করেননি।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ’৭৫ পরবর্তী সময়ে অনেকেই ক্ষমতার উচ্ছিষ্টের লোভে পড়েছিলেন। কিন্তু আখতারুজ্জান চৌধুরী বাবু তার আদর্শে অবিচল ছিলেন। তিনি দল ছেড়ে যাননি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায়। এমন সময় আখতারুজ্জামান বাবুর মতো রাজনীতিবিদের খুবই প্রয়োজন ছিল।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোশেনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, বাবু ভাই ছিলেন একজন বিত্তশালী মানুষ। কিন্তু রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সকল মানুষকে কাছে টেনে নিয়েছিলেন। বর্তমান প্রজন্মকে বাবু ভাইয়ের আদর্শ মনেপ্রাণে ধারণ করতে হবে।

বাদলের স্বপ্নের কালুরঘাট

সেতু হবে কোরিয়ার

অর্থায়নে

প্রয়াত সংসদ সদস্য মইন উদ্দীন খান বাদলের স্বপ্নের কালুরঘাট সেতু অবশ্যই হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নে আগামী বছর এ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হবে। সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বুধবার সকালে চট্টগ্রামে তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ছয় লেন বিশিষ্ট আট কিলোমিটার এ্যাপ্রোচ সড়ক পরিদর্শনকালে এ তথ্য জানান সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য মইন উদ্দীন খান বাদলের স্বপ্ন ছিল কালুরঘাট সেতু। এ সেতু দক্ষিণ কোরিয়ার আর্থিক সহায়তায় নির্মাণ করা হবে। এছাড়া চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে মেট্রোরেল নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। বর্তমানে এর সম্ভাব্যতা যাচাই কাজ চলছে।

চট্টগ্রামে তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু আট কিলোমিটার দীর্ঘ এ এ্যাপ্রোচ সড়কে ব্যয় হচ্ছে ৩৯৬ কোটি টাকা। এ অর্থায়ন করছে কুয়েত ফান্ড ফর এরাবিক ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট। বাস্তবায়ন করছে সড়ক পরিবহন অধিদফতর। বুধবার নির্মাণ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম এবং সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

প্রকাশিত : ১৪ নভেম্বর ২০১৯

১৪/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: