৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

জনগণের কষ্টার্জিত অর্থকে খেলাপী হতে দেব না ॥ অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:২৭ পি. এম.
জনগণের কষ্টার্জিত অর্থকে খেলাপী হতে দেব না ॥ অর্থমন্ত্রী

সংসদ রিপোর্টার ॥ অর্থমন্ত্রী আ হ মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, গত জুন পর্যন্ত দেশে খেলাপী ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৭ কোটি টাকা। এসব ঋণের মধ্যে ব্যাংকের খেলাপী ১ লাখ ৬ হাজার ৫৫ কোটি টাকা এবং আর্থীক প্রতিষ্ঠানের ৮ হাজার ৪২ কোটি টাকা। তবে জনগণের কষ্টার্জিত অর্থকে আমরা খেলাপী হতে দেব না। খেলাপী ঋণ অবশ্যই আদায় করা হবে।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। বিএনপির বেগম রুমিন ফারহানার এক সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থা যখন থেকে চালু হয়েছে, তখন থেকেই এই ঋণ খেলাপী সংস্কৃতি। বিএনপি আমলে যে পরিমাণ ঋণ খেলাপী ছিল, তা থেকে আমরা অনেক কমিয়ে এনেছি। তবে ঋণ খেলাপী থাকা উচিত নয়। জনগণের কষ্টার্জিত অর্থকে আমরা খেলাপী হতে দেব না। ইনশাল্লাহ সকল ঋণ আমরা আদায় করব।

বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের অপর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, খেলাপী ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যেই অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ প্রণয়ন করেছে। এ আইনের আলোকে খেলাপী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে ১৬ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে।

সরকারি দলের মহিবুল রহমান মানিকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ব্যাংকসমূহে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যাংক কোম্পানী আইন, সংশোধনের মাধ্যমে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব, কর্তব্য এবং কর্মপরিধি সম্পর্কে দিক-নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের ঝুঁকি মোকাবেলায় ১২ ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সংসদ সদস্য মো. মহিববুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী তারা রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক সোনালী, রূপালী, জনতা, অগ্রণী ও বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনে অনলাইনে সরাসরি আবেদন করে থাকে। গত ৩ নবেম্বর-১৯ পর্যন্ত ২৪৬ জন সরকারি কর্মচারি ঋণের আবেদন করলেও ১৯০ জন এ সুবিধা পেয়েছেন। আবেদনে ত্রুটি থাকায় ৫৬ জনের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ নীতিমালার আওতায় একক আবেদনকারী কেবলমাত্র জমি ক্রয়ের জন্য কোন ঋণ সুবিধা পাবেন না। তবে, গ্রুপভিত্তিক জমি ক্রয়সহ বাড়ি নির্মাণের জন্য ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে।

জাতীয় পার্টির পীর ফজলুল রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার রোধে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা নিরলসভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে বিদেশ হতে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে অর্থ পাচার বিষয়ক প্রায় ৪০টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনতে এ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে গঠিত আন্তঃসংস্থা টাস্কর্ফোস অর্থ উদ্ধারে কাজ করছে।

বেগম রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান বিও একাউন্টধারীদের মধ্যে সকল বিনিয়োগকারী একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে লেনদেন করে না। কিছু সংখ্যাক বিনিয়োগকারী প্রায়শই লেনদেন করেন, কিছু সংখ্যক বিনিয়োগকারী স্বল্প ও দীর্ঘ বিরতির পর লেনদেন করেন। তিনি আরো বলেন, পুঁজিবাজারে সিকিউরিটিজের মূল্যের উখান-পতন একটি স্বাভাবিক ঘটনা, এর ফলে বিনিয়োগকারীগণ স্বাভাবিক নিয়মেই লাভ-লোকসান করতে পারে।

মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর গত ৯ মাসে বিদেশ থেকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ ১৩ হাজার ৪৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

প্রকাশিত : ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:২৭ পি. এম.

১৩/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

জাতীয়



শীর্ষ সংবাদ: