১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২ পৌষ ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 

সাসপেন্ড পরিদর্শকসহ ৭ কর্মচারী পুলিশ হেফাজতে

প্রকাশিত : ১৩ নভেম্বর ২০১৯
  • বেনাপোলে কাস্টমসের ভল্ট ভেঙ্গে ২০ কেজি স্বর্ণ চুরির ঘটনা

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল ॥ বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ভল্ট ভেঙ্গে ২০ কেজি স্বর্ণ চুরির ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পরিদর্শক শাহাবুল সরদারসহ মোট সাত কর্মচারীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এর আগে চুরির ঘটনায় সোমবার গভীর রাতে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা দায়ের করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এছাড়া যুগ্ম কমিশনার শহিদুল ইসলামকে প্রধান করে ৯ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে কাস্টম হাউসে সিসি ক্যামেরায় সুরক্ষিত একটি সংরক্ষিত এলাকায় কীভাবে এ ধরনের দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটল তা নিয়ে এখনও নানা প্রশ্ন সব মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে। কাস্টম হাউসে নিজস্ব সিপাহী ছাড়াও আনসার ব্যাটালিয়নের একটি ইউনিট সেখানে সর্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে থাকে।

তিনদিনের ছুটি শেষে গত সোমবার অফিস খোলার পর বেনাপোল কাস্টম হাউসের লকারে চুরির বিষয়টি ধরা পড়ে। চুরি হওয়া লকারে বিভিন্ন সময়ে জব্দকৃত স্বর্ণ, অস্ত্র, টাকা, ডলারসহ বিদেশী মুদ্রা ও মূল্যবান দলিলপত্র রাখা হয়।

তবে কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার এস এম শামীমুর রহমান জানান, পুরনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় গোপনীয় একটি কক্ষের তালা ভেঙ্গে ফেলে দুর্বৃত্তরা। সেই কক্ষে রক্ষিত লোহার ভল্ট ভেঙ্গে ২০ কেজি সোনা লুট করে নিয়ে যায় দূর্বৃত্তরা। ভল্টে মূল্যবান আরও বিপুল পরিমাণ সোনা, ডলার ও টাকা থাকলেও শুধু ১৯ কেজি ৩৮০ গ্রাম সোনা নিয়ে যায় তারা। ভল্ট ভাঙ্গার ও আগে দুর্বৃওরা সিসি ক্যামেরার সবগুলো সংযোগ কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। চুরি যাওয়া সোনার বাজার মূল্য ১০ কোটি টাকা বলে কাস্টমস সূত্র জানায়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগশন (পিবিআই) ও সিআইডির ক্রাইম সিনের একটি টিমসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা আলামত সংগ্রহ করে।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী জানান, চুরির ঘটনায় যুগ্ম কমিশনার শহিদুল ইসলামকে প্রধান করে ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। ভল্ট ইনচার্জ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহাবুল সর্দারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে সিপাহী পারভেজ আলমসহ আরও ৫জন বেসরকারীভাবে কর্মরত কর্মীকে। এরা হলেন মহব্বত আলী, আজিবর রহমান, টিপু আলী, সুরত আলী ও আলা মিয়া।

কাস্টমস হাউসে বেশ কিছু বহিরাগতরা বিভিন্ন শাখায় অবৈধভাবে কাজ করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তাদের মধ্যে ক্যাশ শাখার দায়িত্বে থাকা এনজিও টিপু এ ঘটনায় জড়িত বলে পুলিশ সন্দেহ করছে। তিনি বর্তমানে পুলিশী হেফাজতে রয়েছে বলে জানা গেছে।

বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন খান বলেন, বেনাপোল কাস্টমের ভল্ট বিকল্প চাবি ব্যবহার করে সোনা চুরি করা হয়েছে। কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জিএম আশরাফ মামলাটির বাদী হয়েছেন। পুলিশ সুপার মঈনুল হকসহ সিআইডি ও পিবিআই কর্মকর্তারা তদন্ত কাজ চালাচ্ছেন। আশা করা যায়, দ্রুতই দুর্বৃত্তদের আটক করা সম্ভব হবে।

প্রকাশিত : ১৩ নভেম্বর ২০১৯

১৩/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: