১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

মন্টু সভাপতি, খসরু সাধারণ সম্পাদক

প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর ২০১৯
  • শ্রমিক লীগেও নতুন মুখ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কৃষক লীগের মতো জাতীয় শ্রমিক লীগেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন মুখ আনা হয়েছে। শনিবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত জাতীয় শ্রমিক লীগের দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতি পদে ফজলুল হক মন্টু এবং কে এম আযম খসরুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এছাড়াও মোল্লা আবুল কালাম আজাদকে কার্যকরী সভাপতি করে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

নতুন সভাপতি ফজলুল হক মন্টু জাতীয় শ্রমিক লীগের বিদায়ী কমিটির কার্যকরী সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক কে এম আযম খসরু প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং কার্যকরী সভাপতি মোল্লা আবুল কালাম আজাদ সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এবারের সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন এনে স্বচ্ছ ভাবমূর্তিসম্পন্ন, সক্রিয়, দক্ষ ও কর্মীবান্ধব নতুন নেতৃত্ব আশা করেছিলেন নেতাকর্মীরা। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এই নতুন নেতৃত্ব আনা হয় শ্রমিক লীগে।

এর আগে সকালে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় শ্রমিক লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সারাদেশ থেকে আসা প্রায় ৮ হাজার কাউন্সিলর অংশ নেন।

ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতি পদে সাতজন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ১৩ জনের নাম প্রস্তাব করা হয়। তাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তবে ওই বৈঠকে সমঝোতা না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং কার্যকরী সভাপতি ঠিক হয় বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

বৈঠক শেষে সম্মেলনের মঞ্চে এসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম এসেছিল তাদের নিয়ে আমরা সমঝোতায় বসেছিলাম। সমঝোতায় কোন ধরনের সিদ্ধান্ত না আসায় সবাই প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নতুন কমিটি ঘোষণার দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিক লীগের তিনজনের নাম বলেছেন। আশা করি, আপনারা এই নতুন কমিটি নিয়ে শ্রমিক লীগকে সুসংগঠিত করবেন।’ পরে তিনি নতুন সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কার্যকরী সভাপতির নাম ঘোষণা করেন।

জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া প্রবীণ শ্রমিক নেতা ফজলুল হক মন্টু সম্মেলনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে শ্রমিক লীগের সভাপতি পদে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি সৎ এবং নিষ্ঠার সঙ্গে আমার দায়িত্ব পালন করব।’

নতুন সাধারণ সম্পাদক কে এম আযম খসরু তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘সারাদেশে শ্রমিক লীগকে সুসংগঠিত করে রাখতে আমরা কাজ করে যাব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বাস অক্ষুণœ রাখব।’

তিন বছর কমিটির মেয়াদ হলেও দীর্ঘ প্রায় সাড়ে সাত বছর পর জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয় সর্বশেষ ২০১২ সালে। ওই সম্মেলনে সভাপতি হন শুক্কুর মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান সিরাজুল ইসলাম। প্রার্থী তালিকায় নাম থাকলেও তারা দু’জনের কেউই নতুন কমিটিতে পুনর্বহাল হতে পারেননি। কৃষক লীগের মতো শ্রমিক লীগেও সদ্য বিদায়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দু’জনই বাদ পড়েছেন। ১৯৬৯ সালের ১২ অক্টোবর দেশের সর্ববৃহৎ শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগ প্রতিষ্ঠা করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর ২০১৯

১০/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: