১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

শাহ আমানত বিমানবন্দর বন্ধ ছিল

প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরগুলোয় স্বাভাবিক কর্মকা- ব্যাহত হয়েছে। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শনিবার বিকেল ৪টা থেকে রবিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত বন্ধ ছিল। এতে বিমানসহ অন্যান্য এয়ারলাইন্সের বেশ কয়েকটি ফ্লাইটের ওঠানামা বন্ধ থাকে। এসব বিষয়ে রবিবারের রাতের আবহাওয়া পরিস্থিতি দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শাহ আমানত বিমানবন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার সারওয়ার-ই-জাহান। তিনি জানিয়েছেন, এ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় কমপক্ষে ১৫ ফ্লাইটের ওঠানামা বন্ধ ছিল। এর মধ্যে বিমানসহ ৪ এয়ারলাইন্সের আন্তজার্তিক ফ্লাইট ছিল। অনুরূপভাবে কক্সবাজার বিমানবন্দরও শনিবার বিকেল ৪টা থেকে বন্ধ রাখা হয়। বিমানবন্দর এলাকার সব ধরনের এয়ারক্রাফট অন্যত্র পাঠিয়ে দেয়া হয়। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সব ধরনের এয়ারক্রাফট সরিয়ে নেয়া হয়।

এদিকে বিকল্প হিসেবে সিলেট বিমানবন্দর ব্যবহার করার জন্য সারারাত খোলা ছিল। তবে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার তৌহিদ উল আহসান। তিনি জানান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।

এ বিষয়ে বেবিচক জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানিয়েছেন, মধ্যরাতের আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী পরিস্থিতি। দুর্যোগ দেখা দিলেও জরুরী অবতরণ করতে পারে- সেজন্য সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শনিবার সারারাত খোলা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে বরিশাল ও যশোর বিমানবন্দর পরিস্থিতি দেখে ব্যবস্থা নেবে।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার

স্টাফ রিপোর্টার চট্টগ্রাম অফিস থেকে জানিয়েছেন, দেশের উপকূলবর্তী নদীবন্দরগুলোর পরিস্থিতি ছিল বিপজ্জনক। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে শনিবার ৯ নম্বর মহাবিপদ সঙ্কেত দেয়া হয়। এ প্রেক্ষিতে আগাম সতর্কতা অবলম্বে চট্টগ্রাম বন্দরে এলার্ট জারি করা হয়। বন্দরের সকল জেটি বিকেলের আগেই জাহাজ শূন্য করা হয়। বহির্নোঙরে অবস্থানে থাকা ৩১টি জাহাজ কুতুবদিয়া সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে পাঠিয়ে দেয়া হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শনিবারের ছুটি বাতিল ঘোষণা করে। অনুরূপভাবে পতেঙ্গায় কর্ণফুলী মোহনা উজানে নিয়ে আসা হয়েছে বহির্নোঙর থেকে ছোট ছোট সব ধরনের লাইটার জাহাজ। গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারের ট্রলার ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা এবং সব ধরনের নৌযান শুক্রবার থেকেই নিরাপদ স্থানে চলে এসেছে। ফলে কর্ণফুলী নদীর ফিশারিঘাট এলাকায় বিপুলসংখ্যক ইঞ্জিনচালিত নৌকা নোঙর করে।

অপরদিকে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে শনিবার সকাল থেকেই চট্টগ্রামের আকাশ মেঘলা, সামগ্রিক পরিবেশ থমথমে। মাঝেমধ্যে আলোর আভাস দেখা গেলেও ফের অন্ধকার। থেমে থেমে হয়েছে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিপাত। চট্টগ্রাম মহানগরীসহ পুরো জেলায় মানুষের মধ্যে পরিলক্ষিত হয় এক ধরনের আতঙ্ক। উপকূলবর্তী এই জেলায় ঘূর্ণিঝড় যদিও নতুন অভিজ্ঞতা নয়, তথাপি মানুষের সময় কাটতে থাকে ভয়াবহ এক দুর্যোগকে মোকাবেলার প্রতীক্ষায়। দুপুরের পর থেকে বুলবুলের আগমনী লক্ষণ স্পষ্ট হতে থাকে। লোকজন চলে যায় বাড়িঘরে। অনেকটা জনশূন্য হয়ে যায় সড়ক। তবে এরইমধ্যে চরম ব্যস্ততায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারী ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মকর্তা কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবীরা। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, সিভিল সার্জন অফিস, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করে। শনিবার দিনের প্রথমার্ধ মোটামুটি কর্মব্যস্ত থাকলেও দুপুরের পর কার্যত সবকিছু থেমে যায়। বন্ধ থাকে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম এবং বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা। তবে সন্ধ্যা পর্যন্তও ট্রেনগুলো সিডিউল অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক জানান, বিপদ সঙ্কেত ৯ নম্বর হওয়ার পরই সর্বোচ্চ এলার্ট জারি করা হয়। বহির্নোঙরে পণ্য লাইটারিং শুক্রবার থেকেই বন্ধ। শনিবার সকাল থেকে সকল কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। নতুন জাহাজ ভেড়ানো বন্ধ। জেটিতে থাকা জাহাজগুলোকে পাঠানো হয় বাইরে। বড় জাহাজগুলো নোঙর করেছে কুতুবদিয়া ও কক্সবাজারের কাছাকাছি। সবগুলো জাহাজকে ইঞ্জিন অন রাখতে বলা হয়েছে, যাতে জরুরী মুহূর্তে মুভ করতে পারে। ছোট লাইটার জাহাজগুলো কর্ণফুলী নদীর অনেক উজানে এসে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। আবহাওয়া দফতর থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এই অবস্থা বলবৎ থাকবে।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ম্যানেজার উইং কমান্ডার সারোয়ার-ই-জাহান জনকণ্ঠকে জানান, সকাল থেকে বিকেল চারটার আগ পর্যন্ত সবগুলো ফ্লাইট সিডিউল অনুযায়ী ওঠানামা করেছে। এরপর বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। বিকেল চারটার পর ফ্লাইট বন্ধ।

প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর ২০১৯

১০/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: