২০ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

মনিটরিং সেল- প্রতিটি মুহূর্তই যখন গুরুত্বপূর্ণ

প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর ২০১৯
  • ১৪ জেলার ৪১৭১ আশ্রয় কেন্দ্রে ১৮ লাখ মানুষের আশ্রয়ের ব্যবস্থা

তপন বিশ্বাস ॥ টানা দু’রাত-দুদিন নিদ্রাহীনভাবে অফিসে কাটালেন দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোঃ এনামুর রহমান ও সিনিয়র সচিব মোঃ শাহ কামাল। অফিসে বসে দিন-রাত উপকূলীয় জেলার জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করছেন। মনিটরিং সেলের তথ্য মোতাবেক দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সর্বক্ষণিক তদারকি করছেন। মাঝেমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী ও সিনিয়র সচিবকে। তাৎক্ষণিক তারা তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিচ্ছেন জেলা প্রশাসকদের। এভাবে পুরো টিমওয়ার্কের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলা করছে সরকারের প্রশাসন যন্ত্র।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ও সচিব টানা দু’রাত-দুদিন অফিসে কাটিয়েছেন। শুক্রবার সকাল থেকে তারা মন্ত্রণালয়ে অবস্থান করেন। রাতও কাটান অফিসে। শনিবার সারাদিন এবং রাতেও অবস্থান করেন। সঙ্গে রয়েছেন মনিটরিং সেলের কর্মকর্তাবৃন্দ। অন্য সময় ২৭ কর্মকর্তা মনিটরিং রুমে কর্মরত থাকলেও ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় এই সংখ্য ৩৬ এ উন্নীত করা হয়েছে। এই সেলে যুগ্মসচিব, উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত মনিটরিং সেলে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন। এরা প্রতিমুহূর্তে খবর রাখছেন উপকূলীয় এলাকার। শনিবার সন্ধ্যায় তারা প্রতি জেলা থেকে ডিসিদের পাঠানো তথ্য পর্যবেক্ষণ করে তাৎক্ষণিকভাবে সচিব মন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করছেন। এর ভিত্তিতে সচিব জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন। আগে ৬ ঘণ্টা পর পর বুলেটিন দেয়া হলেও শনিবার প্রতি তিন ঘণ্টায় একবার করে বুলেটিন দেয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে প্রতি ঘণ্টায় বুলেটিন দেয়া হবে বলে জানালেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা। এই বুলেটিন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ছাড়াও ২৭ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তাদের মতো করে ব্যবস্থা নিচ্ছে। দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিব এবং এক যুগ্মসচিব এই সেলের কার্যক্রম মনিটরিং করছেন।

উপকূলীয় ১৪ জেলার মোট ১৮ লাখ লোককে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়ার জন্য ৪ হাজার ১৭১টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এতে মোট ধারণ ক্ষমতা ২০ লাখ। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ লোক আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়। এছাড়া প্রয়োজনে স্কুল-কলেজ ব্যবহার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় কবলিত এলাকার কাঁচা বাড়ি-ঘরের সকল লোককে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রয়োজনে জোর করে তাদের আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মোঃ এনামুর রহিম জনকণ্ঠকে বলেন, সকল ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকদের আশ্রয় কেন্দ্রে নিতে বলেছি। শুক্রবার থেকে প্রতি ঘণ্টায় প্রধানমন্ত্রী ফোন করে খবর নিচ্ছেন। আমাদের প্রস্তুতিও প্রধানমন্ত্রীকে জানাচ্ছি। এরপর তিনি আরও কিছু নির্দেশ দিচ্ছেন। আমরা সেগুলো বাস্তবায়ন করছি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সকল ঝুঁকিপূর্ণ লোকেদের আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা তা করছি। এখন আমাদের মূল কাজ সকলকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকদের খাবার পারিবারিক সাইলোতে রাখতে বলেছেন। আমরা জেলা প্রশাসকদের তা বলেছি।

এ ব্যাপারে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জনকণ্ঠকে বলেন, বুলবুল মোকাবেলায় আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এটি মোকাবেলায় ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক, স্কাউট, বিএনসিসি, গার্লস গাইড প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রও প্রস্তত। প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা, আশ্রয় স্থল, চিকিৎসা সেবা, পানীয় জলের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলকে কেন্দ্র করে পুরো প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। এ লক্ষ্যে শনিবার দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ৪০ জনের বেশি সচিব উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর তারা তাদের মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মন্ত্রণালয় প্রস্তুত রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ চলাকালীন ও পরবর্তী যে কোন সহায়তার জন্য প্র¯ুÍত সংশ্লিষ্ট সরকারী সংস্থা। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় জরুরী তথ্য আদান-প্রদান ও সহায়তা গ্রহণের জন্য সরকারী দফতরগুলো কন্ট্রোলরুম খুলেছে।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বরিশাল বিভাগের জন্য যোগাযোগের নম্বর ০১৭৬৬৬৯০৬২১, খুলনা বিভাগের জন্য ০১৭৬৬৬৯০৩৮৩, চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য ০১৭৬৬৬৯০১৫৩ এবং অতিরিক্ত নম্বর ০১৭৬৬৬৯০০৩৩। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ও কন্ট্রোল রুম খুলেছে। মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুমের যোগাযোগের নম্বর ০১৩১৮২৩৪৫৬০ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমের নম্বর ০১৫৫২৩৫৩৪৩৩।

এছাড়া বিআইডব্লিউটিএ’র কন্ট্রোল রুমের নম্বর ০১৯৫৮৬৫৮২১৩। বিনা খরচে ঘূর্ণিঝড়ের সর্বশেষ খবর জানা যাবে ১০৯০ নম্বরে ফোন করে। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’এর কারণে সেন্টমার্টিন দ্বীপে আটকেপড়া পর্যটকদের সাহায্যের জন্য কক্সবাজার জেলা কন্ট্রোল রুমের নম্বর ০১৭১৫৫৬০৬৮৮ অথবা টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ০১৮৫১৯৬৬৯৬৬ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়াও ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ সম্পর্কিত সর্বশেষ তথ্যের জন্য ঢাকার তথ্য অধিদফতরের সংবাদকক্ষের ০২৯৫১২২৪৬, ০২৯৫১৪৯৮৮ টেলিফোন নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় পুলিশ সদর দফতর কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে। কন্ট্রোল রুমে ০১৭৬৯৬৯০০৩৩, ০১৭৬৯৬৯০০৩৪ নম্বরে এবং জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর ২০১৯

১০/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: