১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

লক্ষ্য কঠিন হলেও অসম্ভব নয়!

প্রকাশিত : ৯ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:১২ পি. এম.
লক্ষ্য কঠিন হলেও অসম্ভব নয়!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ অভীষ্ট লক্ষ্যে উপনীত হওয়া হতে পারে অনেক কঠিন। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও মনোবল থাকলে সেটা অসম্ভব নয়। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও মনোবল সম্বল করেই এগুতে চাইছে কাংখিত লক্ষ্যের পানে। সেজন্যই তারা এখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে। ফিফা বিশ^কাপ বাছাইপর্ব এবং এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে কোয়ালিফাই করে পরের রাউন্ডে নাম লেখানের মিশন নিয়েই সেখানে চলছে তাদের কঠোর অনুশীলন।

জাতীয় দলকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়েই ওমানে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এছাড়াও যখনই বাফুফে এবং ন্যাশনাল টিম ম্যানেজমেন্ট কমিটি থেকে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা-সহযোগিতা চেয়েছিল দল, তা তারা সবই পেয়েছে। এবার তাদের চাওয়া ছিল, একটু আগেভাগেই ওমান যাওয়া, যেন ওখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। বাফুফে সেই অনুযায়ীই দলকে ওমান পাঠায়। ওখানে ইতোমধ্যেই একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলে ফেলেছে জাতীয় দল। ওমান মাসকট ক্লাবকে সে ম্যাচে ৩-১ গোলে হারিয়ে ভালই প্রস্তুতি নিয়েছে লাল-সবুজরা।

কদিন আগেই ভারতের সঙ্গে ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ম্যাচ খেলার পরেই চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয় শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা। এতে চট্টগ্রাম আবাহনী এবং বসুন্ধরা কিংসের পক্ষে জাতীয় দলের বেশকিছু ফুটবলার অংশ নেন। তাদের ছাড়া জাতীয় দলের বাকি ফুটবলাররা বিশ্রামে ছিলেন। আসলে ঠিক পুরোপুরি বিশ্রাম বলাটাও ঠিক হবে না। কারণ জাতীয় দলের হেড কোচ জেমি ডে তার শিষ্যদের ইনডিভিউজুয়াল ট্রেনিং শিডিউল মেইনটেইন করতে বলেছিলেন। সেটা তারা শতভাগই পালন করার চেষ্টা করেন। ট্রেনিংয়ের মধ্যে ছিল জিম সেশন এবং ক্যাম্পের খাদ্যাভাস কঠোরভাবে বজায় রাখা। এগুলো খেলোয়াড়রা এমনভাবে করেছেন, যেন ক্যাম্প শুরু হলে এগুলো আবার নতুন করে শুরু করতে না হয়। ঠিক সেটাই হয়েছে। ওমানে গিযে ক্যাম্প শুরুর পর শিষ্যদের ফিটনেস দেখে যারপরনাই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন জেমি ডে।

কোন সন্দেহ নেই, ওমান অনেক শক্তিশালী দল। তাছাড়া বাছাইপর্বের খেলাটা হবে তাদের মাটিতেই, আগামী ১৪ নভেম্বর। কাজেই এটা লাল-সবুজ বাহিনীর জন্য অনেক কঠিন হবে। তবে তারা ওখানে খেলতে গেছে হারার জন্য না, অবশ্যই জেতার জন্যই। ওমানে গিয়ে তাদের সঙ্গে অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচই খেলেবে দল, এটা আশা করাই যায়।

বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় তালিকা একটি মাত্র পরিবর্তন আছে। জুয়েল রানার পরিবর্তে দলভুক্ত করা হয়েছে রকিব হোসেনকে। সামনে এসএ গেমস। ওখানে অংশ নেবে অ-২৩ জাতীয় দল। সেটার কথা মাথায় রেখেই জুয়েলকে ওমান নেয়া হচ্ছে না। দলে কোন ইনজুরি নেই।

শেখ কামালের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে খুবই টাই শিডিউলের মধ্যে। ফলে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা অল্প সময়ে অনেক বেশি ম্যাচ খেলেছেন। নিশ্চয়ই তারা ক্লান্ত। এই ক্লান্তি কি ওমান সফরে কোন নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না? টিম ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে-যারা শেখ কামাল ফুটবলে খেলেছে, তাদের কথা মাথায় রেখে ওমান সফরে তাদের একটু কম ট্রেনিং করানো হচ্ছে। আর যারা খেলেনি তাদের অন্য ধরনের ট্রেনিং হচ্ছে। তবে ওমানের ম্যাচটি যেহেতু অনেক পরে, কাজেই অনেক সময় আছে। তাই আশা করা যায় ওই ম্যাচের আগেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশ খেলছে গ্রুপ ‘ই’তে। গ্রুপের অন্য চার দল হলো কাতার, ওমান, আফগানিস্তান ও ভারত।

৫ দলের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ে সব থেকে পিছিয়ে বাংলাদেশ। তারপরও লাল-সবুজরা মন্দ খেলছে না। প্রথম ম্যাচে তারা আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে যায়। ১০ সেপ্টেম্বর তাজিকিস্তানে (নিরপেক্ষ ভেন্যু) অনুষ্ঠিত হয় ম্যাচটি। এরপর ১০ অক্টোবর ঢাকায় বিশ্বকাপের স্বাগতিক দল কাতারের বিপক্ষে কঠিন লড়াই করে ২-০ গোলে হেরে যায় লাল-সবুজ বাহিনী। এরপর ১৫ অক্টোবর ভারতের বিপক্ষে এ্যাওয়ে ম্যাচে জামাল ভুঁইয়াদের পারফরম্যান্সটা ছিল আরও চোখ ধাঁধানো। কোলকাতায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের মতোই প্রতিপক্ষ ওমানও খেলেছে ৩ টি ম্যাচ। এর মধ্যে প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতেছে তারা। দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারায় ৩-০ গোলে। এরপর কাতারের কাছে হেরে যায় ১-২ গোলে।

গ্রুপে ৫ দলের মধ্যে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে ওমান। সমান ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে বাংলাদেশ। আগামী ১৪ নভেম্বর সিবের আল-সিব স্টেডিয়ামে ওমানের বিরুদ্ধে খেলবে বাংলাদেশ। স্বাগতিক হওয়ায় ওমানের বিপক্ষে ভালো কিছু করে দেখানোটা বড় চ্যালেঞ্জই বাংলাদেশের জন্য। এই লক্ষ্যে সেখানের আবহাওয়ার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে প্রায় দশ দিন আগেই ওমানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

অনুর্ধ-১৯ দল এএফসি অ-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাইপর্ব খেলতে বাহরাইন অবস্থান করছে। এই দলে আছেন ডিফেন্ডার ইয়াসিন আরাফাত। তিনি ওখানে সব ম্যাচ খেলা শেষ করে ওখান থেকেই ১১ নভেম্বর সরাসরি ওমান চলে যাবেন এবং জাতীয় সিনিয়র দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে বাংলাদেশ গত তিনটি ম্যাচে ৪টা গোল রিসিভ করে। তার মধ্যে দু’টি সেট পিস থেকে। ভারতের বিপক্ষে শেষের দিকে এসে গোল রিসিভ করেছে। এ নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট আলোচনায় বসেছিল। টিম ডিফেন্ডিং এবং সেটপিস নিয়ে কাজও শুরু করেছে ম্যানেজমেন্ট।

শনিবার জাতীয় দলের ফুটবলাররা সুইমিং ও জিম সেশন করেছেন। বিকেলে করেছেন বল নিয়ে অনুশীলন। এখন দেখার বিষয়, আগামী ১৪ নভেম্বর তারা কেমন ফল করে ম্যাচে।

প্রকাশিত : ৯ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:১২ পি. এম.

০৯/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

খেলা



শীর্ষ সংবাদ: