১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

রাঙ্গামাটিতে কঠিন চীবর দান উৎসব সমাপ্ত

প্রকাশিত : ৯ নভেম্বর ২০১৯

নিজস্ব সংবাদদাতা, রাঙ্গামাটি, ৮ নবেম্বর ॥ রাঙ্গামাটির ঐতিহাসিক রাজবন বিহারে দুই দিনব্যাপী ৪৬তম দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্জলনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে। বৃহস্পহিবার বিকেলে ধর্মীয় আচারের মাধ্যমে চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় চরকায় সুতা কাটা এই উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেছেন।

এই উৎসবস্থলে লাখো পুণ্যার্থী ঢল নেমেছে। প্রায় এক বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসেছে গ্রাম্যমেলা। একে ঘিরে দূর-দূরান্ত থেকে সমাগম ঘটে আবাল বৃদ্ধ বনিতার। ওইদিন সকালে বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুদের চীবর দানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের মূল কাজ শেষ হয়েছে। এই সময়ে ভিক্ষু সংঘকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন পুণ্যার্থীরা। পরে ধর্মীয় উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় কঠিন চীবর দানোৎসব। বিকেলে ‘বুদ্ধ কি জয়, ধর্ম কি জয়, সংঘ কি জয়’ স্লোগান ঢোলের ছন্দে নেচে-নেচে কঠিন চীবর ও কল্পতরুণকে পুরো এলাকা প্রদক্ষিণ করেন পুণ্যার্থীরা। সাধু সাধু ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠে পুরো বিহার প্রাঙ্গণ।

এই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে চরকায় সুতা কেটে কোমর তাঁতের মাধ্যমে গেরুয়া রং-এর কাপড় তৈরি করে ধর্মীয় গুরুদের উৎসর্গ করা। এই প্রথা আড়াই হাজার বছর আগে অর্থাৎ গৌতম বুদ্ধের সময়কালে মহামতি গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় তার প্রধান সেবিকা বিশাখা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা করে সারারাত বৌদ্ধভিক্ষুদের জন্য গেরুয়া কাপড় (চীবর) বুনে গৌতম বুদ্ধকে দান করেছিলেন। বিশাখা প্রবর্তিত কঠিন চীবর দানকে সফল করতে বৌদ্ধরা অনন্তকাল থেকে কঠিন চীবর দান করে আসছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীরা। এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাজা দেবাশীস রায়, বৃষ কেতু চাকমা, মহিলা এমপি আসন্তি চাকমা ও বিহার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি গৌতম দেওয়ান।

প্রকাশিত : ৯ নভেম্বর ২০১৯

০৯/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

অন্য খবর



শীর্ষ সংবাদ: