১৭ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

১৩৭ বছরের আদালত

প্রকাশিত : ৯ নভেম্বর ২০১৯
  • পটিয়ায় ১৮৮২ সালে চালু হয় চৌকি আদালত

দক্ষিণ চট্টগ্রামের মহকুমা শহর পটিয়ায় ১৮৮২ সালে চৌকি আদালত চালু করা হয়। বর্তমানে এটি পটিয়া যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত হিসেবে পরিচিত। টিনশেড ছাউনি, বাঁশের বেড়ার ১৩৭ বছরের আদালতটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোন সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। আদালতের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুত লাইন, টিনের ছাউনির ছিদ্র দিয়ে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি ঢুকে নথি নষ্ট হচ্ছে।

বর্তমানে ছয়টি কোর্টে প্রায় ৩০ হাজার মামলা রয়েছে। ছয় বিচারকের মধ্যে রয়েছে ৪জন। ফলে বিচারপ্রার্থীরা নানাভাবে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত পটিয়া আদালতটি ৬তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণের জন্য সম্প্রতি ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও পরবর্তীতে এই বরাদ্দ বাতিল করা হয়। প্রশাসনিক জটিলতা ও বিচার বিভাগের কিছু ভুল ত্রুটির কারণে পটিয়া যুগ্ম জেলা জজ আদালতের ৬তলা ভবনটির বরাদ্দ বাতিল হয় বলে আইনজীবীরা জানান। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সূতিকাগার এই পটিয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-সাহিত্য, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে ঐতিহ্য রয়েছে। কিন্তু পৌর সদরের প্রাণকেন্দ্র আদালতটি ভবন, রাস্তাসহ অসংখ্য সমস্যায় জর্জরিত।

১৯৮৫ সালে গণপূর্ত বিভাগ জরাজীর্ণ আদালত ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণাও করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে তৎকালীন আইনমন্ত্রী মির্জা হাফিজ উদ্দিন ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে আদালত ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও ওই সময়ের যোগাযোগমন্ত্রী কর্নেল অলি আহমদ (বীরবিক্রম) ওই বরাদ্দ বাতিল করে তাঁর নিজের এলাকায় গাছবাড়িয়া সরকারী কলেজের ভবনের জন্য নিয়ে যান।

জানা গেছে, ব্রিটিশ সরকার ১৮৮২ সালে পটিয়ায় আদালত কার্যক্রম শুরু করে।

পটিয়াসহ মোট ছয়টি আদালতের মধ্যে পটিয়া প্রথম, দ্বিতীয়, অতিরিক্ত আদালত এবং বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী আদালতে বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার মামলা বিচারাধীন। ছয় কোর্টে চারজন বিচারক রয়েছেন। বিচারকের এজলাস, চেম্বার, বাসভবন সমস্যা দীর্ঘদিনের। ২০১০ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ও পটিয়া পৌর সদরের সুচক্রদন্ডী গ্রামের নিবাসী ফজলুল করিমকে পটিয়া আইনজীবী সমিতির এক সংবর্ধনায় পটিয়া আদালতের বহুতল ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ৬ তলাবিশিষ্ট প্রায় ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও অদৃশ্য কারণে অর্থ মন্ত্রণালয় ফাইল আটকে রাখে। যার কারণে ভবন নির্মাণের কাজ আর শুরু করা যায়নি। তবে পটিয়ার সংসদ সদস্য ও হুইপ সামশুল হক চৌধুরী বিভিন্ন সময় আইনজীবীদের পটিয়া আদালত ভবন নির্মাণের বিষয়টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে আইনজীবীরা জানান।

পটিয়া যুগ্ম ও দায়রা জজ আদালত আইনজীবী সমিতির সভাপতি দীপক কুমার শীল জানিয়েছেন, আদালতের টিন শেড ছিদ্র হয়ে বৃষ্টির পানি পড়ার কারণে মামলার নথি নষ্ট হচ্ছে। বিচারকদের খাসকামরা, চেম্বার, বাসভবন, রাস্তা ও আদালত ভবনসহ বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় বিচারক, আইনজীবি ও আদালতের সংশ্লিষ্টরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে রাস্তাঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করছেন। ১৩৭ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী পটিয়া আদালতে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য আইনজীবীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

-বিকাশ চৌধুরী, পটিয়া, চট্টগ্রাম থেকে

প্রকাশিত : ৯ নভেম্বর ২০১৯

০৯/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: