১৭ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

আদিরূপে সোনারগাঁ বড় সরদারবাড়ি

প্রকাশিত : ৯ নভেম্বর ২০১৯

সোনারগাঁয়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক বড় সরদারবাড়ি সংস্কার করে আদিরূপ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কোরিয়াভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি ইয়াংওয়ান করপোরেশনের অনুদানে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এ কাজ সংস্কার করা হয়। সংস্কারে ফিরে এসেছে বড় সরদারবাড়ির আদিরূপ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যেমে ২০১৮ সালের ১ নবেম্বরে বড় সরদারবাড়ির উদ্বোধন করে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেন।

জানাযায়, প্রায় ছয়’শ’ বছরের পুরনো সোনারগাঁয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে পরিচিত ঐতিহাসিক বড় সরদারবাড়ি। এখানকার ইমারতে লিপিতে দেখে যায় বাংলা সর্বশেষ ১৩৩০ ও ১৩০৮ লেখা থাকলেও অনুমান করা যায়, বাড়ির মালিকানা বা অধিকার পেয়ে সর্বশেষ হাতবদল হয়ে সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজ হয় ১৩৩০ সালে। সুলতানি আমলের পথ ধরে মোঘল আর সর্বশেষ ব্রিটিশ রাজত্বের ইতিহাস আর ঐতিহ্যের ধারক ‘বড় সরদার বাড়ি’ নির্মাণ করেছেন ঐশ্বর্যকান্ত সাহা সরদার নামে এক ব্যবসায়ী। তখন থেকে পরিচিতি ‘বড় সরদার বাড়ি’ নামে। ১৯৮১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ঐতিহাসিক এ ভবনটিকে বাংলাদেশ সরকার লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরে রূপান্তরিত করে। ২৭ হাজার ৪০০ বর্গফুট আয়তনের এ ভবনটির নিচতলায় ৪৭টি ও দ্বিতীয় তলায় ৩৮টি কক্ষ রয়েছে। এসব কক্ষে প্রাচীন বাংলার কৃষক, কামার, কুমার, তাঁতী, জেলে থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষের নিত্যদিনের ব্যবহার করা তৈজসপত্রসহ নানা আসবাবপত্র সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। নওগাঁ ও পাহাড়পুর থেকে অভিজ্ঞ ১৫০ জন নিপুণ রাজমিস্ত্রি তাদের দক্ষ হাতে সংস্কারণ কাজ শুরু করে ২০১২-১৭ সালে শেষ দিকে কাজ শেষ হয়। প্রায় ৫ বছরে বড় সরদার বাড়ি আদিরূপে ফিরে দিয়েছে বাড়িটির সৌন্দর্য।

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন সূত্র থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করার কারণে বড় সরদার বাড়ির ভবনের প্লাস্টার ও ছাদসহ বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বাড়িটির ঐতিহ্য ও পুরনো সৌন্দর্যের কথা বিবেচনা করে এর আদিরূপ ফিরিয়ে আনতে কোরিয়াভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি ইয়াংওয়ান করপোরেশন ২০১২ সালের ৩ জানুয়ারি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ কাজের চুক্তি করে। অনুদান হিসেবে কোম্পানিটি প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয় করে ভবনটির আদিরূপ ফিরিয়ে এনেছে। এ ছাড়া কোম্পানিটি ভবনের বাইরে পুকুর ও সড়কসহ আশপাশের খালি জায়গার সৌন্দর্য বাড়াতেও কাজ করেছেন।

ইয়াংওয়ান করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও কোরিয়া ইপিজেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কিহাক সাং পরিদর্শনে এসে তিনি বলেন, ‘এ বাড়ির ইতিহাস ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করেছে। এ কারণে আমরা এ বাড়ির ইতিহাসের সাক্ষী হতে অনুদান দিয়ে বাড়িটি সংস্কারের মধ্যমে আদিরূপ ফিরিয়ে দিয়েছি।

লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের গবেষণা কর্মকর্তা এ কে এম মুজাম্মিল হক বলেন, বাড়িটি আদিরূপে ফিরিয়ে আনার কাজের স্থপতি ছিলেন এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রধান আবু সাইদ এম আহম্মেদ। এটির আদিরূপ ফিরিয়ে আনতে চীনা মাটির ভাঙা প্লেট, চিটাগুড় ও তেঁতুলের বিচির প্রলেপ দেয়া হয়েছে। ভবনের মেঝেতে ব্যবহার করা হয়েছে টাইলস ও মার্বেল পাথর।

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. আহমদ উল্লাহ বলেন, বড় সরদারবাড়ির সংস্কারের মাধ্যমে আদিরূপ ফিরে এসেছে। আদিরূপের ফলে ফাউন্ডেশনের দৃশ্যপট বদলে গেছে। সোনারগাঁয়ে বেড়াতে আসা দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে বাড়িটির কারুকাজ অন্যতম আকর্ষণ। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্ধারণ করা দেশী পর্যটকের প্রবেশমূল্য ১০০ টাকা আর বিদেশী পর্যটকদের জন্য ২০০ টাকা দিয়ে টিকেট কিনে প্রবেশ করতে হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য আনসার, পুলিশসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তরাও নিয়োজিত রয়েছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার বন্ধ ও বাকি দিনগুলো সকাল ৯ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

-ফারুক হোসাইন, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ থেকে

প্রকাশিত : ৯ নভেম্বর ২০১৯

০৯/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: