১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

স্বেচ্ছায় নিরাপদ রক্তদানে এগিয়ে আসুন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত : ২ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:৪২ পি. এম.
স্বেচ্ছায় নিরাপদ রক্তদানে এগিয়ে আসুন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ স্বেচ্ছায় নিরাপদ রক্তদানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, এমপি। তিনি বলেন, রক্তদান ভ্রাতৃত্ববোধ গভীর করে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে এবং পারস্পরিক সহাবস্থান সুদৃঢ় করে। প্রতি চার মাস অন্তর একজন সুস্থ্য ব্যক্তি রক্ত দান করতে পারে। তবে রক্তের প্রয়োজনে জীবাণু মুক্ত রক্তই রোগীকে নতুন জীবন দিতে পারে। রক্তদানের পাশাপাশি স্বেচ্ছায় মরণোত্তর চক্ষুদান করে মানুষের অন্ধত্ব দূরীকরণের আহ্বান জানান মন্ত্রী।

শনিবার জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস ২০১৯ উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ ব্লক’ এর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, এমপি। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সন্ধানীর উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোঃ হাবিবে মিল্লাত, এমপি, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব জনাব শেখ ইউসুফ হারুন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মোঃ আসাদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান খান, সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. তোসাদ্দেক হোসেন সিদ্দিকী, সন্ধানী কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি তানভীর হাসান ইকবাল, সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি মহাসচিব ডা. মোঃ জয়নুল ইসলাম, সন্ধানী কেন্দ্রীয় পরিষদ সাধারণ সম্পাদক মির্জা মিনহাজুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য ছিল “রক্তের জাত নাই, দৃষ্টিতে মৃত্যু নাই”।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, মৃত্যু পরবর্তী চক্ষুদান মানুষের অন্ধত্ব দূরীকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে এবং সুন্দর পৃথিবীকে দেখার সুযোগ সৃষ্টি হবে। মরণোত্তর চক্ষুদানে জনসচেতনেতা সৃষ্টি করতে হবে।

উদ্বোধকের বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, সন্ধানী একটি মানবসেবার বিশ্বস্তু সংগঠন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। সংগঠনটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন কার্যক্রমকে বেগবান করেছে।

অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, স্বেচ্ছায় রক্তদান ও চক্ষুদান কার্যক্রমকে গতিশীল করতে চিকিৎসক সমাজকে আরো সচেষ্ট হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় জনসচেতনেতা সৃষ্টি করতে হবে। তাহলেই এই কার্যক্রম অধিকমাত্রায় সফলতা পাবে।

অন্য বক্তারা বলেন, রক্ত দান একটি মহৎ সেবা। রক্তের প্রয়োজনে জীবাণুমুক্ত নিরাপদ রক্তই রোগীকে নতুন জীবন দিতে পারে। তবে রক্ত যেমন একদিকে জীবন রক্ষা করে, অন্যদিকে অনিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালনে এইডস, হেপাটাইটিস-সি, হেপাটাইটিস-বি সিফিলিস, ম্যালেরিয়া ছড়ায়। এ সব জটিল রোগ থেকে নিরাপদ থাকার একমাত্র উপায় হচ্ছে পেশাদার রক্তদাতা থেকে রক্ত গ্রহণে বিরত থাকা এবং স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের থেকে রক্ত গ্রহণ করা। দেশে স্বেচ্ছা রক্তদাতা এবং আত্মীয় রক্তদাতার হার বেড়েছে । কিন্তু দেশের সব ক’টি রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্র সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেই। তাই রক্তগ্রহণকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বক্তারা।

প্রকাশিত : ২ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:৪২ পি. এম.

০২/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

জাতীয়



শীর্ষ সংবাদ: