১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

উট পালনে ফিরতে পারে ভাগ্যের চাকা

প্রকাশিত : ৩ নভেম্বর ২০১৯
  • মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

মরুভূমির জাহাজ খ্যাত উট এখন বাংলাদেশের আবহাওয়ায় লালন-পালন করা সম্ভব। ২০০৪ সালে রাজধানীর বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনে প্রথম উটের খামার গড়ে উঠে। আড়াই বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই খামারটি এখন শতভাগ লাভজনক। এখানে ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো উট বাচ্চা দেয়। এখানে প্রায় ৫০টির মতো উট রয়েছে। উটের মাংস, দুধ, চামড়ার প্রচুর চাহিদা। প্রথমবার ১টি হলেও পরে ২টি থেকে তিনটি করে উট বাচ্চা দেয়। একটি উটের বাচ্চার পেছনে মাসে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা খরচ হয়। দেড় দুই বছর পর মূল্য দাঁড়ায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। পাঁচ বছর বয়সী একটি উটের মূল্য ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা।

একটি উট বাচ্চা দেবার পর গড়ে ১০/১২ কেজি দুধ দেয় প্রায় পরবর্তী বাচ্চা হওয়ার আগ পর্যন্ত। দুধের কেজি ৪০০ টাকা। অভিজাত হোটেলগুলোতে উটের মাংসের প্রচুর চাহিদা। সে তুলনায় উটের সরবারহ নেই। একটি উট প্রায় ৫০ বছর বাঁচে। ২০/২৫টি বাচ্চা দেয়। উট মরুভূমির প্রাণী বটে। তবে আমাদের দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে গেছে। উট পালনের জন্য একটু বেশি জায়গার প্রয়োজন হয়। একটি উটের জন্য ১০ বর্গফুট জায়গা রাখা দরকার জানান উটের পরিচর্যাকারী তসলিম উদ্দিন। মশা, মাছিমুক্ত স্থানে উট থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা উটের সুস্বাস্থ্যের জন্য খুব প্রয়োজন। বালি দিয়ে কৃত্রিম মরুভূমি বানিয়ে তাতে দিনের কিছুটাা সময় উট চড়াতে হয়। সারাক্ষণ বসে থাকা উটের জন্য ভাল নয়। আমাদের দেশের আবহাওয়ার কারণে পশু পাখির সাধারণত যে রোগগুলো হয়। যেমন চর্মরোগ, কৃমি ইত্যাদি। উটেরও বেশি হয় চর্ম রোগ, কৃমি, জ্বর। এসব রোগের ওষুধ সহজলভ্য। উট পালনে অন্যসব পশু পাখির তুলনায় ঝুঁকি সবচেয়ে কম। একটি উট বার্ধক্য জনিতকারণে বা অন্য কোন রোগে অসুস্থ হয়ে পড়লে হুট করে মারা যায় না। কমপক্ষে দুই মাস বেঁচে থাকে। এই সময়ের মধ্যে উটটিকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ’ করা যায়। নতুবা জবাই দিয়ে মাংস বিক্রি করা সম্ভব। ফলে কোন রকম অর্থনীতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ নেই। উটের দুধ অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্য। ইসলাম ধর্মমতে সুন্নত। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা উটের দুধের মধ্যে ক্যান্সার, ডায়বেটিস, পাইলস, জন্ডিস, হাপানিসহ প্রায় ২০টি রোগ নিরাময়ের উপাদানের সন্ধান পেয়েছেন। উটের দুধে গরুর দুধের চেয়ে তিনগুণ বেশি ভিটামিন সি, বি রয়েছে। প্রচুর আয়রন আছে। ফ্যাট কম, বেশি ইনসুলিন রয়েছে। উটের মাংসে অসম্পৃক্ত চর্বি বেশি থাকায় রক্তে কোলেস্টরেলের মাত্রা কমায়। হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। উটের চামড়া দিয়ে উন্নতমানের চামড়াজাত পণ্য তৈরি হয়। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো উটের প্রধান খাবার ঘাস, খৈল, ভুসি, খড়। এসব খাবার সহজলভ্য। দামেও সস্তা। তাই উট লালন-পালনে খরচ কম। অন্যদিকে ব্যাপক চাহিদা থাকায় ভাল মূল্য পাওয়া যায়।

উটের খামার করতে চাইলে উট পালনে প্রশিক্ষণ নেয়া দরকার বলে উট পরিচর্যাকারী তসলিম উদ্দিন মনে করেন। মূলধন বেশি লাগে, মরুভূমির প্রাণী উট বাংলাদেশে বাঁচবে না এমন কুসংস্কার এবং উট নিয়ে প্রচার প্রচারণার অভাবে অত্যন্ত লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও উটের বাণিজ্যিক খামার গড়ে উঠছে না। বছরে প্রায় হাজার খানেক উট আমদানি করা হয়। উটের এই সামান্য চাহিদা দেশীয় উৎপাদনে পূরণ করা সম্ভব। এ জন্য সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা, ব্যাংক লোনের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে কেবল দেশীয় চাহিদা পূরণ এবং বেকারত্ব দূর নয়, উটের মাংস, বাচ্চা বিদেশে রফতানি করাও সম্ভব হবে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে উটের মাংসের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

প্রকাশিত : ৩ নভেম্বর ২০১৯

০৩/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: