১৫ নভেম্বর ২০১৯, ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তার আশ্বাস

প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর ২০১৯
  • পরামর্শ সভার পর পরিকল্পনামন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সরকারের এক শ’ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন কাজ চলমান। এ উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় বর্তমান অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে পানি এবং কৃষি ও সেচ খাতে। বাংলাদেশের অনেক নদ-নদীর উৎস প্রতিবেশী দেশগুলো। তাই উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের সব দেশ, সংস্থার সহযোগিতা চায়। বিশেষ করে ভারত, মিয়ানমার, চীন, নেপাল, ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সহযোগিতা চেয়েছে, আরও চাইবে। আর শত বছরের ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে উন্নয়ন সহযোগীরা। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরকারের ১০০ বছরের ডেল্টা পরিকল্পনা নিয়ে উন্নয়ন সহযোগী বিদেশী রাষ্ট্র/সংস্থাগুলোর সঙ্গে পরামর্শবিষয়ক আয়োজন ‘কনসাল্টেশন উইথ ডেভেলপমেন্ট পার্টনার্স অন ইমপ্লিমেন্টশন : বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’তে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

মন্ত্রী বলেন, ডেল্টা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা সবার সাহায্য-সহযোগিতা চেয়েছি, চাই। বিশেষ করে আমাদের প্রতিবেশী যারা আছে ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, চীন; যেখানে থেকে আমাদের নদ-নদীর পানি আসে, তাদের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা আরও বাড়বে এবং এই সহযোগিতার মাধ্যমে এগোতে হবে। মন্ত্রী বলেন, এতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হবে। মূলকথা হলো, এই কাজটা আমরা স্বাবলম্বীভাবে করতে চাই। টাকা ধার প্রয়োজন হবে, এতে কেউ অংশ নিতে চাইলে সানন্দে তাকে স্বাগত জানাব। আমাদের উন্নয়ন সহযোগীরা রয়েছেন, তাদের আমরা স্বাগত জানাব। কিন্তু শেষ আখেরে, আমাদের নিজেদের কাজ নিজেরাই করব। এই বদ্বীপকে রক্ষা করতে হলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করতে হবে, দারিদ্র্যকে মোকাবেলা করতে হবে ইত্যাদি। সেই কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে, আস্তে আস্তে এই কাজ বাড়বে বলেও যোগ করেন মন্ত্রী।

এম এ মান্নান বলেন, দেশের দারিদ্র্য নিরসন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় কাজ করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে। আমরা পঞ্চবার্ষিকীসহ বিভিন্ন পরিকল্পনার মাধ্যমে ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে কাজ করছি।

পরিকল্পনাটি উপস্থাপনের সময় সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম জানান, ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রথম পর্যায় ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ৮০ প্রকল্প নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ ফিজিক্যাল প্রোজেক্ট এবং ১৫ হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক ও দক্ষতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রকল্প।

তিনি আরও জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (এডিপি) আকার ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৫৬৪ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ডেল্টা প্ল্যান সম্পর্কিত প্রকল্প রয়েছে ২৪৮। এসব প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ রয়েছে ২১ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা মোট এডিপি বরাদ্দের ১০ দশমিক ৮১ শতাংশ। এছাড়া এটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ। ড. শামসুল আলম জানান, ডেল্টা প্ল্যান সম্পর্কিত প্রকল্পগুলোতে যা বরাদ্দ রয়েছে তার মধ্যে সরকারী তহবিল থেকে খরচ হবে ১৪ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা আসবে ৭ হাজার ১৪১ কোটি টাকা।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে পানিসম্পদ খাতে সরকারী ব্যয়ের পরিমাণ মোট দেশজ আয়ের শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ, যা ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ অনুসারে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ২০৩০ সাল নাগাদ ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হবে। সীমিত সম্পদ এবং সমন্বিত ব্যয় ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা চিন্তা করে এক্ষেত্রে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর বরাদ্দের সঙ্গে একত্রিত করে ডেল্টা তহবিলের সূচনা করা হবে। বিদেশী প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকেও সরকারের এ এক শ’ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রশংসা করা হয়। তারা এই উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) আবুল কালাম আজাদ, পরিকল্পনা সচিব মোঃ নূরুল আমিন, পানিসম্পদ সচিব কবীর বিন আনোয়ার, কানাডিয়ান হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি মালিহা ডোস্ট, ইউকেএইড-এর দারিদ্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত টিমলিডার জন ওয়ারবার্টন, নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত, নেদারল্যান্ড, মালয়েশিয়া, জাপান, ভারত, চীন, কুয়েত, সৌদি আরব, নরওয়ে, ডেনমার্ক, জার্মানি, সুইডেন, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, এশীয় ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি), বিশ্ব ব্যাংক, কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (সিআইডিএ), ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ডিএফআইডি), জার্মান ডেভেলপমেন্ট কো-অপারশন (জিআইজেড), ইউনাইটেড ন্যাশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি), আইএমএফ, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা এই আয়োজনে অংশ নেন।

প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর ২০১৯

২৪/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: