১৫ নভেম্বর ২০১৯, ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

বাংলাদেশে বিমানের সেফটি রেকর্ড অত্যন্ত সন্তোষজনক

প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর ২০১৯
বাংলাদেশে বিমানের সেফটি রেকর্ড অত্যন্ত সন্তোষজনক
  • ‘আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি’ সেমিনারে প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের বিনিময়ে সংগৃহীত বিমানের উড্ডয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে সবাইকে বিশেষ যত্নবান হতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, পেশাগত দক্ষতা ও সততার কোন বিকল্প নেই। আর দেশের মান-মর্যাদাও এর সঙ্গে জড়িত। আর বিমান উড্ডয়ন একটি উচ্চতর কারিগরি পেশা। এখানে পেশাগত দক্ষতার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। এ দক্ষতা একদিকে যেমন আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে, তেমনি সংশ্লিষ্ট সংস্থার জন্যেও বয়ে আনে সুনাম ও মর্যাদা। আমরা বিশ্বের সঙ্গে আকাশ পথে যোগাযোগ স্থাপন করতে চাই। তাই কষ্টার্জিত অর্থের বিনিময়ে সংগৃহীত এই মূল্যবান বিমানের নিরাপদ উড্ডয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে সবাইকে যত্নবান হতে হবে।

বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী ষষ্ঠ ‘আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি’ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিমান ভ্রমণ আরও নিরাপদ, আরামদায়ক ও সহজতর করতে আমরা বদ্ধপরিকর। এর অংশ হিসাবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। শাহজালালে নতুন টার্মিনাল হওয়ার পর এখনকার চেয়ে প্রায় আড়াইগুণ বেশি অর্থাৎ বছরে প্রায় ১২০ কোটি যাত্রীকে সেবা দেয়া সম্ভব হবে।

তার সরকারের এভিয়েশন সেক্টরের মানোন্নয়নে গৃহীত বিশেষ পদক্ষেপের ফলে এ অঞ্চলের বিমান বাহিনী এবং বেসামরিক বিমানের ফ্লাইট সেফটি রেকর্ড অত্যন্ত সন্তোষজনক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার এভিয়েশন সেক্টরের মান উন্নয়নের জন্য বিশেষ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলে আমাদের বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমানের ফ্লাইট সেফটি রেকর্ড অত্যন্ত সন্তোষজনক।

শেখ হাসিনা বলেন, সম্প্রতি আমাদের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ফ্লাইট সেফটি সমীক্ষায় ঈর্ষণীয় ৭৫ দশমিক ৪৬ ভাগ নম্বর অর্জন করেছে, যা এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সম্প্রতি নিরাপদ উড্ডয়নের মানদ-ে পাঁচ তারকার আন্তর্জাতিক মান অর্জন করেছে এবং আন্তর্জাতিক এভিয়েশন সেফটি এ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটির টেকনিক্যাল রিভিউয়ে ক্যাটাগরি-১ ঘোষণা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই সেমিনারের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘টিম এফোর্ট ক্যান ইনশিউর টিম সেফটি।’ যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, চীন, মালয়েশিয়া, ভারত, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ফিলিপিন্স, সৌদি আরব, মিসর, ওমান, মরক্কো, নাইজিরিয়া, জিম্বাবুইয়ে এবং বাংলাদেশসহ চারটি মহাদেশের ১৬ দেশের বিমানবাহিনীর সদস্য ও আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অথরিটির (আইকাও) প্রতিনিধিরা এবারের সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।

বিগত দুই দিন এখানে বিমান দুর্ঘটনা প্রতিরোধ প্রক্রিয়ার উন্নয়নে দেশী-বিদেশী সামরিক-অসামরিক সব সংস্থার মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি নিরাপদ উড্ডয়ন সংক্রান্ত নতুন নতুন ধারণা নিয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরিটি’র চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মুহাম্মদ মাফিদুর রহমান এবং ফ্লাইট সেফটি বিভাগের পরিচালক এয়ার কমোডর মোহাম্মাদ মোস্তাফিজুর রহমান বক্তৃতা করেন। সেমিনারে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন বিমানবাহিনী প্রধান। বেসামরিক বিমান পরিবহন এবং পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী পরে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখেন। কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থানের কথা মাথায় রেখেই বিমানবন্দরগুলোকে উন্নত করতে চাই। এছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে অধিকতর যোগাযোগ স্থাপনের জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনাও আমরা হাতে নিয়েছি।

সরকারপ্রধান তার বক্তব্যে আরও বলেন, নেপাল ও ভুটানসহ পার্শ¦বর্তী দেশগুলো ও লাগোয়া ভারতের রাজ্যগুলোর ব্যবহারের জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে ‘আঞ্চলিক বিমানবন্দর’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ইতোমধ্যে আমরা সে কার্যক্রম শুরু করেছি। এটা আন্তর্জাতিকমানের একটি বিমানবন্দরে উন্নীত হবে। এ সময় কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে ১২ হাজার ফুটে বর্ধিতকরণসহ সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের উদ্যোগ, বাগেরহাটে খান জাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ ও বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলমান আছে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে তাঁর সরকার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আইন-’১৭ প্রণয়ন করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত পৌনে ১১ বছরে বিমান বহরে আমরা বোয়িং কোম্পানির চারটি অত্যাধুনিক ড্রিমলাইনারসহ মোট দশটি বিমান যুক্ত করেছি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- ৪টি বি-৭৭৭, ২টি বি-৭৩৭ ও ৪ট বি-৭৮৭। অত্যাধুনিক এ উড়োজাহাজ দিয়ে তাঁর সরকার নিউইয়র্ক, টরোন্টো ও সিডনির মতো দূরবর্তী গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করতে আগ্রহী উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই লক্ষ্যে সিভিল এভিয়েশন অথরিটিকে ক্যাটাগরি-১ এ উন্নীতকরণের কাজ এগিয়ে চলেছে।

বাংলাদেশ বিমানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে নতুন দশটি ৭৭৭, ৭৮৭ ও ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজ কেনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে যে, আমরা বিশ্বের সঙ্গে আকাশ পথে যোগাযোগ স্থাপন করতে চাই। আশা করি, নিউইয়র্কসহ দূরবর্তী গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারব। এ বিষয়ে আমরা আগ্রহী। তিনি বলেন, এছাড়া আন্তর্জাতিক এভিয়েশন সেফটি এ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটির টেকনিক্যাল রিভিউয়ে ক্যাটাগরি-১ ঘোষণা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এভিয়েশন সেক্টরের মানোন্নয়নের জন্য বিশেষ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। দেশের বিমানবাহিনী ও বেসামরিক বিমানের ‘ফ্লাইট সেফটি’ রেকর্ড অত্যন্ত সন্তোষজনক। সম্প্রতি আমাদের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আইকাওর ফ্লাইট সেফটি সমীক্ষায় ঈর্ষণীয় ৭৫ দশমিক ৪৬ নম্বর অর্জন করেছে, যা এশীয় দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সম্প্রতি নিরাপদ উড্ডয়নের মানদ-ে পাঁচ তারকার আন্তর্জাতিক মান অর্জন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার গৃহীত পদক্ষেপগুলো বিমান ভ্রমণকে আরও সহজতর করবে ও পৃথিবীর অনেক দেশের সঙ্গে নতুন নতুন ‘রুট’ সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। ফলে দেশের পর্যটন শিল্পের ও দ্রুত বিকাশ ঘটবে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করে নিরাপদ বিমান উড্ডয়ন-চলাচল-অবতরণ নিশ্চিত করে যাচ্ছে। এতে আমাদের বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে পারস্পারিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে, উন্নত যুদ্ধ বিমান, র‌্যাডার এবং অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে একটি শক্তিশালী বিমানবাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশ বিমানকে আধুনিকীকরণের জন্য আমাদের সরকার প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকেই বিমান ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি প্রস্তুত, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের কাজে নিজস্ব সক্ষমতা অর্জনের দিকে মনোনিবেশ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ’১১ সালে বঙ্গবন্ধু এ্যারোনটিক্যাল সেন্টার স্থাপন করেছি। নিকট ভবিষ্যতে এ সেন্টারে যুদ্ধ বিমানসহ বর্তমানে ব্যবহৃত বেসামরিক বিমানও মেরামত করা সম্ভব হবে। বিমান বাহিনীতে ‘স্টেট অব দ্য আর্ট ৩ডি হেলিকপ্টার’ সিমুলেটর স্থাপন করা হয়েছে, যা থেকে আমাদের পাইলটরা ‘রিয়েল টাইম’ ফ্লাইংয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করে বিশেষভাবে উপকৃত হচ্ছেন।

‘ফোর্সেস গোল-৩০’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাঁর সরকার জাতীয় সংসদে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন এ্যান্ড এ্যারোস্পেস ইউনিভার্সিটি’ বিল পাস করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বমানের এভিয়েশন শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়টি অচিরেই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রতিষ্ঠা এবং এর একটি স্বাধীন দেশের উপযোগী করে বিমান বাহিনী গড়ে তোলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করে নিরাপদ বিমান উড্ডয়ন-চলাচল-অবতরণ নিশ্চিত করে যাচ্ছে। আমাদের গৃহীত পদক্ষেপগুলো বিমান ভ্রমণকে আরও সহজতর করবে এবং পৃথিবীর অনেক দেশের সঙ্গে নতুন নতুন রুট সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। সেই সঙ্গে আমাদের পর্যটন শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটবে বলেও আমরা আশাবাদী।

প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর ২০১৯

২৪/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: