১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

পেঁয়াজের বাজার এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক হবে

প্রকাশিত : ২২ অক্টোবর ২০১৯
  • জরুরীভিত্তিতে মিসর ও তুরস্ক থেকে আসছে

এম শাহজাহান ॥ দাম নিয়ন্ত্রণে জরুরী ভিত্তিতে মিসর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আনা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস হবে আমদানিকৃত পেঁয়াজ। মসলা জাতীয় এই পণ্যটি দ্রুত ছাড়করণে বন্দরকে নির্দেশ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে আমদানি মূল্যসহ সব ধরনের খরচ সমন্বয় করে পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করে দেবে সরকার। আশা করা হচ্ছে, ৫০-৬০ টাকার মধ্যেই বিক্রি হবে এসব পেঁয়াজ। অন্যদিকে, খুচরা বাজারে দেশী পেঁয়াজের দাম আরেক দফা বেড়েছে। জাত ও মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১০০-১১৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। আমদানিকৃত বড় সাইজের পেঁয়াজ ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

এদিকে, মিসর ও তুরস্কের পাশাপাশি চীন ও মিয়ানমার থেকে কিছু পেঁয়াজ আনা হচ্ছে। থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামসহ অন্য দেশের বাজার পর্যবেক্ষণ করছে ট্যারিফ কমিশন। তবে দেশী পেঁয়াজের পরই ভারতের পেঁয়াজের বেশি চাহিদা এদেশে। কারণ এসব পেঁয়াজ ঝাঁজালো ও সুস্বাদু। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে পেঁয়াজ সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। আর ভারত ও বাংলাদেশে এটি তরকারিতে মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কারণে মিষ্টি জাতীয় পেঁয়াজের চাহিদা দেশে নেই বললেই চলে। ফলে সব দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে ইচ্ছুক নন ব্যবসায়ীরা। ভারত নিজ দেশের প্রয়োজনে এখন পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে দেশে নতুন পেঁয়াজ উঠবে আগামী এক মাসের মধ্যে। ভারতেও নতুন পেঁয়াজ উঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব ড. মোঃ জাফর উদ্দীন। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, দাম নিয়ন্ত্রণে জরুরী ভিত্তিতে মিসর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আনার জন্য ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। ইতোমধ্যে পেঁয়াজ আমদানির বেশকিছু এলসি সেটেল হয়ে গেছে। এলসি খোলার পরিমাণও সন্তোষজনক। আগামী সপ্তাহ নাগাদ বড় লটের জাহাজগুলো পেঁয়াজ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে। ওই সময় যাতে দ্রুত এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পেঁয়াজ খালাস করা হয় সেজন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। আশা করছি, সরকারী বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে পেঁয়াজের দাম কমে আসবে। তিনি বলেন, প্রতিদিন সারাদেশে ৬ হাজার মে. টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। তাই আমদানির বিকল্প বাজার অনুসন্ধান করা হচ্ছে। ভারতের পাশাপাশি যাতে অন্য সোর্স থেকেও পেঁয়াজ আনা যায় সেজন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নিজস্ব উৎপাদনের পাশাপাশি ভারত পেঁয়াজের বড় উৎস। আশা করছি, ভারতের পেঁয়াজ বাজার শীঘ্রই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তিনি বলেন, রফতানি বন্ধের আগে ভারতের সঙ্গে যেসব এলসি করা হয়েছিল, সেই পেঁয়াজও এখন দেশে আসছে। পেঁয়াজের সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে গত এক মাসে একাধিক বৈঠক করা হয়। সচিবের নেতৃত্বে প্রতি সপ্তাহে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও ঢাকার শ্যামবাজারের বেশ কয়েক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর কারসাজির প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া আমদানিকারকদের মধ্যেও একটি বড় সিন্ডিকেট চক্র রয়েছে। সিন্ডিকেট চক্রের এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বাজারে অনুসন্ধান চালায়। এতে ব্যবসায়ীদের কারসাজির প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার তদারকি টিম, জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরও বাজারে সরব ছিল। সবগুলো সংস্থাই পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির পেছনে কারসাজির প্রমাণ পেয়েছে। বাণিজ্য সচিব আরও বলেন, অতিরিক্ত দাম নেয়া হলেই ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব তদারকি টিম বাজারে কাজ করছে।

প্রকাশিত : ২২ অক্টোবর ২০১৯

২২/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: