১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

বোরহানউদ্দিনের সংঘর্ষ : ময়না তদন্ত ছাড়া নিহতের লাশ দাফন

প্রকাশিত : ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৫৯ পি. এম.
বোরহানউদ্দিনের সংঘর্ষ : ময়না তদন্ত ছাড়া নিহতের লাশ দাফন

নিজস্ব সংবাদাতা, ভোলা ॥ ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশের সাথে মুসুল্লিদের রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষে ৪ জনের নিহতের ঘটনায় এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশের উপর হামলা ও ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় অজ্ঞাত ৪/৫ হাজার আসামী করে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করা হয়েছে। তাছাড়া ফেইসবুকে মহানবী (স) সম্পর্কে কটুক্তি করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ৩ জনের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে। ফেসবুক হ্যাক করে কে বা কোন গোষ্ঠিত,ব্যাক্তি কটুউক্তি মূলক ম্যাসেজ দিয়েছে তা নিশ্চিত না হতেই একের পর এক বিক্ষোভ সমাবেশ করে যাচ্ছে মুসুল্লি ও সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের ব্যানারে ৩টি রাজনৈতিক সংগঠন। অভিযোগ উঠেছে এর নেপথ্যে জামাত শিবিরের নেপথ্যে সম্পৃক্ততা।

সোমবার সকালে সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের নিধার্রিত সমাবেশ তারা স্থগিত করে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে রাস্তায় বসে অবস্থান নেয়। বিক্ষোভ মিছিলে বিএনপি জামায়াত ও বিজেপির নেতাদের নেতৃত্ব দেয় বলেও বলছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষষ তাদের নিধার্রিত সমাবেশ করতে না পেরে সাংবাদিক সম্মেলন করে ভোলার পুলিশ সুপার ও বোরহানউদ্দিনের ওসি’র অপসারণসহ ৬ দাফ দাবি জানিয়ে ৩ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে। একই সাথে তাদের আগামী ৩ দিনের কর্মসূচীও ঘোষনা দেয়।

এদিকে প্রশ্ন উঠেছে একটি ঘটনা নিশ্চিত না হয়ে কেন তৈহেদী জনতার ব্যনারে মুসুল্লিদের সভা শেষ হওয়ার পরও বোরহানউদ্দিনে সংঘাত ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। কেন ৪টি তাজা প্রাণ গেলো। একই সাথে কেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরে ও বাড়িতে হামলা হলো। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই কি এই ধরনের ঘটনা সৃষ্টি করা হচ্ছে এমন নানা প্রশ্ন মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে।

এদিকে সংর্ঘষের ঘটনার শুরু পর থেকে একাধিক ব্যাক্তি নিহত সহ নানা ধরনের গুজব ছাড়ানো হয়। নানা গুজব বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ছড়িয়ে পড়লে গত ২ দিন ভোলায় সাধারন মানুষের মাঝে ব্যাপক উদ্বেগ উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। তবে বর্তমানে ভোলা সদর ও বোরহানউদ্দিনের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইনশৃংখলা বাহিনী সর্তক অবস্থানে রয়েছে।

বোরহানউদ্দিন থানার ওসি এনামুল হক জানান, সংর্ঘষের ঘটনায় নিহত ৪ জনের লাশ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্ত করা হয়েছে। ভোলা সিভিল সার্জন ডা: রথিন্দ্রনাথ মজুমদার জানান, নিহত ৪ জনের কারোরই কোন ময়নাতদন্ত হয়নি। ভোলা সদর হাসপাতালে সোমবার ২ জনের সুরতহাল করা হয়। এর পর তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া অন্য ২ জনকে বোরহানউদ্দিন হাসপাতাল থেকেই নিয়ে যাওয়া হয়।

বোরহানউদ্দিনে ৪ জন নিহত এবং পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় বোরহানউদ্দিন থানার এস আই আবিদ হোসেন বাদি হয়ে রবিবার রাতে অজ্ঞাতনামা ৪ থেকে ৫ হাজার বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন। মামলা নং ১৮/ তারিখ ২০.১০.১৯। কিন্তু এই মামলা এখন পর্যন্ত কোন আটক নেই। এ ছাড়া ওই থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বিপ্লব চন্দ্র শুভ, ঈমন এবং শরিফ ওরফে শাকিলের বিরুদ্ধে পৃথক আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়। তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

ভোলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, আটককৃত বিপ্লব চন্দ্র শুভ কে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে বিপ্লব বলেন, তার মোইবলে হঠাৎ একটি ম্যাসেঞ্জারে লিংক আসে। তখন সে ওই লিংককে ক্লিক করে। তখন তার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড চাইলে সে তা দিয়ে দেয়। তার পর তার ফেসবুক লক হয়ে যায়। অনেক সময় চেষ্টা করেও সে তার লক খুলতে না পারলে তার মোবাইল বন্ধ করে দেয়। বিপ্লবের মোবাইল বন্ধ থাকায় কিছু সময় তার ভাবির মোবাইলে তার এক আতœীয় ফোন দেয়।

ওই আত্মীয় তাকে জানায় তোমার ম্যাসেঞ্জার থেকে কি পাঠিয়েছ। তখন সেই যুবক জানতে পারে। এর পর সে বোরহানউদ্দিন থানায় যায় এবং তার আইডি হ্যাক হয়েছে বলে শুক্রবার রাত ৮.৫ মিনিটে জিডি করে। এর পর রাত ৮ টা ১৭ মিনিটে তার নাম্বার থেকে একটি কল আসে। তার কাছে ২ হাজার টাকা চায় এবং জয়দেবপুর থানার ওসি নাম বলে । যে নাম্বার থেকে ফোন আসে ওই নাম্বারটি শাকিল নামে এক যুবকের।

সে ওই নাম্বারটি ব্যবহার করে। কিন্তু নাম্বারের আইডি রেজিষ্ট্রেশন করা বোরহানউদ্দিনের এক বৃদ্ধা মহিলারার নামে। তখন পুলিশ ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে তাকে মোবাইল নাম্বারের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখন সে বলে আমি কোন মোবাইল ব্যবহার করি না। তা হলে কি ভাবে তার নামে মোবাইল রেজিষ্ট্রেশন হলো প্রশ্ন করা হয়। তখন তিনি বলেন,তার আইডি কার্ড নিয়ে অনেক আগে তার নাতি একটি সিম কিনে। তার নাম ইমন।

তখন ঈমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি বলেন, তিনি বলেন,দের বছর আগে তার মোবাইল নাম্বারসহ সেটিিট তাদের বাড়ির পাশে শাকিল নামে এক যুবকের কাছে বিক্রি করে দেয়। এর পর শাকিলকে পটুয়াখালী কলাপাড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়। শাকিল কলাপাড়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্টোর কিপার হিসাবে চাকুরি করেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে বলেন, ফেসবুকে নবীকে নিয়ে একটি পোষ্ট দেখে সেখান থেকে বিপ্লবের নাম্বার নেয়।

তার পর দুস্টামি করে তার কাছে টাকা চায়। পুলিশ সুপার আরো জানান, হ্যাকার যে আইডিটি হ্যাক করেছে তার পর তার আইডিটি বন্ধ করে দিয়েছে। প্রকৃত কারন বের করতে পারবে ফেসবুক কোম্পানী। তার জন্য আমেরিকায় ফেসবুক কতৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে। ডিজিটাললি প্রুভ হবে কে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

এদিকে পুলিশের গুলিতে নিহত বোরহানউদ্দিন পৌর যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মিরাজ পাটোয়ারির ছোট ভাই হাফেজ মাহাফুজ পাটোয়ারীর লাশ রবিবার রাতে বোরহানউদ্দিনে দাফন করা হয়। নিহত মাহাফুজ ৩ বোন ও ৩ ভাইয়ের মধ্যে সে ছোট। সে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের চরমোনাইপিরের অনুসারী। তার অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারের শোকে মাতম চলছে। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় গুলিতে নিহত মিজানের মরদেহ মনপুরায় নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

পরে দুপুর সোয়া ১ টায় উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ভূইয়ারহাট বাজারে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে জানাযা শেষে মাদ্রাসা সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিহত মাদ্রাসার ছাত্র মোঃ মিজানুর রহমান (১৭) মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন গ্রামের ৯ নং ওয়ার্ডে বাসিন্দা হারুন মিস্ত্রির বড় ছেলে।

দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে নিহত মিজানুর রহমান বড়। জানা যায়, নিহত মাদ্রাসা ছাত্র মিজানুর রহমান ও গুলিবিদ্ধ লোকমান বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা মহিউস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানার কিতাব বিভাগের শরহে জামি (দশম শ্রেণীর) ছাত্র। এছাড়া নিহত শাহিন ও মাহাবুবকে বোরহানউদ্দিনে বিকালে দাফন করা হয় বলে নিশ্চিত করেন বোরহানউদ্দিন থানার ওসি। অন্যদিকে সংর্ঘষ ও গুলিতে আহতদের বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভোলা সদর হাসপাতাল এবং বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল সহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

বোরহানউদ্দিনের স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার পুলিশের সাথে সংর্ঘষ চলাকালে বোরহানউদ্দিন হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাওয়াল বাড়িতে একদল উৎশৃংখল যুবক হামলা চালায়। এসময় মন্দির ভাংচুরের পাশাপাশি রঘুনাথ দাস,সত্য প্রসাদ দাস,সমর দাস,শান্তি রঞ্জন দে, রাজিব রতন দে, নারায়ন চন্দ্র দে,সুজন চন্দ্র দের ঘরে হামলা ও ভাংচুর করা হয়। এসময় রাজিব রতন দের মটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়।

পিয়াস চন্দ্র চৌধুরীর দোকান ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। বোরহানউদ্দিন থানার ওসি এনামুল হক জানান,মন্দিরে ও ভাওয়াল বাড়িতে হামলা হয়েছে। তবে কেউ মামলা দেয়নি। অন্যদিকে খবর পেয়ে আইন ও শালিশী কেন্দ্রের প্রতিনিধি সিনিয়র কো অডিনেটর আবু আহমেদ ফয়জুল কবির মন্দির ও সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা স্থল পরির্দশন করেছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানান।

এদিকে ভোলা থিয়েটারের সাধারন সম্পাদক ও জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ন আহবায়ক আবিদুল আলম বলেন, সর্বদলী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সোমবার সকালে বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্বে জাতীয় পাটি ,জামায়াত এবং বিএনপির নেতারা সরসরি অংশ নেয়। তিনি আরো তারা ধর্মের নামে অপরাজনীতি করার চেষ্টা করে। ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল বলেন,তিনি খবর পেয়ে ঢাকা থেকে বোরহানউদ্দিনে আসনে।

একটি মসজিদের দোতালায় ইমাম সাহেবের রুমে পুলিশের সদস্যরা আশ্রয় নেয়। মানিকা এবং দেউলা সাচরা থেকে একটি মিছিল আসে। সেখান থেকে হামলা হয়। আমাদের আলেম সমাজ হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেস্টা করেছে। আমাদের খুজে বের করতে হবে এর আন্তরালে কোন কিছু আছে কি না। কেউ ঘোলা পানিতে মাছ স্বীকারের চেষ্টা করছে কি না। ভিডিও ফুটেজ আছে। আলেম সমাজকে সহ মুসলিম উম্মার ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করার জন্য নতুন একটা চক্রান্ত বলে প্রতিয়মান বলে এমপি জানান।

এর পিছনে স্বাধীনতা বিরোধী মানবতা বিরোধী জামায়াত শিবির থাকতে পারে। এছাড়া তিনি নিহতের ঘটনায় দু:খ প্রকাশ করে বলেন, একটি চক্রান্ত। ভাওয়াল বাড়িতে ঘটনার সাথে একাধিক বাড়ি হামলা হয়। একটি ঘরে আগুন সহ হামলা লুট মারধর করা হয় বলে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাওয়াল বাড়ির লোকজন জানান। ফায়ার সার্ভিস আগুন নিভায়।

এদিকে সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টায় ভোলার সর্ব দলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ ভোলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে রবিবারের ঘটনার জন্য ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার এবং বোরহানউদ্দিন থানার ওসি এনামুল হকের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। অপর দাবিগুলো হচ্ছে আল্লাহ, নবী রাসুল ও ইসলাম সম্পর্কে কটুক্তিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে, সংঘর্ষে নিহত ৪ পরিবারকে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, আহতদেরকে সরকারি খরচে চিকিৎসা করাতে হবে এবং আটককৃতদেরকে নি:শর্তে মুক্তি দিতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি আরো জানান, তাদের এই সংগঠনের সাথে খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফত আন্দোলন যুক্ত রয়েছে।

এ সময় সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা বশির উদ্দিন জানান, আইনশ্ঙ্খৃলা রক্ষার স্বার্থে তারা পূর্ব ঘোষিত সোমবারের সমাবেশ করেন নি। কিন্তু মঙ্গলবার বিকালে প্রতিটি উপজেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি, বুধবার বেল ১১টায় জেলা শহরে মানববন্ধন এবং বৃহস্পতিবার বিকালে নিহতদের জন্য দোয়া মুনাজাতের কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে তারা আবারও কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি আরো বলেন, তাদের স্থানীয় আলেমদের কিছু গাফলতি ছিলো।

ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা ইয়াকুব আলী চৌধুরী, মাওলানা মো: ইউসুফ , মাওলানা মো: আতাহার আলী , মাওলান তয়বুর রহমান, মাওলানা মহিউদ্দিন, মাওলানা মাহাবুবুর রহমান, সদস্য সচিব মাওলানা তাজুদ্দিন ফারুকী প্রমূখ। অন্যদিকে রবিবার রাতে বোরহানউদ্দিন থানায় মুসুল্লিদের সাথে স্থানীয় ও এমপি প্রশা নের বৈঠকে নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফন, আহতদের চিকিৎসা,নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহযোগীতা, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, তদন্ত সাপেক্ষে আটককৃত বিপ্লবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা সহ ৬ দফা দাবী দেয়া হলে প্রশাসন তা মেনে নেয়। কিন্তু তার পরও সোমবার তারা আবার কর্মসূচী দিয়ে ৬ দফা দাবী দিয়ে আন্দলন শুরু করে।

এদিকে সোমবার ভোর থেকেই জেলা শহরে বিজিবি, র‌্যাব-৮ ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ টহল অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক। নিরাপত্তার স্বার্থে সকাল থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত জেলার সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয় বলে বাস মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়ে বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা। অন্যদিকে সকাল থেকেই ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাবেশস্থলে পুলিশ র‌্যাব অবস্থান নিয়েছে।

ওই মাঠে কাউকে ডুকতে দেয়া হয়নি। তবে সকাল থেকে দলে দলে লোকজন শহরের দিকে আসতে থাকে। এক পর্যায়ে দুপুর সাড়ে ১১ টার দিকে কয়েক হাজার মানুষ শহরের বিক্ষোভ মিছিল করে প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হয়। তারা সর্ব দলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের ব্যানারে প্রেসক্লাব চত্বরে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করে স্লোগান দিতে থাকে। এসময় ওই সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাস্তায় পেপার দিয়ে বসে পড়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। তবে এ সময় কোন অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটেনি।

বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজ শফিকুল ইসলাম জানান,তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তারা বিস্তারিত দেখবে। সর্ব দলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের যে ৬ দফা যে দাবী দেয়া হয়েছে তা কনসান্ট ডিপাটমেনট দেখবে। এছাড়া ফেসবুক কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এক্সপার্ট ফাইন্ডিং দেয়ার পর মন্তব্য করা হবে । এরআগে মন্তব্য করা ঠিক হবে।

প্রকাশিত : ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৫৯ পি. এম.

২১/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: