১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

গণভবনে আরও ৪৩ জনের প্রবেশ নিষিদ্ধ হচ্ছে

প্রকাশিত : ২১ অক্টোবর ২০১৯

শংকর কুমার দে ॥ দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযানে পর্যায়ক্রমে আরও কঠোর হচ্ছে সরকার। গণভবনে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। বিদেশ যাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞাও বাড়ছে। ব্যাংক হিসাব তলব ও জব্দ করার তালিকাও দীর্ঘ হচ্ছে। গণভবনে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এ পর্যন্ত ১২ জনের। আরও অন্তত ৪৩ জনের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। গণভবনে সর্বশেষ তালিকায় যুক্ত হয়েছেন বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু। আবদুল হাই বাচ্চুকে গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত হয়ে যারা বিতর্কিত হয়েছেন তাদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। সরকারের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তুলে ধরতে এটা সরকারের কঠোর মনোভাবের বহির্প্রকাশ। গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেন, দুর্নীতি, অনিয়ম, অপকর্ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রেক্ষিতে যারা বিতর্কিত গণভবনে তাদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। জনগণের মধ্যে যাতে কোন ভুল বার্তা না যেতে পারে সেই জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠার পর প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবন গণভবনে প্রবেশের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয় ছাত্রলীগের সভাপতি (বর্তমানে বহিষ্কৃত) মোঃ রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক (বর্তমানে বহিষ্কৃত) গোলাম রাব্বানীর নাম। বিভিন্ন মাধ্যমে ছাত্রলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ পেয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাতে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের ওপর ভীষণ ক্ষুব্ধ হন প্রধানমন্ত্রী। ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতার ওপর প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানী গণভবনে তার সঙ্গে সাক্ষাত করতে গেলেও দেখা দেননি তিনি। উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতারা তখন দু’জনকে গণভবন থেকে চলে যেতে বলেন।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর গণভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতাকে মনস্টার হিসেবে উল্লেখ করে যুবলীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার ওপর ক্ষেপে গিয়ে বলেন, তারা আরও খারাপ। এরপরই শুরু হয় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযান যা এখনও অব্যাহত আছে। ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতার গণভবনে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করার পর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের মাধ্যম দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযানে গ্রেফতার হন যুবলীগের দক্ষিণ সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ চৌধুরী, জিকে শামীম, শফিকুল আলম ফিরোজ, লোকমান হোসেন, সেলিম প্রধানের মতো রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া রাঘব বোয়াল।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, ক্যাসিনোকা-ে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠার পর যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর গণভবনে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বৈঠকের সিডিউল আনতে যাওয়া এক নেতাকে সাফ জানিয়ে দেয়া হয় যুবলীগের বিতর্কিতরা যেন গণভবনের ওই বৈঠকে না থাকে। এ কারণে যুবলীগের শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করতে গেলেও যেতে পারছেন না ওমর ফারুক চৌধুরী। যুবলীগের চেয়ারম্যান ছাড়াও সংগঠনের একজন প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য ভোলার সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকেও গণভবনে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। তাদের বিদেশে যাওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। ব্যাংক এ্যাকাউন্টস তলব করা হয়েছে তাদের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সরকারী বাসভবন গণভবনে দেখা করার জন্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও অঙ্গ-সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাদের মৌখিকভাবে অনুমতির পাশাপাশি তালিকা দেয়া থাকে। ওই তালিকা থেকে যারা বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ও বিতর্কিত তাদের গণভবনে প্রবেশ করতে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হচ্ছে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি বৈসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির পর এখন পর্যন্ত ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ার প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি দমন কমিশনের তীব্র সমালোচনা করেন। এমনকি যদি দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হন তাহলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে যাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস বলেন, তদন্ত পূর্বক দেখেছি যে বেসিক ব্যাংকের মাধ্যমে ফিন্যান্সিয়াল সেক্টরে, ব্যাংকিং সেক্টরে যে দুর্নীতি হয়েছে, সেটার মূল ব্যক্তি হলেন তৎকালীন বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু। যার কারণে সরকার তাকে সেই ব্যংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত বেসিক ব্যাংক সংক্রান্ত যত দুর্নীতির মামলা হয়েছে, আমরা লক্ষ্য করেছি, শুধু কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ীদের সেই মামলায় সম্পৃক্ত করা হয়েছে। কিন্তু তৎকালীন চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কোন দুর্নীতির মামলা দেয়া হয়নি। বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনায় ইতোমধ্যে ৫৬টি মামলা হয়েছে। আবদুল হাই বাচ্চু ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকার সময় প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর বিদেশ যাত্রার নিষেধাজ্ঞাসহ গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

প্রকাশিত : ২১ অক্টোবর ২০১৯

২১/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: