১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

সাগর-রুনী হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে হাইকোর্টে তলব

প্রকাশিত : ২১ অক্টোবর ২০১৯
  • ৬ নবেম্বর সিডিসহ হাজির হওয়ার নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে (আইও) তলব করেছে হাইকোর্ট। রবিবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আগামী ৬ নবেম্বর সিডিসহ মামলার আইও র‌্যাবের এএসপি মহিউদ্দিনকে হাজির হতে বলা হয়েছে। সাগর-রুনী হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে অভিযোগ ওঠা তানভীর রহমানের নামের এক ব্যক্তির মামলা বাতিল চেয়ে করা আবেদনের শুনানিতে এ আদেশ দেয়া হয়। আবেদনকারীর ক্ষেত্রে ওই মামলার কার্যক্রম কেন বাতিল করা হবে না- তা জানতে চেয়ে দুই সপ্তাহের রুলও জারি করেছে আদালত। আদালতে তানভীরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ সারওয়ার হোসেন। ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, দীর্ঘ ৮ বছর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে এসেছে। তানভীরের ক্ষেত্রে মামলাটির কার্যক্রম কেন বাতিল করা হবে না এ মর্মে রুল দিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছেন আদালত। অন্যদিকে ফাওজিয়া করিম ফিরোজ পরে সাংবাদিকদের বলেন, এখন পর্যন্ত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়নি। আমাদের প্রার্থনা ছিল- এই ব্যক্তি কত বছর আদালতে ঘুরবে। এ কারণে দ্রুত প্রতিবেদন দেয়া উচিত, দ্রুতবিচার শুরু হওয়া উচিত। না করতে পারলে তাকে (তানভির রহমানকে) অব্যাহতি দেয়া উচিত। এটা শুনে আদালত ৬ নবেম্বর তদন্ত কার্মকর্তাকে মামলার সম্পূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে আদালতে আসতে বলেছেন। প্রায় আট বছরে পুলিশ ও র‌্যাবের ছয় কর্মকর্তার হাত ঘুরলেও শেষ হয়নি সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনী হত্যাকা-ের তদন্ত।

এর আগে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনী হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ ৬৮ বারের মতো পেছাল। ১ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। এদিনও প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি র‌্যাব। তাই ঢাকার মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস ১৪ নবেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেন। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুনী তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনীদের গ্রেফতারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা পাল্টেছে বহুবার।

এ ঘটনায় নিহত রুনীর ভাই নওশের আলী রোমান বাদী হয়ে শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথমে মামলাটির তদন্ত করেছেন শেরে বাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই)। ২০১২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলাটির তদন্তের জন্য ডিবি উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মোঃ রবিউল আলম তদন্তভার গ্রহণ করেন। দুই মাস পর হাইকোর্টের আদেশে মামলাটির তদন্ত দেয়া হয় র‌্যাবকে। ওইদিন থেকে এখন পর্যন্ত ৬৮ বার সময় নিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা। মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার ৮ জনের কেউই এখন পর্যন্ত হত্যার দায় স্বীকার করেনি। মামলার আসামিদের মধ্যে দুইজন তাদের বাড়ির দারোয়ান পলাশ রুদ্র পাল ও কথিত বন্ধু তানভীর রহমান জামিনে রয়েছেন। অন্য ছয় আসামি মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু, বকুল মিয়া, কামরুল হাসান অরুণ, রফিকুল ইসলাম, এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবিল ও আবু সাঈদ কারাগারে আটক।

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে সাগর-রুনীর ভাড়া বাসার নিরাপত্তা প্রহরী এনামুল হক ও পলাশ রুদ্র পাল ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেন। এর আগে ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মোঃ সাইদ, মিন্টু, কামরুল হাসান অরুণ ও নিহত দম্পতির বন্ধু তানভীর রহমান এ পাঁচজনকে মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক নারায়ণ চন্দ্র হত্যার ঘটনায় র‌্যাব ও ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। মামলায় এ পর্যন্ত ১৫৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে র‌্যাব। চাঞ্চল্যকর মামলাটির বর্তমানে তদন্ত করছেন র‌্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন আহম্মেদ। গত বছরের ২৫ নবেম্বর মামলার তদন্তভার তার উপর ন্যস্ত হয়।

প্রকাশিত : ২১ অক্টোবর ২০১৯

২১/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: