১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

ডিআইজি প্রিজন্স বজলুর রশীদ গ্রেফতার

প্রকাশিত : ২১ অক্টোবর ২০১৯
  • তিন কোটি আট লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তিন কোটি ৮ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে কারা অধিদফতরের উপ-মহাপরিদর্শক বজলুর রশীদকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক পরিচালক মোঃ ইউসুফের নেতৃত্বে একটি টিম তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় উপ-পরিচালক মোঃ নাসির উদ্দিন ও সালাউদ্দিন আহমেদও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে সংবাদপত্রের তথ্য অনুসারে তার সঙ্গে ডিআইজি প্রিজন্সের কোন সম্পর্ক রয়েছে কিনা তা জানতে গাজীপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার নেসার আলমকে দুদক টিম জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বিদায় দেয়। রবিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় প্রধান কার্যালয়ে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয় বলে দুদকের সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এর আগে একইদিনে বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে কমিশনের সম্মিলিত ঢাকা জেলা কার্যালয়-১ এ দুদকের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে অসাধু উপায়ে অর্থ উপার্জনের অভিযোগে দুদক আইনের ২০০৪-এর ২৭ (১) ধারায় মামলা দায়ের করেন।

কারা বিভাগের ১৯৯৩ ব্যাচের কর্মকর্তা বজলুর রশীদ বর্তমানে ঢাকায় কারা সদর দফতরের কারা উপ-মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ডিআইজি হিসেবে এর আগে সর্বশেষ রাজশাহীতে ছিলেন। জেল সুপার পদে বরগুনায় কর্মজীবন শুরু করে সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, কক্সবাজার ও খাগড়াছড়ি এবং জ্যেষ্ঠ জেল সুপার হিসেবে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্মরত ছিলেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ঢাকার সিদ্বেশ্বরী রোডে রূপায়ন হাউজিংয়ের স্বপ্ন নিলয় প্রকল্পের দুই হাজার ৯৮১ বর্গফুট আয়তনের একটি এ্যাপার্টমেন্ট কেনেন বজলুর রশীদ। এর দাম হিসেবে পরিশোধ করা তিন কোটি ৮ লাখ টাকার কোন বৈধ উৎস তিনি প্রদর্শন করতে পারেননি। এমনকি এ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়সংক্রান্ত কোন তথ্যও তার আয়কর নথিতে প্রদর্শন করেননি। ফলে তার এই পরিশোধিত তিন কোটি ৮ লাখ টাকা জ্ঞাতআয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।

এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল এ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য রূপায়ন হাউজিং এস্টেটের সঙ্গে বজলুর চুক্তি করেছিলেন। এরপর ২০১৮ সালের ৭ জুন পর্যন্ত ৫৪ হাজার টাকা ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মাধ্যমে চেকে পরিশোধ করেন। আর বাকি তিন কোটি ৭ লাখ ৪৬ হাজার টাকা নগদে পরিশোধ করেন। অভিযোগপত্রে এসএ পরিবহনের মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকা কুরিয়ার করার ২৪টি রশিদের কথা উল্লেখ করা হয়। জানা যায়, কারা অধিদফতরে অফিস সহকারী, স্টোরকিপার, দর্জি মাস্টার, গাড়িচালকসহ বিভিন্ন লোক নিয়োগের ক্ষেত্রেও ঘুষ লেনদেনে ডিআইজি প্রিজন্স ও তার স্ত্রী জড়িত। এর আগে রবিবার সকাল ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত বজলুর রশীদ ও তার স্ত্রী রাজ্জাকুন নাহারকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে দুদক। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানোর অভিযোগে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানেই তার অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি দুদকের নজরে আসে।

কারা সূত্র জানায়, গণমাধ্যমে ঘুষ-দুর্নীতির রিপোর্ট গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা অধিদফতরে এ নিয়ে করণীয় নির্ধারণে পৃথক বৈঠক করে। এরপর এদিন বিকেলেই কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তফা কামাল পাশা বজলুর রশীদকে এ নিয়ে শোকজ করেন। একইসঙ্গে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে জবাব দিতে বলা হয়। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের একটি টিম কারা সদর দফতরে এসে ডিআইজি বজলুর রশীদকে প্রতিবেদনে উঠে আসা নানা তথ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। টিমে সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব প্রদীপ চক্রবর্তী, উপসচিব মনিরুজ্জামান ও অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল আবরার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ সংক্রান্ত কোন কাজে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তা জানতে গাজীপুরের জেলা কারাগারে জেল সুপার নেসার আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার মতামত নেয় কমিটি। কারা সূত্র জানায়, এ সময় বজলুর রশীদ নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ের বজলুর রশীদ বলেন, কোন প্রকার ঘুষ প্রদানের জন্য নয় একজন কারা কর্মকর্তাকে বিপদ থেকে বাঁচাতেই নাকি রাজধানীর একটি হোটেলে সাংবাদিকের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। প্রায় ১ ঘণ্টা মন্ত্রণালয়ের টিম তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত সাংবাদিকদের বলেন, বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে নিয়োগের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ আদায়ের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছিল। সেটির পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদক কার্যালয়ে ডাকা হয়। বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।

গত ৬ অক্টোবর একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, বিপুল পরিমাণ ঘুষের টাকা স্থানান্তর করতে ডিআইজি প্রিজন্স (হেডকোয়ার্টার্স) বজলুর রশীদ অভিনব এক পন্থা বেছে নিয়েছেন। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে শতাধিক ধাপে তিনি পাঠিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা। টাকা তুলেছেন তার স্ত্রী রাজ্জাকুন নাহার। এজন্য প্রকৃত ঠিকানা গোপন করে স্ত্রীর নামে সিম তোলা হয়েছে এবং সরাসরি নিজে টাকা না পাঠিয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির মাধ্যমে ওই টাকা পাঠানো হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়।

প্রকাশিত : ২১ অক্টোবর ২০১৯

২১/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: