১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

যবিপ্রবিতে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃতির প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল

প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪:৩৭ পি. এম.
যবিপ্রবিতে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃতির প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ২০১৮ ও ২০১৯ সালের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ‘বিকৃত’ করার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। আজ রবিবার হাইকোর্টে প্রতিবেদনটি দাখিল করা হয়েছে। প্রাথমিক শুনানি শেষে আগামী ৩ নবেম্বর পূনাঙ্গ শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।

এসময় আদালত বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি প্রফেসর আনোয়ার হোসেন, রেজিস্টার ইঞ্জিনিয়ার আহসান হাবিবসহ সংশ্লিষ্টরা এই ছবি ‘বিকৃত’ করার দায় এড়াতে পারেন না।’

হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত এই কমিটির প্রতিবেদনটি রবিবার বিচারপতি এস আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের বেঞ্চে দাখিল করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে আদালত এ ঘটনা তদন্ত করতে বলেছিলেন। সেই অনুসারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দিয়ে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত আগামী ৩ নবেম্বর পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে শৈথিল্য প্রদর্শনের সুযোগ নাই। কারণ জাতির পিতা এবং প্রধানমন্ত্রী ছবি বিকৃত করা হয়েছে।’ রবিবার শুনানীতে বাদিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল সিনিয়র আইনজীবী এম কে রহমান ও শামীম সরদার।

যবিপ্রবির চলতি বছরের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি আপত্তিকরভাবে উপস্থাপন করে অবমাননা করা হয়। এজন্য যশোর আদালতে ৫০০ কোটি টাকার একটি মানহানির মামলা করেন যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল। মামলাটি এখন বিচারাধীন। এরই মধ্যে আনোয়ার হোসেন বিপুল উচ্চ আদালতে একটি পিটিশন দায়ের করেন। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেন।

এরপর মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সচিব বেলায়েত হোসেন তালুকদারকে আহবায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির সদস্য করা হয় যুগ্ম-সচিব আহমদ শামীম আল রাজী ও উপ-সচিব আ ন ম তরিকুল ইসলামকে।

কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, উপাচার্যের (ভিসি) লিখিত বক্তব্য, উপস্থিত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য, ভিসি কার্যালয়ে রক্ষিত কাগজপত্র ও পরিবেশ পরিস্থিতি এবং এ রিট দাখিলকারীর বক্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। তাছাড়া ডেস্ক ক্যালেন্ডারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সার্বিক পর্যালোচনায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ২০১৮ সালের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ছবি এবং ২০১৯ সালের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ছবি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে তারা দায়িত্ব পালন করেননি।

তদন্ত প্রতিবেদনের মন্তব্য অংশে বলা হয়, এক- ২০১৮ সালের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে জাতির জনকের ছবির উপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির নাম লেখা সমীচিন হয়নি। এজন্য কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।

দুই- ২০১৯ সালের ডেস্ক ক্যালেন্ডার পুনঃমুদ্রিত। পূর্বের (প্রথম) প্রিন্ট করা কপিতে জাতির জনকের ছবি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছিদ্র করে স্পাইরাল বাইন্ডিং করা হয়েছে। এছাড়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি (ছবির মাথা কেটে) বিকৃত করা হয়েছে। তা প্রথম মুদ্রিত ডেস্ক ক্যালেন্ডার থেকে স্পষ্টতই প্রমাণ পাওয়া যায়।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে ক্ষেত্রে যে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত ছিল, তা করেননি। এক্ষেত্রে কোনোভাবেই তারা দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। তাদের ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বর করা উচিত ছিলো।

প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪:৩৭ পি. এম.

২০/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: