১৫ নভেম্বর ২০১৯, ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

কাউন্সিলর রাজিব গ্রেফতার, যুবলীগ থেকে বহিষ্কার

প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ১১:৩৪ এ. এম.
কাউন্সিলর রাজিব গ্রেফতার, যুবলীগ থেকে বহিষ্কার

অনলাইন রিপোর্টার ॥ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কাউন্সিলর যুবলীগ নেতা তারেকুজ্জামান রাজিবকে ‘সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের’ অভিযোগে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

শনিবার রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে রাজিবকে গ্রেফতার করার পর তাকে সঙ্গে নিয়ে মোহাম্মদপুরে তার বাসা ও অফিসে র‌্যাবের অভিযান চলে।

রাতভর এই অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও মদ উদ্ধারের পাশাপাশি রাজিবের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে বলে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম জানিয়েছেন।

মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দা রাজিব ঢাকা উত্তরের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের (মোহাম্মদপুর-বসিলা এলাকার) কাউন্সিলর। যুবলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তিনি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রাজীব গ্রেফতার হওয়ার পর রাতেই তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করার কথা জানিয়েছে যুবলীগ।

গত মাসের মাঝামাঝি ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর যুবলীগের অনেক নেতার মত গা ঢাকা দিয়েছিলেন রাজিব। এরপর তার খোঁজ শুরু হয় বলে র‌্যাবের মুখপাত্র সারোয়ার বিন কাশেম জানান।

বুসন্ধরা আবাসিক এলাকার ৮ নম্বর সড়কের ৪০৪ নম্বর ভবনে এক বন্ধুর বাসায় রাজিবের অবস্থানের খবর পেয়ে শনিবার সন্ধ্যার পর ওই বাড়ি ঘিরে ফেলেন র‌্যাব সদস্যরা। সেখানে অভিযান শেষ করে রাত সোয়া ১টার দিকে রাজিবকে নিয়ে নিচে নামেন তারা।

সারোয়ার বিন কাশেম সেখানে সাংবাদিকদের বলেন, রাজিবের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ রয়েছে তাদের হাতে। কিন্তু এই কাউন্সিলর আত্মগোপনে চলে যান এবং গত ১৩ অক্টোবর বসুন্ধরা আবাসিকের ওই বাসায় ওঠেন। ওই ফ্ল্যাটের মালিক রাজিবের এক বন্ধু, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।

ভবনের অষ্টম তলার ওই ফ্ল্যাট থেকে একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, সাত বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে রাজিবের পাসপোর্ট ও ৩৩ হাজার টাকা জব্দ করার কথা জানান র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম।

তিনি বলেন, “ওই ফ্ল্যাটে রাজিব একাই ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা দরজায় নক করলে তিনি খুলে দেন। কোনো ঝামেলা হয়নি।”

রাজিবকে ওই ফ্ল্যাট থেকে বের করে রাত সোয়া ২টার দিকে তাকে নিয়ে মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটিতে যান র‌্যাব সদস্যরা। ওই আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ৩৩ নম্বর ভবনে রাজিবের বাসায় প্রায় দেড় ঘণ্টা অভিযান চলে।

বাসা থেকে ভোর ৪টার দিকে রাজিবকে সঙ্গে নিয়ে মোহাম্মদপুরের চানমিয়া হাউজিংয়ে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে যান র‌্যাব সদস্যরা। সেখানে অভিযানের সময় সহযোগিতা না করা এবং আলামত নষ্ট করার অভিযোগে অফিস সহকারী সাদেক অহমেদকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযান শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, “বাসায় তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত যেসব ডকুমেন্ট ছিল, সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

“পরে তার একজন সহযোগীর আত্মীয়র বাসা থেকে টাকা জমা দেওয়ার রশিদ উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, একটি অ্যাকাউন্টে গত ২৬ অগাস্ট ৫ কোটি টাকা জমা দিয়েছেন তিনি।”

সারোয়ার আলম বলেন, রাজিবের বিরুদ্ধে ভাটার থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটো মামলা হবে। তার বিরুদ্ধে অন্য যেসব অভিযোগ এসেছে, সেগুলোও তদন্ত করে দেখা হবে।

“যে বাড়িতে তিনি থাকেন, ওই ডুপ্লেক্স ভবনটির দাম প্রায় ১০ কোটি টাকা। তার যে আয়, তার সঙ্গে এটা সঙ্গতিহীন। অর্থাৎ অবৈধ আয় দিয়ে তিনি এসব করেছেন “

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, জমি কেনাবেচা করে এমন তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রাজিবের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েছেন তারা।

“এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত থেকে মূলত জমি দখলের কাজটি সে করত। কোনো ভুক্তভোগী জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে আমাদের কাছে এলে আমরা তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব।”

যে ব্যাংকে রাজিবের পাঁচ কোটি টাকা জমা দেওয়ার রশিদ পাওয়া গেছে, সেখানে খোঁজ নিয়েও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

শনিবার রাতে রাজিব গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে যুবলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করার কথা জানান সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ।

তিনি বলেন, “চলমান অভিযানে যুবলীগের কেউ দুর্নীতি বা অন্য কোনো কারণে গ্রেফতার হলে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা ছিল আমাদের। সেই মোতাবেক রাজিবকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”

রাজিব এর আগেও একবার সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। ২০১৫ সালে এক মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করায় মোহাম্মদপুর থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার ফকিরাপুল-মতিঝিল এলাকার কয়েকটি ক্রীড়া ক্লাবে র‌্যাবের অভিযানের পর অবৈধভাবে ক্যাসিনোর কারবারে যুবলীগ নেতাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর যুবলীগের ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটসহ সংগঠনটির বেশ কয়েকজন নেতাকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়।

এই অভিযানের মধ্যে মোহাম্মদপুরের আরেক আলোচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তার কাছ থেকে এক কোটি টাকার এফডিআর, পৌনে সাত কোটি টাকার চেক, নগদ দুই লাখ টাকা ও চার রাউন্ড গুলিসহ একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচিত ফকিরাপুল-মতিঝিল এলাকার কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ অভিযান শুরুর আগেই বিদেশে চলে যান। তাকেও দায়িত্ব থেকে অপসারণ করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ১১:৩৪ এ. এম.

২০/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

জাতীয়



শীর্ষ সংবাদ: