২২ নভেম্বর ২০১৯, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

পাবজি গেম দিনে বন্ধ করে রাতে খুলে দেয়া হলো

প্রকাশিত : ১৯ অক্টোবর ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানি ব্লুহোল এর তৈরি করা অনলাইন গেম পাবজি (প্লেয়ার আননোনস ব্যাটলগ্রাউন্ড) বাংলাদেশে বন্ধ করার পর আবার খুলে দেয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, রিভিউ করে গেমটি আবার খুলে দেয়া হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী এবং ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি এ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ থেকে বাংলাদেশে পাবজি বন্ধের বিষয়টি জানানো হয়। এর আগের খবরে বলা হয়েছিল সহিংস বিষয়াদি থাকায় ‘প্লেয়ার আননোনস ব্যাটলগ্রাউন্ড’ বা পাবজিসহ মোট চারটি অনলাইন গেম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে আগের বন্ধ করা তিনটি গেম নিষিদ্ধই রয়েছে। গেমগুলো হচ্ছে কল অব ডিউটি, রেডিট ও পাবজি লাইট। এসব গেম খেললে শিশু, কিশোর, কিশোরী এমনকি যুবকদের মধ্যেই বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পুলিশের সাইবার বিভাগ। এজন্য গেমটির সার্বিক বিষয়বস্তু পর্যালোচনা শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি এ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের সুপারিশে গেমগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করেছে বিটিআরসি (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন)।

ডিএমপি সাইবার সিকিউরিটি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে একাধিক ব্যক্তি মিলে গেমটি খেলতে হয়। গেমের সার্বিক বিষয়বস্তু ও জায়গা হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে নির্জন দ্বীপকে। নির্জন দ্বীপে অন্যদের হত্যা করে নিজেকে টিকে থাকতে হয় গেমটিতে। শেষ পর্যন্ত যে ব্যক্তি বা দল জীবিত থাকে, সেই বিজয়ী হয়। দেশের অনেক শিশু, কিশোর, কিশোরী এমনকি তরুণ-তরুণীরা পর্যন্ত গেমটিতে দিনকে দিন আসক্ত হয়ে পড়ছে। তাদের মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই প্রায় দুই মাস পর্যবেক্ষণ শেষে ব্লু হুইল গেমের মতোই গেমগুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি এ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যেই অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানরা সদ্য নিষিদ্ধ হওয়া চারটি গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছিল বলে অভিযোগ দেয়। অভিযোগকারীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকও আছেন। গেমটি খেলার কারণে শিক্ষার্থীদের মন পড়াশোনা থেকে সরে সহিংসতার দিকে যাচ্ছে বলেও কোন কোন অভিভাবক অভিযোগ করেছেন।

ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি এ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের উপ-কমিশনার আ ফ ম আল কিবরিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জনকণ্ঠকে বলেন, এটি একটি কল্পনার জগত। এখানে সবই কাল্পনিক। এসব কাল্পনিক বিষয়বস্তু অল্প বয়সী খেলোয়াড়দের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনেক সময় গেমে আসক্ত হয়ে কেউ কেউ গেমে থাকা চরিত্রের মতো আচার-আচরণ করতে থাকে। যেটি মোটেই কোন স্বাভাবিকতা না। এজন্য সার্বিক পর্যালোচনা শেষে গেম চারটি নিষিদ্ধ করতে বিটিআরসি বরাবর সুপারিশ করা হয়। বিটিআরসি গেম চারটি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি বন্ধ করে দেয়। পুলিশের একটি দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, পাবজি বন্ধের আলোচনা শুরু হয় এপ্রিলে। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে বন্দুক দিয়ে মসজিদে মুসলমানদের হত্যা এবং সেই দৃশ্য ফেসবুক লাইভের বিষয়টি অনেকেই পাবজির সঙ্গে তুলনা করেন। চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল নেপালে পাবজি নিষিদ্ধ করে দেশটির আদালত। তারই ধারাবাহিকতায় ভারতের গুজরাটেও গেমটির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। গেমটি খেলার জন্য কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। ২০১৭ সালে চালু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী গেমটি ১০ কোটিরও বেশিবার ডাউনলোড হয়েছে।

প্রকাশিত : ১৯ অক্টোবর ২০১৯

১৯/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: