১৫ নভেম্বর ২০১৯, ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

এমন হত্যাকান্ড চাই না ॥ যারা শিশু নির্যাতন করবে তাদের কঠোর সাজা

প্রকাশিত : ১৯ অক্টোবর ২০১৯
এমন হত্যাকান্ড চাই না ॥ যারা শিশু নির্যাতন করবে তাদের কঠোর সাজা
  • শেখ রাসেলের জন্মদিনের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী
  • স্মৃতিচারণ করতে আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, বাবা বঙ্গবন্ধুর মতোই দরদী মন ছিল তার

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা শিশু নির্যাতনকারীদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, আমরা চাই না আর কোন শিশু এভাবে হত্যাকান্ডের শিকার হোক। প্রত্যেক অন্যায়-অবিচারের সঙ্গে জড়িতদের বিচার হবে। কাজেই যারা এ ধরনের শিশু নির্যাতন বা শিশু হত্যা করবে তাদের কঠোর থেকে কঠোরতর সাজা পেতে হবে, অবশ্যই পেতে হবে। শিশুদের প্রতি কোন অন্যায়-অবিচার বরদাশত করা হবে না। আর শিশুদের সততা নিয়ে নিজেদের বড় হতে হবে। সততা থাকলে কারো কাছে মাথা নত করতে হয় না। সততার মধ্যে এক অন্যরকম শক্তি থাকে। শিশুদের সব ধরনের অন্যায় দিক এবং জঙ্গী-সন্ত্রাস-মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে।

শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের জন্মদিনে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের সব শিশু-কিশোরের প্রতি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে অতিপ্রিয় ছোট ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বার বার অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন বড় বোন শেখ হাসিনা। পুরো সম্মেলনস্থল ছেয়ে যায় পিনপতন নীরবতায়। এক সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়লে সম্মেলনস্থলে উপস্থিত শত শত শিশু-কিশোরও নিজেদের অশ্রু সংবরণ করতে পারেনি।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, পিতা বঙ্গবন্ধুর মতোই মানুষের প্রতি দরদী মন ছিল শেখ রাসেলেরও। আজকে শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে হয়ত দেশের জন্য অনেক কিছু করত। মাঝে মাঝে মনে হয় ৫৪ বছর বয়সে কেমন দেখতে হতো শেখ রাসেল? এ সময় তার দু’চোখ বেয়ে ঝড়ছিল বেদনার অশ্রু, কিছু সময় থেমে যায় তার বক্তৃতা। বার বার রুমালে চোখ মুছে আবেগ সামাল দিতে দেখা যায় বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে। ১৯৬৪ সালে জন্মের পর থেকে শেখ রাসেলের বেড়ে ওঠা, আন্দোলনের জন্য কারাগারে থাকায় পিতার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে পিতা-মাতা, অন্য ভাইদের সঙ্গে ছোট শিশু শেখ রাসেলকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যাকান্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে বার বার আবেগে জড়িয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী।

সম্প্রতি সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পিতার হাতে নিষ্ঠুরভাবে হত্যাকা-ের শিকার হওয়া তুহিনের বিষয়টি উল্লেখ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন বাবা হয়ে অন্যকে ফাঁসাতে নিজের শিশুকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে। কী বিকৃত মানসিকতা! কিছুদিন হলো দেখা যাচ্ছে শিশুদের ওপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শিশু শেখ রাসেল হত্যাকা-ের যদি বিচার করা হতো, তবে হত্যাকারীদের মনে কিছুটা হলেও ভয়-ভীতি থাকত। কিন্তু আমরা পিতা-মাতা-ভাইদের হত্যার বিচার চাইতে পারিনি, হত্যাকারীদের বিচার না করে উল্টো খুনীদের পুরস্কৃত ও পুনর্বাসিত করা হয়েছে। বিচার যাতে না হয় সেজন্য আইন পর্যন্ত করা হয়েছিল। হত্যাকারীদের বিচার না করার প্রভাব সমাজে কিছুটা হলেও পড়েছে।

এ প্রসঙ্গে একাত্তর ও পঁচাত্তরের হত্যাকা-ের বিচারের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার হবে না। এ আইন করে খুনীদের বিচারের হাত থেকে মুক্ত করে পুরস্কৃত করা হয়েছিল। আমি যখন দেশে ফিরে আসি তখন মামলা করতে চেয়েছিলাম। আমাকে বলা হলো মামলা করা যাবে না। অর্থাৎ আমি আমার মায়ের হত্যার বিচার পাব না, আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার পাব না। আমার বাবার হত্যার বিচার পাব না।

তিনি বলেন, আমরা কিছুদিন ধরে দেখছি, শিশুদের ওপর অমানবিক অত্যাচার। এই যে সমাজে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। সেই সময় যদি শিশু হত্যাকারী, নারী হত্যাকারীর বিচার করা হতো তাহলে অন্তত মানুষের ভেতরে একটা ভয় থাকত। এই ধরনের মানসিকতা গড়ে উঠত না। তিনি বলেন, কী আর্শ্চয ঘটনা, অদ্ভুত ব্যাপার। বাবা হয়ে সন্তানকে হত্যা করে অন্যকে ফাঁসানোর জন্য। কী বিকৃত মানসিকতা এই দেশের মানুষের মাঝে। আমরা চাই আর কোন শিশু যেন এই ধরনের হত্যার শিকার না হয়। প্রত্যেকটা শিশু যেন সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে। প্রত্যেকটা শিশুর জীবন যেন অর্থবহ হয়, সেটিই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। আর শিশুরা যেন ঝুঁকিপূর্ণ কোন কাজ না করে সেই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের শিক্ষাদীক্ষায় গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়নের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। পাশাপাশি ঝরেপড়া শিশুদেরও শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা থেকে যারা এতিম, যাদের সমাজে কেউ দেখার নেই তাদের জন্যও বিভিন্ন কর্মসূচী নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা প্রতিবন্ধী বা যারা অটিজমে ভুগছে, এ শিশুদের তো কোন দোষ নেই। আমি আজকে শিশুদের উদ্দেশে বলব, তোমরা যারা ছোট এখনও, তোমাদের আশপাশে যখন দেখবা কেউ প্রতিবন্ধী বা অটিস্টিক অথবা দরিদ্র তাদের কখনও অবহেলা করো না। তাদের আপন করে নিও, তাদের পাশে থেকো। তাদেরকে সহযোগিতা করো। কারণ তারাও তো তোমাদের মতনই একজন। কোনভাবে তারা যেন অবহেলার শিকার না হয়। আমরা ছোটবেলা থেকেই পড়েছি- কানাকে কানা বলিও না, খোঁড়াকে খোঁড়া বলিও না। আসলে এসব বলা নিষ্ঠুরতা। এটি বলা অমানবিকতা। আমাদের শিশুরা নিশ্চয় তা করবে না। শিশুদের মনন, প্রতিভা ও মেধা বিকাশে সরকারের পক্ষ থেকে খেলাধুলাসহ বিভিন্ন কর্মসূচী নেয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের সকল শিশু-কিশোরকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সব সময় সততা নিয়ে নিজেদের বড় করে তুলবে। অন্যদের জামা-কাপড়, গাড়ি-বাড়ি দেখে নিজেকে কখন ছোট মনে করবে না। সব সময় মনে রাখবে, সততা নিয়ে জীবনযাপন করলে মনের মধ্যে এক অন্যরকম শক্তির সঞ্চার হয়। কারোর কাছে কোনদিন মাথা নত করে চলতে হয় না। আর প্রত্যেক শিশুর মধ্যে লুপ্ত থাকা মেধা, মনন, চেতনা ও যে শক্তি রয়েছে তাকে বিকশিত করতে হবে। লেখাপড়া, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিকসহ সবদিক থেকে নিজেদের গড়ে তুলবে, সেটাই হবে তোমাদের সব বড় শক্তি। শুধু নিজেরা কি খাব সেটা নয়, অন্য দরিদ্র শিশুর জন্য কি করতে পারলে সেটাও বড় কথা। প্রয়োজনে নিজের খাবার ভাগ করে খাওয়াবে। বঙ্গবন্ধুর মতো এ গুণটা শেখ রাসেলের মধ্যেও ছিল। সব শিশুর মধ্যেও এই গুণটা থাকতে হবে।

শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ সংগঠনটি গড়ে তোলার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৮৯ সালে আমরা এ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলাম শিশুদের নিয়ে শিশু সংগঠন হিসেবে পাশে থাকার জন্য। সেই প্রতিষ্ঠানটি আজকে অনেক বড় হয়েছে এবং এই প্রতিষ্ঠানের অনেক ছেলেমেয়ে আজকে কত বড় হয়ে গেছে। তারা অনেকেই জীবনের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। আজকে রনি (সঞ্চালক) ওখানে ঘোষণা দিচ্ছে, সে ব্যারিস্টার হয়ে এসেছে। ঠিক এ রকমভাবে আমাদের শিশু-কিশোর পরিষদের অনেক ছেলেমেয়ে সমাজের বিভিন্ন জায়গায় তারা তাদের স্থান করে নিতে পেরেছে।

সংগঠনের শিশু-কিশোরের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, সংগঠন করার মধ্য দিয়ে আরেকটি বিষয়, একটা দেশপ্রেম, কর্তব্যবোধ এবং অধিকারবোধ, এটাও কিন্তু থাকতে হবে। কারণ এই দেশটা আমাদের। এই দেশটাকে আমাদের গড়ে তুলতে হবে। সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের মযার্দাপূর্ণ হিসেবে, জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। এ সময় শতবছরের পরিকল্পনা নিয়ে ঘোষিত ডেল্টাপ্ল্যান-২১০০-এর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা সরকারে আসার পর থেকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েছি। আজকের যারা শিশু বা এই মুহূর্তে যে শিশুটি জন্ম নেবে তার ভবিষ্যত যেন সুন্দর হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা অনেক পরিকল্পনা এরইমধ্যে প্রণয়ন করেছি।

বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তার বড় বোন শেখ হাসিনা। আবেগজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আজকে শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে হয়ত দেশের জন্য অনেক কিছু করত। শেখ রাসেলের জন্ম হয়েছিল ১৯৬৪ সালে। ঠিক যেই মুহূর্তে রাসেল জন্মায় তখন আব্বা (জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু) খুব ব্যস্ত। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, ফাতেমা জিন্নাহ প্রার্থী। বঙ্গবন্ধু সেই নির্বাচনে প্রচারের কাজে চট্টগ্রামে অত্যন্ত ব্যস্ত ছিলেন। রাসেলের জন্ম হওয়ার পর আমরা তাকে খবর দেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চার ভাই-বোন উদ্বিগ্ন হয়ে বসেছিলাম, এই ছোট্ট শিশুটির জন্ম মুহূর্তটা এবং তারপর তাকে কোলে নেয়া। তাকে লালন-পালন করা, তার পাশে থাকা। জাতির জনক ’৬৭ সালে যখন কারাগারে গেলেন রাসেলের বয়স তখন ২ বছরও হয়নি। তখনই সে বাবার স্নেহ বঞ্চিত হলো। আমরা যখন কারাগারে যেতাম আব্বার সঙ্গে দেখা করতে, রাসেল কিছুতেই সেখান থেকে আসতে চাইত না। সে বাবাকে ছাড়া আসবে না। বাবাকে নিয়ে ঘরে ফিরবে। সেই সময় আমার বাবা (বঙ্গবন্ধু) বলতে বাধ্য হলেন, এটা আমার বাড়ি। আমি আমার বাড়িতে থাকি। তুমি তোমার মায়ের বাড়িতে যাও। তখন সে ভাল করে কথাও বলতে পারে না। তারপরও সে প্রচন্ড কান্নাকাটি করত। তাকে ভুলিয়েভালিয়ে নিয়ে আসতে হতো।

আবেগজড়িত কণ্ঠে শেখ হাসিনা আরও বলেন, যেদিন আমরা জেলখানায় পিতা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যেতাম সেদিন শেখ রাসেল খুব অস্থির থাকত। ঘুমাতে চাইত না, খেতে চাইত না। অনেক সময় মধ্যরাতে উঠে বসে থাকত, আমাদের সবাইকে ডাকত। আমরা সব ভাই-বোন গিয়ে তার কাছে বসতাম। সে কিছু বলতে পারছে না। সে তার মনের ব্যথাটা জানাতে পারছে না। কিন্তু তার বেদনাটা আমরা বুঝতে পারতাম। এভাবেই সে বড় হয়ে ওঠে। বাবাকে বাবা বলে ডাকা শুরু করে।

তিনি বলেন, অনেক সময় আব্বা আব্বা বলে ডাকলে আমার মা শেখ রাসেলকে বলতেন, আমি তোমার আব্বা। আমাকে মায়ের পাশাপাশি আব্বা বলে ডাকো। কারাগারে গিয়ে একবার সে আব্বার মুখের দিকে তাকাত, আব্বা বলে ডাকত। আবার মায়ের দিকে তাকাত। তখন মা বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, ও যেহেতু আব্বা আব্বা বলে কান্নাকাটি করে তাই আমি বলেছি আমাকেই আব্বা ডাকতে। সেজন্যই রাসেল জেলখানায় গিয়ে একবার বাবার দিকে তাকায়, আরেকবার মায়ের দিকে তাকায়। একটা ছোট্ট শিশু পিতার স্নেহ বঞ্চিত। আমরা তো বঞ্চিত ছিলামই। কিন্তু এই ছোট বাচ্চাটাও।

একাত্তরে যুদ্ধচলাকালীন স্মৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখ রাসেল খুব চাপা স্বভাবের ছিল, সহসাই কাউকে কিছু বলত না। তার চোখে সব সময় পানি। যদি কখনও বলতাম তোমার চোখে পানি কেন? বলত চোখে কী যেন পড়েছে। ওইটুকু ছোট বাচ্চা, সে তার নিজের মনের ব্যথাটা পর্যন্ত কীভাবে লুকিয়ে রাখত? আমার ভাবতেও অবাক লাগে। তিনি বলেন, আমার ছোট ভাই শেখ কামাল, সে মুক্তিযুদ্ধে চলে গিয়েছিল। শেখ জামাল বন্দীখানা থেকে বের হয়ে সেও মুক্তিযুদ্ধে চলে যায়।

তিনি বলেন, যখন যুদ্ধ শুরু হয়েছিল তখন বন্দীদশায় আমার ছেলে জয়ের (সজীব ওয়াজেদ জয়) জন্ম। মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন আক্রমণ হতো, বিশেষ করে যখন এয়ার রেইড হতো, রাসেল সব সময় পকেটে একটু তুলা রাখত। নিজের কানে দিত, ছোট্ট জয়ের কানে দিয়ে দিত। যেন ওই আওয়াজে জয়ের কোন ক্ষতি না হয়। রাসেল সব সময় খুব খেয়াল রাখত জয়ের প্রতি। স্বাধীনতার পর আব্বা যখন ফিরে এলো, আপনারা দেখবেন সব সময় আব্বার পাশে রাসেল। রাসেল যেন আব্বাকে ছাড়তে চাইত না।

বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, শেখ রাসেলের খুব শখ ছিল সে বড় হয়ে আর্মি অফিসার হবে। সেভাবে সে কিন্তু নিজেকেও তৈরি করত। ছোট ছোট গরিব শিশুদের প্রতি তার দরদ ছিল। যখন গ্রামে যেত তখন অনেক শিশুকে জড়ো করত। সে কাঠের বন্দুক বানাত। এই শিশুদের জন্য মাকে বলত যে কাপড়-চোপড় কিনে দিতে হবে। মা ঠিকই কাপড়-চোপড় কিনে দিত। ওদেরকে নিয়ে সে প্যারেড করাত। প্যারেড করানো শেষে তাদের খাবারদাবার দিত। আর সবাইকে ছোট ছোট এক টাকার নোটের বান্ডিল থেকে একটা করে টাকা দিত। এটা সে করবেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ছয়টি বছর আমাদের দেশে ফিরতে দেয়া হয়নি। ছয় বছর পর যখন দেশে আসি, যখন টুঙ্গিপাড়া যাই সেখানে একটা আলমারি ছিল। সেই আলমারির ভেতরে দেখি ছোট ছোট অনেক শিশুর জামা তখনও পড়ে আছে। আমি জানতাম, এগুলো শেখ রাসেল ওই গ্রামের গরিব শিশুদের মাঝে বিতরণ করত। তাদের আর্থিক সহায়তা দিত। বাবার মতো শেখ রাসেলের ভেতরেও একটা দরদী মন ছিল। হয়ত বেঁচে থাকলে এই দেশের জন্য অনেক কিছুই করতে পারত। আজকে মাঝে মাঝে মনে হয়, ৫৪ বছর বয়স পূর্ণ করেছে। এ বয়সে রাসেল কেমন হতো দেখতে? বলতে বলতে অশ্রুসিক্ত চোখে থেমে যান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি তার বড় বোন, আমি কোলেপিঠে করেই রাসেলকে আসলে মানুষ করেছি সব সময়। আমাদের অতি আদরের ছিল সে। কিন্তু ঘাতকের নির্মম বুলেট তাকেও বাঁচতে দেয়নি।

প্রধানমন্ত্রী ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সময়ের এই এক বছরকে ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে- দেশের প্রতিটি শিশু সুন্দরভাবে বাঁচবে, লেখাপড়া করবে, উন্নত জীবন পাবে। ইনশাল্লাহ! বাংলাদেশে কোন দরিদ্র থাকবে না। প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন সুন্দর জীবন পায় সেজন্য আমরা শতবছরের ডেল্টা প্ল্যান ঘোষণা করেছি। আজকের শিশুরাই আগামীদিনের ভবিষ্যত। তাই তাদের জীবনকে আমরা সুন্দরভাবে গড়ে তুলছি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যের পূর্বে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত দাবা, চিত্রাঙ্কন, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশু-কিশোরের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এর পর দ্বিতীয় পর্বে মঞ্চের সামনের আসনে বসে শিশুদের পরিবেশিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দেখেন। শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোঃ রকিবুল রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব মাহমুদ উদ সামাদ চৌধুরী এমপি, উপদেষ্টা তরফদার রুহুল আমিন, সাংগঠনিক সচিব একেএম শহীদ উল্যাহ প্রমুখ। শুরুতেই সংগঠনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শিশু সদস্য আফিয়া।

প্রকাশিত : ১৯ অক্টোবর ২০১৯

১৯/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: