১৪ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

বিচার হবেই

প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর ২০১৯
  • সাব্বির সোহাগ

বর্তমান সমাজে বহুমৃতসর বিচারহীনতাই কিংবা বিচারে দীর্ঘসূত্রতা আবরারসহ সকল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র হত্যার মূল কারণ। গত ১০ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে এসে লাশ হয়ে বাসায় ফিরেছে ২৪ জন মেধাবী শিক্ষার্থী; এই ২৪ জনের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ জন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ জন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ জন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ জন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ জন, হাজী মোহাম্মাদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন। এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও ৩টি হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে।

এই পরিসংখ্যানটি যদি একটু পিছিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে দেখা হয়, তাহলে দেখা যায় যে, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হত্যা হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫১ জন বলে সংবাদমাধ্যম হতে জানা যায়। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৪ জন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৯ জন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯ জন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯ জন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭ জন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ জন করে, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং হযরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ জন করে শিক্ষার্থী হত্যা হয়েছে। এই হত্যাগুলোর কারণ হিসেবে দেখা যায় লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের আধিপত্য বিস্তার, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, চাঁদা ও টেন্ডারবাজি, মত পার্থক্য। তবে এই হত্যাগুলোর সঠিক বিচার কখনই হয়নি; বিচার হলেও সুষ্ঠু বিচার হয়নি। যা পরবর্তীতে নতুন একটি হত্যার অনুপ্রেরণা হিসেবে ধরা যায়।

উচ্চশিক্ষা নিতে আসা মেধাবী শিক্ষার্থী অপরাজনীতির শিকার হয়ে শুধু খুনই হয় না, খুনীও তৈরি হয়। পূর্বের ঘটনাগুলোতে গুটিকয়েক মানুষই কেবলমাত্র প্রতিবাদ করেছে আর বাকিরা দর্শকের ভূমিকায় ছিল। শুধু দর্শকের ভূমিকায় নয় বরং অনেকেই হয়ত সেসব হত্যাকে সমর্থনও দিয়েছে। এমন উটপাখির মতো আচরণই আরেকটি হত্যার সুযোগ করে দেয়।

প্রতিবছর উচ্চমাধ্যমিক পাস করে ভর্তি পরীক্ষা নামক যুদ্ধে উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। কিন্তু কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা অনেকের প্রাণ এবং তাদের পরিবারের স্বপ্ন কেড়ে নেয়। এসব অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা রোধ করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। অতীতে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের মাধ্যমেই এ রকম রোমহর্ষক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে

প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর ২০১৯

১৭/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: