১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 

ডিএসইতে মোবাইল অ্যাপসের লেনদেনে সাড়া নেই

প্রকাশিত : ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০৭:০৭ পি. এম.
ডিএসইতে মোবাইল অ্যাপসের  লেনদেনে সাড়া নেই

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ শেয়ারবাজারে বহুল প্রত্যাশিত মোবাইলের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেন প্রকল্পে সাড়া নেই। ২৫ লাখ ৬৫ হাজার বিনিয়োগকারীর মধ্যে তিন বছর ৭ মাসে ৪৯ হাজার ২৫৬জন বিনিয়োগকারী লেনদেনের জন্য নিবন্ধন করেছে। আর মাত্র লগইন (লেনদেনের জন্য সার্ভারে ক্লিক) করেছে ১০ হাজার ৮৮শ’ বিনিয়োগকারী। লেনদেন না হওয়ার জন্য কয়েকটি ইস্যুকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব ইস্যুর মধ্যে রয়েছে – নতুন বিনিয়োগকারী না আসা, নীতিমালার অভাব এবং বিনিয়োগকারীদের সচেতনতার অভাব। তবে শুরুর বছরের চেয়ে এখন কিছুটা বাড়ছে বলে ডিএসই কর্তৃপক্ষ মনে করছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, মোবাইলে অ্যাপনের মাধ্যমে লেনদেন পদ্ধতি জনপ্রিয় করতে স্টক এক্সচেঞ্জকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। যদিও এটি চালুর সময় ঢাকা ঢোল পিটিয়ে তা চালু করা হয়। নতুন এই পদ্ধতি চালুর পর বলা হয়েছিল নতুন এক যুগে পর্দাপন করেছে ডিএসই। বস্তুত সেটির ফল হাতে নাতে আসেনি। উল্টো বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি ঝামেলায় পরিণত হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, তার পরিচালিত ব্রোকারেজ হাউসে সচল বিও একাউন্টের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। কিন্তু সেখানে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে লেনদেন করেন ৫০ জনের মতো। এতেই বোঝা যাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে পুরোটাই ব্যর্থ হয়েছে মোবাইল অ্যাপসের লেনদেন।

জানা গেছে, মোবাইলে লেনদেন করতে আগ্রহী একজন বিনিয়োগকারীকে ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে একটি ইউজার আইডি (ব্যবহারকারীর নম্বর) ও পাসওয়ার্ড (গোপন নম্বর) নিতে হয়। এরপর ইন্টারনেটে ডিএসই মোবাইল নামে একটি অ্যাপস দেয়া আছে। এই অ্যাপসটি বিনিয়োগকারীকে তার মোবাইলে ডাউন লোড করে নিতে হয়। এজন্য বিনিয়োগকারীকে কোনো খরচ লাগে না। এরপর এই অ্যাপসের মাধ্যমে বাজার মূল্যের অনুসারে শেয়ার বেচার কেনার অর্ডার নেয় বিনিয়োগকারীরা। এই অর্ডার কার্যকর হলে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে মোবাইলে একটি বার্তা আসে। অ্যাপসটির তিন ধরনের সংস্করণ রয়েছে। এর মধ্যে একটি ব্রোকারেজ হাউসগুলোর জন্য এবং বাকি দুটি বিনিয়োগকারীদের জন্য। বিনিয়োগকারীরা যে দুটি ভার্সন ব্যবহার করতে পারবেন তার মধ্যে একটি হচ্ছে ডিএসই-মোবাইল ভিআইপি। এটি দিয়ে সরাসরি লেনদেন করা যায় না। এটি দিয়ে মোবাইলে শুধু তার পোর্টফোলিও দেখা যায়। অন্যটি হচ্ছে ডিএসই-মোবাইল ট্রেডার। এই ভার্সন ব্যবহার করে বিনিয়োগকারী নিজেই লেনদেন করতে পারে। তবে, কোনো বিনিয়োগকারী বাজার দরের চেয়ে বেশি দামে লেনদেনের অফার করলে ব্রোকারেজ হাউসের ট্রেডার সেই আদেশ বাতিল করতে পারে। কিন্তু বাজার দরে আদেশ দিলে তা বাতিল করার ক্ষমতা ট্রেডারের কাছে থাকবে না। আর ব্রোকারদের জন্য রাখা সংস্করণটির মাধ্যমে হাউসগুলো ডিলার হিসেবে থাকা শেয়ারের সর্বশেষ তথ্য জানা যায়। পাশাপাশি কেনাবেচার আদেশ দেয়া যায়। আর মোবাইল অ্যাপসটি একটানা ১০ মিনিট ব্যবহার না করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগআউট হয়ে যায়।

জানা গেছে, গত ২০১৬ সালের ৬ মার্চ মোবাইল লেনদেনের কার্যক্রম শুরু করে ডিএসই। মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন বছর ৭ মাসে ৪৯ হাজার ২৫৬ জন বিনিয়োগকারী নিবন্ধন করেছে। মঙ্গলবারে ডিএসইতে মোবাইলে মোট ২৬ হাজার ৪০০টি অডার্র দেওয়া হয়। এর মধ্যে লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে ১৭ হাজার ৪৩২টির।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোবাইলে লেনদেন চালু হলেও এ পর্যন্ত তৈরি হয়নি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা। অথচ অ্যাপস চালু করে বসে আছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। তাই সবাই চায় অ্যাপস চালুর সঙ্গে সঙ্গে যেন বাজার চালুর প্রচারণাও চালানো হয়।

প্রকাশিত : ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০৭:০৭ পি. এম.

১৬/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: