১৫ নভেম্বর ২০১৯, ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

লুটপাট হচ্ছে ॥ ১৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ

প্রকাশিত : ১৬ অক্টোবর ২০১৯
লুটপাট হচ্ছে ॥ ১৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ
  • রক্ষণাবেক্ষণের অভাব

রহিম শেখ ॥ ডেসটিনি, যুবক ও হলমার্ক। প্রায় আট বছর আগে বন্ধ হওয়া এই তিন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ বেহাত হতে চলেছে। শুধু সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে লুটপাট হয়ে যাচ্ছে এসব সম্পদ। এর মধ্যে বিতর্কিত বহুস্তর (এমএলএম) কোম্পানি ডেসটিনির ঢাকাসহ সাতটি বিভাগীয় শহরে অব্যবহৃত থাকা জমি ও ফ্ল্যাটগুলোর কোনটিতে থাকছে পুলিশ; কোনটি প্রভাবশালীদের দখলে; বাকিগুলোও বেদখলের পথে। এছাড়া চারতারকা হোটেল, কোল্ড স্টোরেজ, পাটকল ও ফুড ইন্ডাস্ট্রি অবহেলায় পড়ে আছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। বিনিয়োগকারী গ্রাহকদের টাকায় লাগানো গাছপালা উজাড় করে ফেলছে যে যার ইচ্ছামতো। এসব সম্পদের বাইরে জব্দ থাকা ডেসটিনি গ্রুপের ৫৩৩ ব্যাংক হিসাবে পড়ে আছে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা। ডেসটিনির মতোই আরেক প্রতিষ্ঠান যুব কর্মসংস্থান সোসাইটির (যুবক) নামে সারাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার সম্পদের হদিস পায়নি সরকার। কমিশন করে গ্রাহকদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে তা সফল করতে পারেনি সরকার। সাভারে হলমার্ক গ্রুপের নামে থাকা সম্পত্তি, বিভিন্ন কারখানা বন্ধ রয়েছে প্রায় আট বছর। এর মধ্যে দু-একটি কারখানার যন্ত্রপাতি সচল রাখতে সাবকন্ট্রাক্ট দিলেও কারখানাগুলোর বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি মরিচায় নষ্ট হচ্ছে। রাতের আঁধারে কে বা কারা দামী মেশিনপত্র খুলে নিয়ে গেছে।

ডেসটিনি গ্রুপের আয়-ব্যয় এবং দায়সহ সম্পত্তির পূর্ণ বিবরণ তুলে ধরে গ্রুপটির অর্থ ও ব্যবস্থাপনা পরামর্শক রণজিত চক্রবর্তী গত ২৩ সেপ্টেম্বর ‘ডেসটিনি গ্রুপ সম্পর্কিত প্রকৃত তথ্যাবলি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেসটিনি গ্রুপের মোট ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত মূলধন ৪,৪০৮ কোটি টাকা, পরিশোধিত মূলধন ১,৬৩৫ কোটি টাকা। ২০০০ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরুর পর ২০১২ সালের মে পর্যন্ত ডেসটিনি ২০০০, ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি (ডিএমসিএসএল) ও ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশনের (ডিটিপিএল) মোট আয় ৫,১২১ কোটি টাকা। এই অর্থ থেকে কমিশন ব্যয় ১,৪৫৬ কোটি, ট্যাক্স ও ভ্যাট পরিশোধ খাতে ৪১০ কোটি টাকা, পণ্য ক্রয়ে ৪২৫ কোটি টাকা, লভ্যাংশ ও সুদ পরিশোধে ২৬৪ কোটি, ২০০ অফিসের প্রশাসনিক ব্যয় ৪৩৭ কোটি, বৃক্ষরোপণে বিনিয়োগ ২২৩ কোটি, সম্পদ ক্রয় ও বিনিয়োগ খাতে ১৮৯০ কোটিসহ মোট ব্যয় হয়েছে ৫১০৫ কোটি টাকা। ডেসটিনি গ্রুপের এই তিনটি কোম্পানির মোট জমির পরিমাণ ৯৬৮ একর, ঢাকা শহরে এ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে ৭৪,০৫৮ বর্গফুট। এ ছাড়া বাণিজ্যিক এ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে ২৪,৫৪৭ বর্গফুট। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেসটিনি গ্রুপের মোট সম্পদের বর্তমান মূল্য ৯,৬৬৫ কোটি টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডেসটিনির ৫৮টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ১৬টি বেদখল। এছাড়া পল্টন, পুরানা পল্টন, শান্তিনগর, কাকরাইল, গুলশান, বনানী, ভাটারা ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ডেসটিনির ৯টি এবং ১৪টি স্থাপনার তিনটি এখনও পুলিশ দখলে নিতে পারেনি। পুলিশের জব্দ করা গাড়ি, বাড়ি ও জমির মালিকানা দাবি করে আদালতে গিয়ে আটটি গাড়ি জিম্মায় নিয়েছেন কয়েকজন ব্যক্তি। জমির মালিকানা নির্ধারণের কয়েকটি আবেদনও বিচারাধীন আছে। ঢাকার কাকরাইলে রাজমণি ঈশা খাঁ হোটেলের পশ্চিম পাশে ডেসটিনির জমি পুলিশ দেখভালের দায়িত্ব নেয়ার পরও বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা ওই জমির মালিকানা দাবি করেছেন। আদালতের আদেশে ওই জমি ক্রোক করার ছোট্ট একটি সাইনবোর্ড যেন আড়াল হয়ে গেছে আর বিএনপি নেতার লাগানো বিশাল সাইনবোর্ডে বলা হয়েছে, ‘এই সম্পত্তির মালিক রোজা প্রপার্টিজ লিমিটেড’।

জানা গেছে, ডেসটিনির নামে ঢাকায় যেসব সম্পদ রয়েছে তার রিসিভার হিসেবে কাজ করছে ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এর বাইরে জেলা পর্যায়েরও সম্পদগুলো আংশিকভাবে দেখাশোনা করছেন জেলা পুলিশ সুপার। ঢাকাসহ অন্যান্য জায়গার তিনটি সিনেমা হল, অর্ধশতাধিক ফ্ল্যাট ও অর্ধশত গাড়ির মালিকানা এখন পুলিশের। তবে ডিএমপি বলছে, তারা শুধু রিসিভার। ফ্ল্যাটের ভাড়া ও সিনেমা হলের আয় সবই জমা হচ্ছে ব্যাংক হিসাবে। তবে গাড়িগুলো ব্যবহার করছেন পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা।

ঢাকার বাইরে অন্তত দেশের ২২টি জেলায় ডেসটিনির বিভিন্ন ধরনের সম্পদ রয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। এসব সম্পদ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পরিচালকের নামে রয়েছে। তবে গ্রুপভুক্ত ৩৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ডেসটিনি ২০০০, ডেসটিনি মাল্টিপারপাস ও ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশনের নামেই বেশির ভাগ সম্পদ। রাজধানীর বাইরে মুন্সীগঞ্জে রয়েছে সবচেয়ে বেশি সম্পদ। এ জেলার সিরাজদীখানেই রয়েছে ১ হাজার ৩০০ কাঠা জমি। এছাড়া বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে রয়েছে ২৪টি রাবারবাগান। খুলনায় ৭ একর জমি, ছয় বিভাগীয় শহরে ডেসটিনি ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস সেন্টার নির্মাণের জমি, কক্সবাজারে জমিসহ নির্মীয়মাণ হোটেল ও গাজীপুরে ডেসটিনি এ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ স্থাপনের জন্য জমি রয়েছে। এসব সম্পদের সবই এখন সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, পুলিশ ও সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের ভোগদখলে রয়েছে বলে জানা গেছে। কোথাও কোথাও ফ্ল্যাট ও জমির মালিকানাও পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডেসটিনির নামে থাকা রাজধানীর বাইরের সম্পদ পুরোপুরি রক্ষণাবেক্ষণ করছে না পুলিশ। কয়েকটি জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের কোন নির্দেশনা নেই তাদের কাছে। ফলে সম্পদগুলো অরক্ষিত থেকে যাচ্ছে। বেশির ভাগ সম্পত্তি বেদখল হয়ে গেছে। এর মধ্যে রাজশাহীর বর্ণালি সিনেমা হলটি বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। সিনেমা হলের মাঠে মাঝেমধ্যে মেলা বসে। বান্দরবানের লামা উপজেলায় রয়েছে ডেসটিনির সবচেয়ে বেশি রাবারবাগান। এগুলো পুরোপুরি অরক্ষিত। যাদের কাছ থেকে এ বাগানগুলো কেনা হয়েছিল, তারাই এখন এগুলো দখলে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া কক্সবাজারে সাগরপারের সি উন পয়েন্টে ৯ তলাবিশিষ্ট চারতারা হোটেল ‘ডেসটিনি ক্রাউন প্যাসিফিক হোটেল এ্যান্ড রিসোর্ট’-এর ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে পাঁচ বছর আগে থেকে। এরই মধ্যে কয়েক দফায় একটি গোষ্ঠী হোটেল ভবনটি দখলের চেষ্টা করেছে। নির্মাণসামগ্রী বিক্রি করে দিয়েছে। ভবনটিতে অস্থায়ীভাবে বিদ্যুত সংযোগ দেয়া হলেও বিল বকেয়ার কারণে তা বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। কয়েক কোটি টাকার হোটেলটি যেন ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। কক্সবাজার বিমানবন্দরে বেস্ট এয়ারের একটি কার্গো বিমান আছে। সেটির খোলস বাদে সব যন্ত্রপাতি চুরি করে বিক্রি করে দিয়েছে বিমানবন্দরের লোকজন। ডেসটিনি গ্রুপের বড় বিনিয়োগ ছিল ট্রি প্লান্টেশনে। সারাদেশে ৫ হাজার ৯৫৯ একর আয়তনের ৩২টি বাগানে মোট গাছ রোপণ করা হয়েছিল ৮২ লাখ ২৫ হাজার ১৮১টি। ডেসটিনি ট্রি-প্লান্টেশনের বড় অংশই হয়েছে বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। এর মধ্যে ইয়াংছা এলাকার কয়েকটি বাগান ছাড়া সবই এখন বৃক্ষশূন্য। ৯টি বাগানের ৫৫০ একর জমি সম্পূর্ণ বেদখল হয়ে গেছে। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ডেসটিনির অর্থ ও ব্যবস্থাপনা পরামর্শক রণজিত চক্রবর্তী জনকণ্ঠকে বলেন, শুধুমাত্র সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে লুটপাট হয়ে যাচ্ছে ডেসটিনির সকল সম্পদ। অবস্থা এমন পর্যায়ে গেছে যেন দেখার কেউ নেই। জানা গেছে, ২০১২ সালের ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় ডেসটিনির ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধ দুটি মামলা করে দুদক। ২০১৪ সালের ৪ মে দাখিল করা অভিযোগপত্রে আসামি করা হয় ৫১ জনকে। ৪ হাজার ১১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও ৯৬ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে। সেই মামলা এখনও আদালতে বিচারাধীন। ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীন ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন কারাগারে রয়েছেন। বাকিরা জামিনে রয়েছেন।

দেড় হাজার কোটি টাকার সম্পদের হদিস পায়নি সরকার ॥ যুবকে ক্ষতিগ্রস্ত জনকল্যাণ সোসাইটির হিসাবে সারাদেশে ৬ হাজার ১২৪ কোটি ৮০ লাখ ৬৪ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে জমির পরিমাণ ৩ হাজার একর। এ ছাড়া আবাসন, বৃক্ষ, বনায়নসহ মোট প্রকল্প ১৮টি। ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে অন্তত ১৮টি বহুতল বাড়িও রয়েছে। আর যুবকের কাছে গ্রাহকদের পাওনা মাত্র ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গবর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিশনের দেয়া প্রতিবেদনের তথ্যমতে, সারাদেশে যুবকের জমি রয়েছে ২ হাজার ২০০ একর। ১৮টি বাড়ি ও ১৮টি প্রকল্প; যার আর্থিক মূল্য ৩ হাজার কোটি টাকার মতো। কিন্তু এর বাইরে যুবকে ক্ষতিগ্রস্ত জনকল্যাণ সোসাইটি মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে আরও ১ হাজার একর জমির সন্ধান পেয়েছে বলে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে সংগঠনটি। এর বাইরে দেড় হাজার কোটি টাকার সম্পদের হদিস পায়নি সরকার।

যুবক বিষয়ে সরকার যে কমিশন গঠন করেছিল তার চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী সারা দেশে বিভিন্ন নামে প্রতিষ্ঠানটির ৯১ খ- জমি, ১৮টি বাড়ি ও ১৮টি কোম্পানি রয়েছে। এসব সম্পত্তি নিয়ে নানা ধরনের জটিলতাও রয়েছে। কোনটার বায়না হয়েছে রেজিস্ট্রেশন হয়নি। কোনটার আবার রেজিস্ট্রেশন হলেও মালিকানাস্বত্ব দাখিল করা হয়নি। কিছু কিছু সম্পদ বেদখল হয়ে আছে। আবার কোথাও কোথাও গোপনে জমি বা বাড়ি বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। ফলে এসব সম্পত্তি বিক্রি করতে গেলেও ঝামেলায় পড়তে হবে সরকারকে। এছাড়া যুবকের নামে ব্যাংকের নগদ টাকা পাওয়া গেছে খুবই সামান্য। ৪৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে মাত্র ৭৮ লাখ টাকার সন্ধান পায় কমিশন। আর স্থাবর সম্পত্তির যে সন্ধান পাওয়া গেছে গ্রাহকের দায়ের তুলনায় তা সামান্য। এ বিষয়টি নিয়েও আদালতে একাধিক মামলা রয়েছে। মামলা মাথায় নিয়ে যুবকের বেশির ভাগ কর্মকর্তা পলাতক রয়েছেন। যুবকে ক্ষতিগ্রস্ত জনকল্যাণ সোসাইটির সাধারণ সম্পদক মাহমুদ হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, গবর্নরসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে তারা নতুন করে চিঠি দিয়েছেন। সরকার আন্তরিক হলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। কেননা গ্রাহকদের যে পাওনা তার কয়েক গুণ বেশি সম্পদ রয়েছে যুবকের নামে। এ ছাড়া এ সংক্রান্ত একাধিক মামলাও চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকার চাইলে দোষীদের সাজা দিয়ে ভুক্তভোগী ক্ষতিগ্রস্তদের পাওনা ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জনকণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা চাই আর্থিক খাতে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সমস্যা থাকবে না। হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আর যুবক ইস্যুটিও বেশ পুরনো। গ্রাহকরা আমাদের কাছে আবেদন করেছেন। এর সঙ্গে জনস্বার্থের বিষয়টি জড়িত। তাই এ সম্পর্কে ভালভাবে জানার চেষ্টা করছি। গ্রাহকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া যাবে। তবে এটি সময়সাপেক্ষ।’

লুট হয়ে গেছে হলমার্ক শিল্পপার্কের সম্পদ ॥ এদিকে প্রায় পরিত্যক্ত হয়ে পড়া হলমার্ক গ্রুপের সাভারের কারখানাগুলোর সব মেশিনারি, সম্পদ লুট হয়ে যাচ্ছে। রাতের আঁধারে ভারি মেশিনপত্র চুরি হয়ে যাচ্ছে। কারখানার ভিতরে জন্মেছে ঘাস, গাছপালা। কোথাও কোথাও গবাদি পশুর খামার গড়ে তুলেছে একটি পক্ষ। এদিকে অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে সোনালী ব্যাংকের সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা আদায় নিয়ে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টাকা আদায়ের গ্রহণযোগ্য কোন পথই খুঁজে বের করতে পারেনি। সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতাউর রহমান প্রধান জনকণ্ঠকে বলেন, আমি অল্প কিছুদিন আগে ব্যাংকটিতে দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি বেশ জটিল ও পুরনো। কতগুলো মামলাও চলছে। তবে টাকা একদিন না একদিন ফিরে পাবেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

জানা গেছে, সোনালী ব্যাংকের তদন্তে হলমার্কের ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কারখানার মেশিনপত্র, ভবন ও জমি রয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গত প্রায় আট বছরে আদায় করেছে ৫০০ কোটি টাকার মতো। বাকি টাকা এখনও অনাদায়ী। ২০১১-১২ সালে হলমার্কের কাছ থেকে যেসব দামি গাড়ি জব্দ করা হয়েছিল সেগুলোরও হদিস নেই এখন। সোনালী ব্যাংকের জন্য সবচেয়ে দুর্বলতার বিষয় হচ্ছে হলমার্ককে যে টাকা দেয়া হয়েছে তার বৈধ কোন কাগজপত্রই নেই ব্যাংকের কাছে। অর্থাৎ সেগুলো আদৌ ঋণ হিসেবে গেছে কিনা, তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছে। ফলে হলমার্কের কারখানার কোন ভবন ও যন্ত্রপাতি বন্ধকী হিসেবে দেখাতে পারছে না সোনালী ব্যাংক। শুধু জমি বন্ধকী হিসেবে নিয়েছে। ফলে ব্যাংক ইচ্ছা করলেও বন্ধক নেই এমন সম্পদের ওপর নিজেদের দখল প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না। এদিকে নিজেদের আনসার না থাকায় কারখানার ভবন ও যন্ত্রপাতি খোয়া গেলেও সোনালী ব্যাংক কিছুই করতে পারছে না। হলমার্কের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম টাকা পরিশোধের শর্তে জামিনে বেরিয়ে এলেও গত সাড়ে তিন বছরে তিনি কোন টাকাই ফেরত দেননি। সম্প্রতি আবার ঋণ পুনঃতফসীলের আবেদন করেছে হলমার্ক গ্রুপ।

প্রকাশিত : ১৬ অক্টোবর ২০১৯

১৬/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: