২২ নভেম্বর ২০১৯, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

পাঁচ বছরের শিশুকে খুন করে গাছে ঝুলিয়ে রাখে দুর্বৃত্তরা

প্রকাশিত : ১৫ অক্টোবর ২০১৯

নিজস্ব সংবাদদাতা, সুনামগঞ্জ, ১৪ অক্টোবর ॥ সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ৫ বছরের শিশু তুহিনকে নৃশংসভাবে খুন করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের কেজাউরা গ্রামে ঘটেছে। নিহত শিশুর নাম তুহিন মিয়া (৫)। সে কেজাউরা গ্রামের আব্দুল বাছিরের ছেলে। ঘাতকরা তার লাশটি গ্রামের পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদের পাশে ঝোপের মধ্যে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে গোপনাঙ্গ কেটে ফেলে এবং কান কেটে একটি রাস্তায় ফেলে গেছে। ন্যক্কারজনক এ ঘটনা জানাজানি হলে নিহতের বাড়িতে শতশত লোকজন ভিড় জমাতে থাকে। এমন ঘটনায় হতবাক সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। নৃশংস এই হত্যাকা-ের খবরে এলাকার শোকের ছায়া নেমে এসছে। এরই মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ সিআইডি ও ডিবি পুলিশ প্রতিনিধি দল।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোরে পরিবারের অগোচরে কে বা কারা শিশুটির কান ও গোপনাঙ্গ কেটে হত্যার পর লাশটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে এবং হত্যায় ব্যবহৃত দুটি ছুরি তার পেটে ঢুকিয়ে রেখে চলে যায়। ছুরি দুটিতে ওই গ্রামেরই সুলেমান ও সালাতুলের নাম রয়েছে, যাদের সঙ্গে নিহত তুহিনের পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। গ্রামের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে নিহত তুহিনের পরিবারের বিরোধ চলে আসছিল। এর আগে মধুপুর গ্রামের মুজিব ও কেজাউড়া গ্রামের নিলুফার হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে তাদের পরস্পরের মধ্যে।

দিরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

সকালে সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কেজাউড়া পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন রাস্তা রক্তে লাল হয়ে আছে। এর পাশেই মসজিদের পাশের ঝোপে একটি গাছে তুহিনের লাশ ঝুলে রয়েছে। জমাটবাঁধা রক্তের স্তূপের পাশে তুহিনের একটি কাটা কান পড়ে আছে। গোপনাঙ্গ ও একটি কান কেটে নিয়ে গেছে ঘাতকরা। তার পেটে বিদ্ধ দু’টি ছোরা লাগানো আছে। ছোরা দুটিতে ওই গ্রামের সুলেমান ও সালাতুলের নাম রয়েছে, যাদের সঙ্গে নিহত তুহিনের পরিবারের দীর্ঘবিরোধ আছে বলে গ্রামবাসী নিশ্চিত করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে ঘাতকরা ঘুমন্ত অবস্থায় তুহিনকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে রাস্তায় জবাই করে হত্যা করেছে। এরপর কান ও লিঙ্গ কেটে লাশটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাবাদের জন্য পুলিশ ৭ জনকে থানায় নিয়ে আসে। সন্দেহভাজনদের মধ্যে আটককৃতরা আছেন বলে জানায় পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন নিহতের পিতা আব্দুল বাছির, চাচা মাওলানা আব্দুল মছব্বির, মোঃ জমশেদ মিয়া, জাকিরুল ইসলাম, নাছিম মিয়া, চাচি খয়রুন বেগম এবং চাচাত বোন তানিয়া। এ ব্যাপারে তুহিনের পিতা আব্দুল বাছির জানালেন, পনেরো দিন পূর্বে তার এক কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে। রবিবার দিবাগত রাতের খাবার খেয়ে নিহত তুহিন ও তার ছোট ভাইকে নিয়ে বসতবাড়ির সামনের রুমে তিনি ও নবজাতককে নিয়ে মা পেছনের রুমে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত দেড়টার দিকে ঘুম ভাংলে ঘরের বাইরে গিয়ে প্রশ্রাব করে আসেন এবং ছেলে তুহিনের ওপর কাথা দিয়ে ডেকে দেন। এরপর তিনি আবার ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে তিনটার দিকে তার ভাতিজির ঘুম ভাংলে সে দেখতে পায় সামনের দরজা খোলা। দরজা খোলা কেন জানতে চেয়ে পাশের রুমে চাচা (নিহত তুহিনের বাবা) কে ডাকে। এ সময় পরিবারের অন্যান্য লোকজনও ঘুম থেকে উঠে পড়েন এবং দেখতে পান তুহিন ঘরে নেই। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। এরপর খোঁজাখুঁজি করে বাড়ি থেকে সামান্য দূরে নতুন মসজিদের পাশে ঝোপের মধ্যে গাছে তুহিনের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান তারা। তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, গ্রামে একসময় কারও কারও সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব ছিল, এখন কারো সঙ্গে কোন বিরোধ নেই। কাউকে সন্দেহ করেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যা দেখিনি তা কিভাবে বলব। বলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। সদ্য সন্তান প্রসব করা তার স্ত্রীকেও হত্যাকা-ের বিষয়ে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান। সে ছেলের মৃত্যুর খবরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছে বারবার। কখনও কখনও অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যপারে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম নজরুল ইসলাম বলেন, শিশু তুহিন হত্যার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে যে বা যারা জড়িত তাদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মিজানুর রহমান পিপিএম বলেন, ঘটনার সঙ্গে যে বা যারা জড়িত তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করা হবে। ঘটনার অনেক ক্লু পাওয়া গেছে, তদন্তের স্বার্থে এখন অনেক কিছু বলা যাচ্ছে না। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুহিনের বাবা, ৪ চাচা, এক চাচি ও এক চাচাত বোনকে থানায় নেয়া হয়েছে।

প্রকাশিত : ১৫ অক্টোবর ২০১৯

১৫/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: