২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

শেয়ারবাজারে সূচক তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

প্রকাশিত : ১১ অক্টোবর ২০১৯

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ প্রতিদিনই সূচক আগের দিনের চেয়ে কমছে। পতনের পাল্লা ভারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের হতাশা বাড়ছে। টানা দরপতনের কারণে আবারও রেকর্ড গড়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবারে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমে ৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে গেছে। ভাল-মন্দ সব ধরনের কোম্পানিরই দিনটিতে দর কমেছে।

শেয়ারবাজার বিশ্লেষক ডিএসই ব্রোকার্স এ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি শাকিল রিজভী বলেছেন, তারল্য সঙ্কট, আর্থিক খাতের খারাপ অবস্থা এবং গ্রামীণ ফোনের সমস্যার সমাধান না হওয়ার কারণে পুঁজিবাজারে অব্যাহত দরপতন হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে যে তারল্য সঙ্কট আছে সেটা রয়ে গেছে। ব্যাংকের সুদের হার এখনও বেশি। এটার নেতিবাচক প্রভাব পুঁজিবাজারে আছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আর্থিক খাতের অবস্থা বেশ কিছুদিন ধরে খারাপ। পুঁজিবাজারের প্রায় ৪০ শতাংশ হচ্ছে এই আর্থিক খাত। ব্যাংক লিজিং সবগুলোর শেয়ারের দাম কমছে। ফলে সূচক কমেছে। এছাড়া গ্রামীণ ফোন পুঁজিবাজারের প্রায় ১০ শতাংশর মতো। এটার সঙ্গে কর নিয়ে যে একটি সমস্যা সেটার সমাধান হয়নি। এটার বর্তমানে যে দাম সেটা তো থাকার কথা না। সেটাও বড় প্রভাব ফেলছে বাজারে। শাকিল রিজভী মনে করেন, বাজারে এখন আস্থার সঙ্কটই সবচেয়ে বড় সমস্যা। আর এই তিন সমস্যা দূর না হলে বাজারে আস্থা ফিরবে না। বিনিয়োগকারীলা বাজারমুখী হবেন না। বাজার স্বাভাবিক হবে না।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সকালে সূচকের ইতিবাচক প্রবণতা দিয়ে লেনদেন শুরু হলেও দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮১০ পয়েন্টে। ডিএসইর এই সূচকটি ২ বছর ১০ মাস ১০ দিন বা ৬৯৩ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে গেছে। এর আগে ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর ডিএসইএক্স সূচক আজকের থেকে কম স্থানে অবস্থান করছিল। অর্থাৎ ওইদিন ডিএসইএক্স সূচক অবস্থান করছিল ৪ হাজার ৮০১ পয়েন্টে। ডিএসইর অপর দুই সূচকের মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১২ পয়েন্ট ও ডিএসই-৩০ সূচক ২০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ১১১ ও ১ হাজার ৭০৫ পয়েন্টে। ডিএসইতে ৩২৭ কোটি ৮১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগেরদিন লেনদেন হয়েছিল ৩২০ কোটি ৯১ টাকার। অর্থাৎ ডিএসইতে লেনদেন ৬ কোটি টাকা বেশি হয়েছে।

ডিএসইতে ৩৫৩টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৯টির বা ১৭ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। দর কমেছে ২৭১টির বা ৭৭ শতাংশের এবং ২৩টি বা ৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ন্যাশনাল টিউবের। এদিন কোম্পানিটির ২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ১৩ কোটি ২৯ লাখ টাকার এবং ১২ কোটি ৬৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে উঠে আসে ওয়াটা কেমিক্যাল। ডিএসইর সার্বিক লেনদেনে উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে : এটলাস বাংলাদেশ, সিলকো ফার্মা, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, মুন্নু জুট স্টাফলার্স, জেএমআই সিরিঞ্জ, স্কয়ার ফার্মার এবং বঙ্গজ।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ১৪৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬৫৫ পয়েন্টে। এদিন সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৩৪টির, কমেছে ১৮৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২২টির দর। ১২ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

প্রকাশিত : ১১ অক্টোবর ২০১৯

১১/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: