২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

দুর্নীতি প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ

প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর ২০১৯
  • জাসিন্তা আরেং

দুর্নীতিমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন সকল বাঙালীরই আকাক্সক্ষা। কিন্তু দুর্নীতির মতো অবৈধ ও অনৈতিক কর্মকা-ের সঙ্গে এক শ্রেণীর লোকের অবাধ সম্পৃক্ততা দেশ ও জাতির জন্য কলঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কলঙ্ক শুধু জাতীয় পর্যায় অর্থাৎ দেশ ও জাতির মানই ক্ষুণœ করছে না, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশের মর্যাদা কমে যাচ্ছে। শোচনীয় বিষয় হলো যে আমাদের দেশের নামী-দামী প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরাও দুর্নীতির বেড়াজালে মুষ্ঠিমেয় হয়ে আছে। অন্যদিকে বর্তমান সরকার দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে বদ্ধপরিকর। দুর্নীতি দমনে সরকার কর্তৃক বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং আইন প্রয়োগ ও নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে এবং বেশ কিছু অভিযান ফলপ্রসূ হয়েছে। ইতিমধ্যে, সরকারের কার্যকরী তৎপরতা থেকে সমাজের মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ ও আওয়ামী দলনেতা-নেতৃবৃন্দও রেহাই পাচ্ছে না। অনেকের বিরুদ্ধেই দুর্নীতি দমন কমিশন চার্জশিট তৈরি করেছে এবং শাস্তির আওতায় নিয়ে এসেছে। কেননা দুর্নীতিবাজ কেউই আইনের উর্ধে নয়। কিন্তু তবুও দুর্নীতি দমনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর তৎপরতা ও উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। কেননা কম-বেশি সকল প্রকার প্রতিষ্ঠানেই দুর্নীতি হচ্ছে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা ধামাচাপা পড়ে আছে অথবা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসব বেআইনী কাজগুলো প্রকাশ পাচ্ছে না। ক্ষমতা ও টাকার জোরে নিজেদের কুকর্মগুলোকে আড়াল করার চেষ্টা সর্বদা সক্রিয় রয়েছে। দুর্নীতির চাদর এতটাই পুরু যে, দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষদের বিবেককে নৈতিকতার শিক্ষাও নাড়া দিতে বিফল হচ্ছে। তাই এক্ষেত্রে জনগণের বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বলেছিলেন যে, ‘জনগণের মতামত ব্যবহার না করে শুধু আইন দিয়ে দুর্নীতি দমন করা যাবে না। তাই সকলকে অবশ্যই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’ সকলের সমন্বিত উদ্যোগই কার্যকরী সুফল বয়ে আনবে বলে আশা করা যায়।

দুর্নীতিকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনে পুনরায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জাতিকে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এগিয়ে যেতে জনমত গড়ে তুলতে হবে। নৈতিকতা বর্জিত মানুষ সহজেই দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এমন লোকের সংখ্যা দিন-দিন বেড়েই চলেছে যা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। নৈতিকতা বর্জিত মানুষ ও প্রতিষ্ঠান কখনও দেশ ও জাতির জন্য সুফল বয়ে আনে না বরং দুর্নাম বয়ে আনে। নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতি প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদকের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন, নিরপেক্ষভাবে সুষ্ঠু অভিযান ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণকে সম্মিলিতভাবে নিজ-নিজ অবস্থান থেকে দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়তা করতে হবে। যদি কারও কর্মরত প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি হয়ে থাকে তবে সে ক্ষেত্রে দুদকে অভিযোগ করতে হবে এবং অভিযান তৎপরতা চালাতে সহায়তা করতে হবে। যদি দেশের প্রতিটি মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় তবে দুর্নীতির প্রবণতা নিঃসন্দেহে কমে যাবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে অভিযান চলমান রয়েছে তা যেন ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকে সেটাই কাম্য। অনেক সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী-কর্মকর্তারা উপযুক্ত জবাবদিহিতার অভাবে দুর্নীতির মতো অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। তাছাড়া তারা দুর্নীতিবিরোধী আইন-কানুনেরও মোটেই তোয়াক্কা করছে না। যার ফলস্বরূপ দুর্নীতিগ্রস্ত লোকদের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া প্রশাসন ও উচ্চ পর্যায়ে যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত আছে তাদের চিহ্নিত করা এবং শাস্তির আওতায় আনাও অত্যন্ত জরুরী।

দুর্নীতিকে সমূলে উপড়ে ফেলতে প্রত্যেককেই নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। সরকারের পক্ষে এককভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় যদি দুর্নীতি দমনে সমন্বিত প্রচেষ্টা না থাকে। কাজেই দুর্নীতি প্রতিরোধে সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিকদের অবদান অনস্বীকার্য। দুর্নীতি দমন কমিশনও যেন স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতার সঙ্গে পরিকল্পিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারে এটাই একান্ত প্রত্যাশা।

জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় থেকে

প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর ২০১৯

১০/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: