২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

লাগাম টানতেই হবে

প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর ২০১৯
  • রাখাল চন্দ্র মিত্র

দুর্নীতি সমাজ দেহের সর্বাঙ্গে বাসা বেঁধেছে। এর অপসারণ এখন সময়ের দাবি, যদিও অনেক দেরি হয়ে গেছে। তবে লেট বেটার দ্যান নেভার বলে একটা কথা আছে। তাই কালবিলম্ব না করে এখনই দুর্নীতিমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে অগ্রণী হওয়া উচিত। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মনোজাগতিক মুক্তি না হলে সীমাহীন ত্যাগ আর রক্তমূল্যে অর্জিত স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যাবে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর প্রাক্কালে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশকে দেখতে হচ্ছে দুর্নীতি-ক্যাসিনো, ব্যাংকলুট, অর্থপাচার, ঋণখেলাপী সংস্কৃতি ও সামাজিক অনাচার-পাপাচারের দেশ হিসেবে। বাংলাদেশে এ অবস্থা একদিনে সৃষ্টি হয়নি। শুধু বর্তমান নয় অতীতের সব সরকারের আমলেও দুর্নীতির শিকড় প্রথিত হয়েছিল। এখন দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেয়া এবং এর সকল বাধা-বিপত্তি ও প্রতিবন্ধকতা দূর করার দায় বর্তেছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর। প্রধানমন্ত্রী পেয়েছেন পূর্ববর্তী সরকারগুলোর রেখে যাওয়া একটি দুর্নীতিগ্রস্ত, আমলাতান্ত্রিক প্রশাসনিক কাঠামো ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার সুবাদে তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে তাঁর চারদিকে আছে তোষামোদকারী উঁইপোকারা। বঙ্গবন্ধু কথিত চাটাদের ন্যায় তাঁর উঁইপোকারা উন্নয়নের সুফল ও সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে দিচ্ছে। উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন বিলম্বিত করে, নি¤œমানের কাজ করে, তহবিলের অপচয় বৃদ্ধি করে উন্নয়নের বিঘœ ঘটাচ্ছে। এভাবে তহবিল তসরুফের মাধ্যমে নিজেরা ফুলে- ফেঁপে উঠছে। তিনি বরাবরই দুর্নীতিবাজ, লুটেরাদের বিরুদ্ধে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন, সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু ‘চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী’ প্রবাদের ন্যায় কেউ কথা রাখেনি, কর্ণপাত করেনি, আহ্বানেও সাড়া দেয়নি। ফলে দুর্নীতি রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি ক্যান্সারের মতো জেঁকে বসেছে। বঙ্গবন্ধু কন্যার পক্ষে এ অবস্থা মেনে নেয়া সম্ভব নয়। তাই তিনি একাদশ সংসদের নির্বাচনী ইস্তেহারে সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদের ন্যায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী নির্মোহ চিত্তে আপন ঘর থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্রাশ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে লক্ষ্য করার বিষয় হলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানের অভিজ্ঞতা আমাদের দেশে নতুনও নয়, সুখকরও নয়। বাঙ্গালীর একটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হলো আমরা কোন কিছু শুরু করতে পারি, কিন্তু সফলভাবে শেষ করতে পারি না। বঙ্গবন্ধুর আমলে সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান, এরশাদের দুর্নীতিবিরোধী জেহাদ, খালেদা জিয়ার সন্ত্রাসবিরোধী ’অপারেশন ক্লিনহার্ট’, ১/১১ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ এর জ্বলন্ত উদাহরণ। সিদ্ধান্তমূলকভাবে শেষ হয় না। কোথায় যেন আটকে যায়। আর অগ্রসর হয় না। এখন দেখবার বিষয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতি বিরোধী অভিযান কতদূর যায়। কোথায় গিয়ে শেষ হয়। উচ্চতর পর্যায়ে কাকে কাকে স্পর্শ করে। কবি বলেছেন,-‘বাঁশি যেন আর না বাজে’। তেমনি সিদ্ধান্তমূলক পরিণতি লাভের পূর্বে বর্তমান অভিযান যেন মধ্য পথে না থামে। কাজটি কঠিন নিঃসন্দেহে। তবে তিনি এই কঠিনেরেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন তাই ভরসা। দল মত নির্বিশেষে সকলের উচিত প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা।

শান্তিবাগ, পটুয়াখালী থেকে

প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর ২০১৯

১০/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: