১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পরিকল্পনা

প্রকাশিত : ৯ অক্টোবর ২০১৯

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের পেছনে যে দেশটির অবদান সবচেয়ে বেশি তার নাম আমেরিকা। অথচ বৈশ্বিক উষ্ণয়ন রোধে বা কমাতে দেশটি তেমন কোনই ভূমিকা রাখছে না। যতটুকুই বা রাখছিল ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তাও নয়। ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে আমেরিকাকে সরিয়ে নেন। ওই চুক্তির স্বাক্ষরদাতা দেশগুলো গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের অনেক নিচে নামিয়ে রাখতে অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিল। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন মিথেনের ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির সুযোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছেন।

ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের এই অদ্ভুত ভূমিকা মোকাবেলায় ডেমোক্র্যাটরা বৃহত্তর জাতীয় পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হচ্ছেন। তারা দেখছেন বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সাগর-মহাসাগরও উষ্ণতর হচ্ছে এবং তার পরিণতিতে হার্ভে, স্যান্ডি, মারিয়ার মতো প্রবল থেকে প্রবলতর হ্যারিকেন আমেরিকার উপকূল তছনছ করে দিচ্ছে। দাবানলের ঘটনা ও ভয়াবহতা বেড়ে গেছে এবং তাতে হাজার হাজার কোটি ডলারের সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। ট্রাম্পের জাতীয় গোয়েন্দা বাহিনীর পরিচালক জলবায়ু ও প্রতিবেশ পরিবর্তনের কারণে সম্পদহানি এবং সামাজিক অসন্তোষ থেকে নিরাপত্তার প্রতি হুমকির আশঙ্কা করলেও প্রশাসন এমন হুমকিকে ‘রাবিশ’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছে। অথচ আমেরিকার জনগণ জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ সম্যক উপলব্ধি করছে। নিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী ৫৭ শতাংশ আমেরিকান জলবায়ু পরিবর্তনকে বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখে। ২০১৩ সালে এমন লোকের সংখ্যা ছিল ৪০ শতাংশ। আর ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ৮৪ শতাংশই এই আশঙ্কার সঙ্গে একমত। জলবায়ু সমস্যা মোকাবেলায় ডোমাক্র্যাটদলীয় নতুন প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও করটেজ এবং সিনেটর এ্যাডওয়ার্ড মারকি গত ফেব্রুয়ারি মাসে ‘গ্রীন নিউ ডিল’ নামে একটি প্রস্তাব পেশ করেন। প্রস্তাবে এমন এক অর্থনীতি গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে সেখানে কার্বন নির্গমন হবে নিট হিসেবে শূন্য।

অর্থাৎ বায়ুম-লে যে পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড গিয়ে মিশবে সেই পরিমাণ কার্বনই আবার টেনে নিতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে বৃহত্তর সামাজিক রূপান্তর ঘটাতে হবে যেখানে সার্বজনীন স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও চাকরির নিশ্চয়তা থাকবে। প্রেসিডেন্ট পদে ডেমোক্র্যাটদলীয় মনোনয়নপ্রত্যশীরাও এই প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছেন। অবশ্য প্রার্থীদের নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনাও আছে। জো বাইদেনের ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশুদ্ধ জ্বালানি বিপ্লবের প্রস্তাব থেকে শুরু করে বার্নিস্যান্ডাসের ১৬.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের ন্যাশনাল মোবিলাইজেশন পরিকল্পনাও আছে।

জলবায়ু বিষয়ে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে সিরিয়াস ধরনের প্রস্তাব এক দশক আগেও দিয়েছিল। প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলেও তা সিনেটে পাস হতে পারেনি। এবার ডেমোক্র্যাটরা আরও বৃহত্তর জাতীয় পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। বাস্তব পরিস্থিতিও তাদের অনুকূলে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ইতোমধ্যে প্রকটভাবে দেখা দিয়েছে। জনগণও তা টের পাচ্ছে। প্রতি ১ জন আমেরিকান যেখানে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি স্বীকার করে না সেখানে ৫ জনেরও বেশি আমেরিকান স্বীকার করে।

শীর্ষ দুই ডেমোক্র্যাট মনোনয়ন প্রার্থীর পরিকল্পনা অবশ্য গ্রীন নিউ ডিলের চেয়েও ব্যাপক ও বিস্তৃত। স্যান্ডাসের পরিকল্পনাই সবচেয়ে ব্যয়বহুল। তবে বাইদেনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এলিজাবেথ ওয়ারেনের পরিকল্পনায় ব্যয়ের অঙ্কটা ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। শীর্ষ মনোনয়ন প্রার্থীদের আশা, আগে না হলেও ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা যাবে। ক্ষমতায় এলে তারা জীবশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি পর্যায়ক্রমে তুলে দেবেন এবং জ্বালানি মজুদের প্রযুক্তি গবেষণায় অর্থ ব্যয় করবেন। তিন প্রার্থী- কামালা হ্যারিস, পেট বুটিগিয়েগ ও জুলিয়ান ক্যাস্ট্রো কার্বণ কর বা ফি বসানোর পক্ষপাতী। বাইদেন ও স্যান্ডার্সও কার্বন কর বসানোর পক্ষপাতী। তবে এ ব্যাপারে তাদের বক্তব্য অত স্পষ্ট নয়।

ডেমোক্র্যাটদের বৃহত্তর লক্ষ্য অনেক সময় তাদের পরিবেশগত কর্মসূচীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার পরও তারা নির্বাচনকে সামনে রেখে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় নিজ নিজ কর্মসূচীকে জোরালোভাবে তুলে ধরছেন।

চলমান ডেস্ক

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট

প্রকাশিত : ৯ অক্টোবর ২০১৯

০৯/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: