১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

ইরানকে আঘাত ॥ ট্রাম্প কেন শেষ মুহূর্তে সরে পড়লেন

প্রকাশিত : ৯ অক্টোবর ২০১৯
  • এনামুল হক

গত ১৪ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের দুটি স্থানে তেল স্থাপনার ওপর বোমা হামলা হয়েছে। সৌদি মরুভূমির পূর্বাঞ্চলীয় শহর আবকাইকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল প্রক্রিয়াকরণ স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবকাইকের ১৮টি স্ট্যাবিলাইজিং টাওয়ারের পাঁচটি ধ্বংস হয়। এর ১৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ- পশ্চিমে খুবাইসে পৃথক হামলায় সেখানকার তেলখনি ধ্বংস হয়। এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করা হয়। তবে ইরান এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ওই হামলার পর সৌদি আরবের তেল উৎপাদনে দৈনিক ৫৭ লাখ ব্যারেল কমে যায়। ১৯৯১ সালে সাদ্দাম হোসেনের কুয়েত আক্রমণের ফলে বিশ্ব তেলের বাজারে যে ক্ষতি হয়েছিল এবার হামলার কারণে সৌদি তেল উৎপাদন কমে যাওয়ায় তার চেয়েও বড় ক্ষতি হয়েছে। সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার কারণে বিশ্বে তেলের সরবরাহ ৬ শতাংশ কমে গেছে। এতে সবাই কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ তেল উৎপাদন আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসার কথা থাকলেও ১৪ সেপ্টেম্বরের হামলা থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেছে। তা হলো বিশ্বের বৃহত্তম তেল রফতানিকারক দেশটি থেকে তেলের সরবরাহ এখন সর্বদাই ঝুঁকির মুখে।

ইয়েমেনে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত হুথি বিদ্রোহীরা এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। এরা ইরানের সাহায্য সমর্থন পাচ্ছে এবং ইরানী অস্ত্র ব্যবহার করছে। তবে আমেরিকার হাতে প্রমাণ হয়ত আছে যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি ইরান থেকেই হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও একে যুদ্ধের কাজ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তবে যেভাবেই আখ্যায়িত করা হোক না কেন এ মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে কেউ যুদ্ধ চায় না। কিন্তু না চাইলেও আরেক যুদ্ধের কালো মেঘ সেখানকার আকাশে জড়ো হয়েছে। বর্তমান সঙ্কটের কারণগুলোর মধ্যে দুটি ভয়াবহ ভ্রান্তি রয়ে গেছে। প্রথমটি হচ্ছে, ইয়েমেনে সৌদি আরবের ৪ বছরের যুদ্ধ। এই যুদ্ধ সৌদিদের শুধু নৈতিক বিপর্যয় নয়, স্ট্র্যাটেজিক বিপর্যয়ও বটে। এ যুদ্ধে ৯০ হাজারেরও বেশি লোক নিহত এবং অনধিক পাঁচ বছরের অনুরূপ সংখ্যক শিশু দুর্ভিক্ষ ও রোগ-ব্যাধিতে মারা গেছে। হুথিদের পরাজিত করা তো দূরের কথা, সৌদি আরব তাদের বিপজ্জনক শত্রুতে পরিণত করেছে। ইরানের সঙ্গে হুথিদের যে শিথিল সম্পর্ক ছিল তা ছিন্ন হওয়া তো দূরের কথা বরং সেই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

দ্বিতীয় ভ্রান্তি ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনের সরে আসা। এর বিনিময়ে ট্রাম্প প্রশাসন অবরোধের মাধ্যমে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কৌশল নিয়েছে। এতে ইরানের উগ্রবাদীদের হাত শক্তিশালী হয়েছে। তাদের চাপে ইরান আরও যুদ্ধংদেহী হয়ে উঠেছে।

সবকিছুর ওপর মধ্যপ্রাচ্যে আরেক সংঘর্ষের কালো মেঘ উঁকি দিচ্ছে। ইরানের অবস্থা হয়েছে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো। দেশটি এখন যে কোন আঘাতের জবাবে আরও জোরালো আঘাত হানতে পারে। কোন আক্রমণের মাশুল বড় আকারে দিতে হতে পারে ইরান এটা না বোঝা পর্যন্ত দেশটি আবারও শক্তি প্রয়োগে উৎসাহিত বোধ করতে পারে। তা থেকে শীঘ্র হোক বিলম্বে হোক যুদ্ধ বেধে যেতে পারে।

গত মে মাসে ইরান আরব আমিরাতের ৪টি ট্যাঙ্কারের ওপর আঘাত হানে। জুন মাসে ইরান হরমুজ প্রণালীতে আরও দুই ট্যাঙ্কার ঘায়েল করে। পরে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করে। ওই ঘটনার পর ট্রাম্প পাল্টা আঘাত হানার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি সরে আসেন। প্রেসিডেন্ট বলেছেন, আমেরিকা আঘাত হানার জন্য প্রস্তুত। তার এই হুঁশিয়ারি কি ¯্রফে কথার কথা তা ইরান পর্যবেক্ষণ করছেÑ তেমনি করছে চীন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া ও অন্যান্য দেশ।

কিন্তু ট্রাম্প ইরানকে আঘাত হানতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত কেন সরে এলেন? এর জবাবে বলতে হয় যে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় পরিষদের বেশিরভাগ সদস্য ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কোন যুদ্ধে জড়াতে রাজি নন। তা ছাড়া মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও ইরানে হামলা চালানোর মতো যৌক্তিক কোন ভিত্তি প্রেসিডেন্টকে যোগাতে পারেনি যেমনটি তারা করেছিল সাদ্দাম হোসেনের ক্ষেত্রে। সবকিছু মিলে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার মতো অনুকূল পরিবেশ পাননি।

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট

প্রকাশিত : ৯ অক্টোবর ২০১৯

০৯/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: