১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

তরুণ প্রজন্মের জন্য নিবেদিত

প্রকাশিত : ৮ অক্টোবর ২০১৯
  • নাজনীন বেগম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে গুরুত্বপূর্ণ সফরে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের বাইরে একটি অনন্য সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতার পক্ষ থেকে টেগোর শান্তি পুরস্কারে অভিষিক্ত করা হয় শেখ হাসিনাকে। প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি শাহ্ মোহাম্মদ নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠিত এক আয়োজনে এই শান্তি পুরস্কারের পদক তাঁর হাতে তুলে দেন। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, দুর্নীত, জঙ্গী ও মৌলবাদের ব্যাপারে শূন্য সহনশীলতা, দেশছাড়া, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক দায়বদ্ধতায় শেখ হাসিনাকে এভাবেই সম্মানিত করা হলো। এর আগে বিশ্বশান্তির অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব নেলসন ম্যান্ডেলা এমন কৃতিত্বের অধিকারী হয়েছিলেন।

দেশের ভাবী প্রজন্মকে আধুনিক বিশ্বে সম্প্রসারিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বহুবিধ কর্মপরিকল্পনা দেশকে অনন্য মাত্রায় উপস্থাপন করছে। সমস্যাপীড়িত পশ্চাদপদ একটি তৃতীয় বিশ্বের দেশকে আধুনিকতার নতুন বলয়ে অভিষিক্ত করতে শেখ হাসিনার সময়োপযোগী কর্মপ্রেরণা উদীয়মান নতুন প্রজন্মকে যে মাত্রায় এগিয়ে দিচ্ছে, বিশ্বসভায় তাও আজ অত্যন্ত উজ্জ্বলভাবে উদ্ভাসিত। সম্ভাবনাময় উদ্দীপ্ত তারুণ্যের জয়ধ্বনিতে বঙ্গবন্ধু কন্যা পিতার সোনার বাংলা স্বপ্নের বাস্তবায়নে যে সুদূরপ্রসারী কর্মদ্যোতনা সম্পৃক্ত করেন, তা আজ দেশের গ-িবদ্ধ সীমা ছাড়িয়ে বিশ্ব পরিসরেও জাতির ভাবমূর্তি তুলে ধরছে। তাঁর দীর্ঘমেয়াদী ও যুগান্তকারী কর্মোদ্দীপনায় সময়ের প্রজন্মকে আধুনিক কলাকৌশলে দক্ষ করা ছাড়াও যোগ্যতম বিবেচনায় দেশে-বিদেশে তাদের দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিত করাও এক বিশেষ সমৃদ্ধ আয়োজন। গত দশ বছরের নতুন বাংলাদেশ গড়ার অব্যাহত যাত্রায় সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারা বহমান করতে গিয়ে অন্য অনেক কিছুর সঙ্গে দেশের ভাবী কারিগর তরুণদের ব্যাপারেও বিশেষভাবে মনোযোগ দিতে হয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা খাতকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে অবারিত করতে একেবারে ভূমিষ্ঠ হওয়ার শুরু থেকেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিতে হয়েছে। টেকসই উন্নয়নে দক্ষ মানব সম্পদ তৈরি শেখ হাসিনার অভাবনীয় কর্মোদ্দীপনায় আধুনিক বাংলা গড়ার যে অঙ্গীকার, তাকে দৃপ্ত চেতনায় প্রতিনিয়তই শািণত করা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতার অবিস্মরণীয় কর্মদ্যোতনার বাস্তব প্রতিফলন আজ নিজ দেশ ও বহির্বিশ্বকে চমক লাগিয়ে দিচ্ছে। সাম্প্রতিককালে বিশ্বব্যাংকের দক্ষ মানব সম্পদ বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান অনেকটাই ওপরে। এমন যুগান্তকারী কর্মসাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজেও বিশ্ব সভায় সম্মানিত হচ্ছেন। রোহিঙ্গা সমস্যার মতো একটা সঙ্কটাপন্ন, বিপর্যস্ত অবস্থাকে মোকাবেলা করার জন্য মানবতার জননী উপাধি পাওয়া শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নের জন্যও বিশ্বসভায় নিজেকে যোগ্য নেতৃত্বের আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এবারে জাতিসংঘের বৈঠকে যোগদান করতে গিয়েও যোগ্যতম বিবেচনায় অনেক দুর্লভ সম্মানের অধিকারী হয়েছেন। শুরুতেই বলছিলাম তরুণ প্রজন্মের উদ্দীপকের ভূমিকায় প্রধানমন্ত্রীর নিরন্তর কর্মপ্রকল্প দেশের এই ভাবী নির্মাতাদের প্রতি তাঁর আন্তরিক মনোসংযোগ। তারই সফল অভিগামিতায় ইউনিসেফও প্রধানমন্ত্রীকে পুরস্কারে অভিষিক্ত করল। ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ’ পুরস্কারটিও এবার নিজের আয়ত্তে নিয়ে এলেন। এমন পুরস্কারের জন্য অর্জন করতে হয় তরুণদের দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে যথার্থ সফলতার নিদর্শন। যাদের জন্য এমন পুরস্কারটি পেলেন তাদেরই ক্ষুদ্র প্রজন্ম শিশুদের উৎসর্গ করলেন এই অসামান্য কৃতিত্ব। নিজ দেশের শিশুরা ছাড়াও সারা বিশ্বের ক্ষুদে প্রজন্মকে এমন মহতি অবদানটি সমর্পণ করে এই জগতজোড়া স্বীকৃতি তাদেরই প্রাপ্য বলে দৃঢ় অভিমত ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের জনগণ, যাদের মূল্যবান রায়ে তিনি দেশ ও দশের সেবা করার সুযোগ পেয়েছেন, এমন স্মরণীয় মুহূর্তে তাদের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার কথাও পুনব্যক্তি করেন। ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর প্রধানমন্ত্রীর হাতে এই পুরস্কারটি তুলে দেন।

পুরস্কার হাতে নিয়ে স্মরণ করেন বাংলাদেশের অসংখ্য শিশু-কিশোরের নতুন জীবন তৈরি করার মতো সম্ভাবনার পথ। প্রবাসী প্রতিষ্ঠিত বাঙালীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান, এক সময় যেসব বিদ্যালয়ে জ্ঞানার্জন করে তারা সফলতাকে আয়ত্তে এনেছেন, সে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নতিকল্পে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের জন্য। দেশের অসাধারণ তরুণ প্রজন্ম তাদের জীবন ও জীবিকার মানোন্নয়নে যেভাবে অক্লান্ত, পরিশ্রম ও সাধনা করে যাচ্ছে, তাদের এমন কর্মোদ্দীপনা নতুন সমাজ গঠন প্রক্রিয়ায় বিস্ময়কর অবদান রাখবে বলে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া সামাজিক বলয়ে তাদের প্রয়োজনীয় ভূমিকা দেশ ও জাতির কল্যাণে অতীতেও রেখেছে। বর্তমানের সম্প্রসারিত যুগে আরও অবদানে জাতির ভবিষ্যত হবে বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করার মতো। যার নমুনা ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হচ্ছে। একটি জ্ঞান-তপস্যার সমৃদ্ধ জগত তৈরি করে তরুণ প্রজন্মকে সাহসিক মনোবলে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে নিয়তই এগিয়ে যেতে হবে। দেশ ও জাতির জন্য চ্যালেঞ্জিং অনেক কর্মসাধনায় নিজেদের দক্ষ নাগরিক গড়ে তুলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়ার দৃঢ়চেতনায় উদ্দীপ্ত হওয়া ছাড়া আর কোন দিকে মন ও মননকে পরিচালিত করা যাবে না।

অন্য এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিশু-কিশোর ও তরুণদের মানোন্নয়নে সারা বিশ্বের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেন। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অনুষঙ্গ হিসেবে মানসিক স্বাস্থ্য ও প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রের প্রতি আবেদন জানান। বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও রাষ্ট্রের প্রতি এই মনোজাগতিক অসহায়ত্ব দূর করতে প্রয়োজনীয় কর্মসূচী প্রণয়ন করতেও বিশেষ আবেদন রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচী প্রয়োগ করে স্বাস্থ্যসেবায় যে যুগান্তকারী প্রভাব এনেছেন, ইতোমধ্যে তা বিশ্বসভার বিভিন্ন জরিপে সুস্পষ্ট হয়েছে। সব ধরনের সেবা প্রকল্পকে সর্বজনীন ব্যবস্থাপনায় অবারিত করতেও তাঁর অসাধারণ কর্মযজ্ঞের কোনো তুলনা হয় না। এমন সব বৃহৎ ও মহৎ কর্মোদ্যোগের সুফল আমরা এখন প্রত্যক্ষ করছি। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের এক বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভবিষ্যত প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় তৃতীয়। বিশ্বব্যাংক ১৫৭টি দেশের ওপর এই জরিপ চালিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। শ্রীলঙ্কার স্থান ৭৪তম এবং নেপালের স্থান ১০২। এখান থেকে সামান্য পিছিয়ে বাংলাদেশ উঠে যায় ১০৬ নম্বরে। ভারত- পাকিস্তানের অবস্থা মোটেও ভাল নয়। ভারত ১১৫ এবং পাকিস্তান ১৩৪তম স্থানে। এক দশক ধরে বর্তমান সরকার দক্ষ মানব সম্পদ উন্নয়নে যে অভাবনীয় কর্মযোগ সকলের মাঝে অবারিত করেছেন, সেখানে নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যত তৈরিতে বাংলাদেশের সফলতা ঈর্ষণীয়। উন্নয়ন দশকের নিরন্তর কর্মপ্রবাহের অবারিত গতি প্রবাহ উদীয়মান প্রজন্মকে দেশের যথার্থ নাগরিকের মর্যাদায় তৈরি হতে নিয়ামকের ভূমিকা পালন করে। আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ সূচকে উন্নয়ন সহায়ক সর্ববিধ সহযোগিতা প্রদানে বিন্দুমাত্র ঘাটতির অবকাশ থাকবে না। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রায় দক্ষ মানবশক্তি গড়ে তোলা, সেও এক অনন্য কর্মসফলতা, যেখানে দেশের ভাবী কর্ণধাররা নিজেকে প্রস্তুত করতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেতে বিপত্তির আবর্তে পড়তে হয় না। বাংলাদেশ তার সুপরিকল্পিত কর্মোদ্যোগের সুনির্দিষ্ট পথপরিক্রমায় স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা খাতকে বিশেষ বিবেচনায় এনে শিশু-কিশোরদের সামনে চলার পথকে নিরাপদ ও নিঃসংশয় করতে প্রয়োজনীয় যাবতীয় ব্যবস্থা প্রতি নিয়তই করে যাচ্ছে।

সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবাকে তার যথার্থ গন্তব্যে পৌঁছে দিতে সরকার যে যুগান্তকারী কার্যক্রম সম্প্রসারিত করেছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ে শিশুমৃত্যু হার এবং প্রাইমারি শিক্ষায় মাঝপথে ঝরে পড়াকে প্রতিরোধ করার গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে। আর এই জায়গায় বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ শক্ত এবং জোরালো। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়, বাংলাদেশে যত শিশু জন্মায় সেখানে পাঁচ বছর বয়সের পরও ৯৭% বেঁচে থাকে। শুধু বেঁচে থাকা নয়, সম্ভাবনাময় জীবন নিয়ে সামনে এগিয়ে চলার ক্ষমতাও রাখে। সদ্য ভূমিষ্ঠ এবং ৫ বছরের মধ্যে শিশুমৃত্যুর হার কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের এমন সাফল্যে সরকারের অবদান সুদূরপ্রসারী এবং শিশু ও কিশোরদের ভবিষ্যত তৈরিরও নিয়ামক শক্তি। মূল সফলতা আসে স্বাস্থ্য খাতে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে এমন সক্ষমতায় বাংলাদেশের প্রাইমারি শিক্ষার আঙ্গিনায়ও এর গুরুত্ব বিশেষ লক্ষণীয়। জরিপে উল্লেখ করা হয়, শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার হারও অনেক কমে গেছে। আমাদের দেশে ৪ বছর বয়সী শিশু তাদের শিক্ষা জীবনের যাত্রা শুরু করে। আর ১৮ বছর পার হওয়া অবধি প্রায়ই ১১ বছর এর ধারাবাহিকতা অক্ষুণœ থাকে। এটা বাংলাদেশের শিশু-কিশোরদের জীবনমান বাড়ার একটি শুভ সঙ্কেত। প্রয়োজনীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত উচ্চতা নিয়ে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের ক্ষুদে প্রজন্মের ৬৪%-এর আওতায় থাকে। মানব সম্পদ উন্নয়নে নতুন প্রজন্মের এমন ইতিবাচক প্রভাব ভবিষ্যত বাংলাদেশ তৈরির অন্যতম নিয়ামক। প্রতিবেদনে এমন সম্ভাবনাকে শুধু দেশের আশাব্যঞ্জক সাফল্যই নয়, উৎপাদনশীলতায়ও পড়বে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবÑ এই ধারণাও ব্যক্ত করা হয়।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের তরুণদের যথার্থ মানোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবিস্মরণীয় অগ্রযাত্রাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় এনে পুরস্কার প্রদানেও বিশেষ উদ্যোগী হয়। শুধু বিভিন্ন কর্ম সফলতাই নয়, তরুণ প্রজন্মের সময়ের চাহিদায় অনেক আন্দোলন আর সংস্কারের প্রতিও প্রধানমন্ত্রী সব সময় আন্তরিক। বিশ্ব স্বীকৃতি ছাড়াও দেশের অভ্যন্তরে প্রধানমন্ত্রী তাদের কত আবেদন-নিবেদন ও সংস্কারকে আমলে নিয়েছেন, তার সাক্ষী তো তরুণ প্রজন্ম নিজেই। গণজাগরণ মঞ্চ থেকে শুরু করে সড়ক পরিবহন আন্দোলনই শুধু নয়, কোটা সংস্কারের প্রতি উদীয়মান ভাবী নাগরিকদের যৌক্তিক মতামতকে গ্রহণ করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীকে কখনও ভাবতে হয়নি দ্বিতীয়বার।

লেখক : সাংবাদিক

প্রকাশিত : ৮ অক্টোবর ২০১৯

০৮/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: