১৫ নভেম্বর ২০১৯, ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

থাকার ঘর পেয়ে খুশি হাতীবান্ধার ৯৭৬টি দুঃস্থ পরিবার

প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:৪৫ পি. এম.
থাকার ঘর পেয়ে খুশি হাতীবান্ধার ৯৭৬টি দুঃস্থ পরিবার

নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট ॥ ফেলানী বেগম। ভিক্ষা করে চলে তার জীবন-জীবিকা। ৩ শতক জমি থাকলেও থাকার বসত ঘর ছিলো না। তাই সারা দিন ভিক্ষা করে রাতে অন্যের বাড়িতে ঝুপড়ি ঘরে ঘুমাতে হতো। প্রধান মন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ কর্মসুচীর আওতায় ‘জমি আছে, ঘর নাই’ প্রকল্পের মাধ্যমে ঘর পেয়ে দারুন খুশি ফেলানী বেগম। তার বাড়ি লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী গ্রামের ৯ নং ওয়ার্ডে।

ঘর পেয়ে ভিক্ষুক ফেলানী বেগম জানান, এখন শান্তিতে ঘুমাতে পারি। প্রধানমন্ত্রীকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। দোয়া করি আল্লাহ যেন তার দীর্ঘায়ু দেয়। বাবারমত মেয়েও দয়ালু হয়েছে। আমাদের মতো সহায় সম্বলহীন পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে। ঘর পেতে কাউকে কোনো টাকা পয়সা ঘুষ দিতে হয়নি। হঠাৎ একদিন সরকারি অফিসের অফিসার এসে জানান, রংপুরিয়া ভাষায় বলেন, মোর নামে নাকি প্রধানমন্ত্রী ঘর বরাদ্দ দিছে বাহে।

হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ন-২ কর্মসুচীর আওতায় “জমি আছে, ঘর নাই” প্রকল্পের অধিনে উপজেলার নদী ভাঙ্গনের শিকার, দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা, ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, বিধবা, স্বামী পরিত্যাক্ত, বয়োবৃদ্ধ কর্মহীন পরিবার ও অসহায় পরিবার গুলোকে এ কর্মসুচীর আওতায় আনা হয়েছে। এতে প্রথম পর্যায়ে হাতীবান্ধা উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নে ৯ শত ৭৬ টি পরিবারের মাঝে একটি করে আধাঁ পাঁকা ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। এতে এই প্রকল্পে খরচ হয় ৯ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা । প্রতিটি ঘর নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে এক লাখ টাকা। ঘর পেয়ে খুশি দরিদ্র সব গৃহহীন পরিবার গুলো।

হাতীবান্ধা উপজেলার দঃ গড্ডিমারী গ্রামের আব্দুস ছামাদ জানান, নদী হামার সব ভাঙ্গি নিয়ে গেইছে। ১৫ বছর থাকি পোয়ালের (খড়) চালাত আছনোং, এ্যালা ঘর পায়া হামার ভাল হইছে। আইতত (রাতে) শান্তিতে নিন্দ (ঘুম) পারবের পাং। কথা হয় ওই এলাকার ছকিনা বেগম, পার্শ্ববতী গ্রামের আজিয়া বেগমসহ অনেকের সাথে। তারাও ঘর পেয়ে অনেক অনেক খুশি। গৃহহীন পরিবার গুলো জানান, এই সরকারের আমলে অনেক কিছু সাহায্য পাইছি। এবার টাকা পয়সা ছাড়া ঘর পাইছি বাহে। আল্লাহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দীর্ঘজীবি করুক।

হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস আহম্মেদ জানান, তিস্তা নদীর ভাঙ্গনের কারণে এ উপজেলায় হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। ওই সব দুঃস্থ, নদী ভাঙ্গা ও অসহায় পরিবার গুলোর মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ প্রকল্পের মাধ্যমে ঘরের ব্যবস্থা করেন। বাস্তবায়িত ঘর গুলোর নিয়ম মোতাবেক শত ভাগ গুনগত মান রক্ষা করে ডিজাইন অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়েছে।

হাতীবান্ধা উপজেলা চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন বাচ্চু জানান, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় সব মানুষকে ঘর দেয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেনের মাধ্যমে আরো চাহিদা অনুযায়ী তালিকা প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। বরাদ্দ সাপেক্ষে বাকীদের পর্যায়ক্রমে এ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন জানান, প্রধান মন্ত্রীর আশ্রায়ন-২ কর্মসুচীর আওতায় ‘জমি আছে, ঘর নাই’ প্রকল্পের মাধ্যমে জেলায় ৩ হাজার ৯ শত ৮১ টি পরিবারকে বসত বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। এ কর্মসুচী পর্যায়ক্রমে চলবে। শেখ হাসিনার বাংলাদেশে কেউ গৃহহীন থাকবেন না।

প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:৪৫ পি. এম.

২০/০৯/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: