২৩ নভেম্বর ২০১৯, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

মসজিদের শহর ঢাকা এখন ক্যাসিনোর শহর : মঈন খান

প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:৫৩ পি. এম.
 মসজিদের শহর ঢাকা এখন  ক্যাসিনোর শহর  : মঈন খান

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মসজিদের শহর ঢাকা এখন ক্যাসিনোর শহরে পরিনত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে মঈন খান বলেন, তিনি ৩৫ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছেন। তাঁকে অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দী রাখা হয়েছে। কারণ, তিনি গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলেন। সরকার হয়তো ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে নির্বাচন, প্রশাসন ও অর্থনীতি নিজেদের নিয়ন্ত্রনে রেখেছেন। কিন্তু ক্ষমতার দম্ব দিয়ে মানুষের মন জয় করা যায় না।

রাজধানী ঢাকাকে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যের পাপের শহর হিসেবে পরিচিত লাসভেগাসের সঙ্গে তুলনা করে মঈন খান বলেন, আমরা শুনেছিলাম বাংলাদেশকে নাকি সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত দেশে পরিণত করা হবে। আমি ধন্যবাদ জানাই সরকারকে। সরকার শুধু সিঙ্গাপুর নয়, তার একধাপ উপরে ঢাকা শহরকে যুক্তরাষ্ট্রের লাসভেগাসে পরিণত করে দিয়েছে। যে লাসভেগাস জুয়ারি আর পাপিদের শহর হিসেবে পরিচিত।

ড. মঈন খান বলেন, দেশ স্বাধীন করা হয়েছিল দু’টি কারণে। প্রথমত গণতন্ত্র এবং দ্বিতীয়ত দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি। অর্থনৈতিক মুক্তির ঠেলায় আমরা লাসভেগাসে পরিণত হয়েছি। আর গণতন্ত্রের ঠেলায় আমরা একদলীয় স্বৈরশাসনে নিপতিত হয়েছি। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জোর করে দেশের গণতন্ত্র দাবিয়ে রাখতে পারেনি। আপনারাও জোর করে গণতন্ত্র ধ্বংস করতে পারবেন না। মনে রাখবেন, জোর করে দেশের মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায় না।

মঈন খান বলেন, ৪০০ বছর আগে যখন ঢাকা শহরের গোড়াপত্তন হয়েছিল তখন ঢাকার পরিচয় ছিল মসজিদের শহর হিসেবে। আজকে সেই শহর পরিণত হয়েছে ক্যাসিনোর শহরে। আজকে দেশের মানুষের নীতি-নৈতিকতা কোথায় যাচ্ছে। এই সরকার দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করেছে। মধ্যম আয়ের নমুনার ঠেলাতেই ঢাকা শহর যদি লাসভেগাসে পরিণত হয় তাহলে এই দেশ যখন উন্নত দেশে পরিণত হবে তখন ঢাকা শহর কোথায় যাবে?

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ডা. হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন নবী-খান সোহেল, প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান, ড্যাব মহাসচিব আব্দুস সালাম প্রমুখ।

দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে গর্ববোধ করতাম। কিন্তু সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চিরকুটের মাধ্যমে তাদের দলীয় ছাত্রদের ভর্তি করেছেন, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক ঘটনা। অন্যদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছাত্রলীগ নেতাদের ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা চাঁদা দিয়েছেন। দেশের ১৬ কোটি মানুষ তাদের পদত্যাগ চায়।

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আওয়ামী লীগের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব¡ দেয়ার জন্য বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রয়োজন। আমরা তার মুক্তির জন্য রাজপথে আছি। রাজপথে আন্দোলন করেই আমরা তাঁকে মুক্ত করবো। পুলিশের কাজে বাধা দেয়া হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, পুলিশের সামনে দিয়ে চোর চলে যাচ্ছে, কিন্তু তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। তাই যদি না হয়, তবে আরও একজন যুবলীগ নেতারা নাম কয়েকদিন ধরে পত্রিকায় এসেছে যে যেকোনও সময় তিনি গ্রেফতার হবেন, কিন্তু তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না।

প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:৫৩ পি. এম.

১৯/০৯/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

জাতীয়



শীর্ষ সংবাদ: